খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই: গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকেও নজর দিতে হবে। আবার খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রান্তিক দরিদ্র মানুষ।

ঢাকা: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকেও নজর দিতে হবে। আবার খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রান্তিক দরিদ্র মানুষ। এটার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। আর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করতে হবে প্রযুক্তি ও আধুনিক জাত।

বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়নে আয়োজিত এক আলোচনায় বিশিষ্টজনরা এ অভিমত দেন।

‘অতি দারিদ্র নিরসনে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাত: জাতীয় বাজেট-২০১১-১২’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে দৈনিক যুগান্তর ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক।

যুগান্তর সম্পাদক অ্যাড. সালমা ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী।

আলোচনায় অংশ নেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. শওকত মোমেন শাজাহান, কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশ, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হোসেন প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক সাইফুল আলম।

প্রধান অতিথির আলোচনায় মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময়ে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার ফলে মানুষের খাদ্যগ্রহণ ৯৪৭ গ্রাম থেকে ৯৯৯ গ্রামে পৌঁছেছে। তবে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য আমাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি হতদরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও চালিয়ে যেতে হবে।’

মতিয়ার চৌধুরী এসময় তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে সরকার আগ্রহী বলে জানান। তবে এব্যাপারে মালিকরা সহযোগিতা করছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার শ্রমিকদের তালিকা চেয়েছি। কিন্তু অদ্যাবধি তারা তা করতে পারেনি।

মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও মানুষের ক্রয় ক্ষমতা না বাড়লে তারা খাদ্য কিনতে পারবে না। যদি সব মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করতে হয় তাহলে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। আর কর্মসংস্থান হতে পারে গ্রামীণ অর্থনীতি নির্ভর।

তিনি আরও বলেন, একদিকে মানুষকে কমমূল্যে খাদ্য খাওয়াতে হবে। অপরদিকে উৎপাদক কৃষককে ন্যায্যমূল্য দিতে হবে।

এসময় তিনি চলতি বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দের শতকরা হার কমানো ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন।

মির্জা আজিজ আরও বলেন, কৃষি ঋণের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এবং ঋণ যাতে উপর্যুক্ত খাতে যায় তা খেয়াল রাখতে হবে। একই সঙ্গে এই অর্থনীতিবিদ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির যাতে অপচয় না হয় সেদিকে সরকারের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।

ইব্রাহিম খালেদ বলেন, মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নূন্যতম ৮ থেকে ১০ বছর অব্যাহত রাখতে হবে।

এসময় তিনি কৃুষি ঋণ বিতরণের বর্তমান হার নিয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের ঋণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। এটা জরুরি। কিন্তু অর্থনীতি অনুমতি দেয়না। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে সংকট। ঋণ বিতরণ কমেছে।

এম এম আকাশ বলেন, সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করতে হত দরিদ্রদের একটি জাতীয় ডাটাবেস করতে হবে। যাতে সরকার বুঝতে পারে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারে।

এম এম আকাশ কৃষি খাতে চলমান ভর্তুকি অব্যাহত রাখারও দাবি জানিয়ে বলেন, দাতাদের পরামর্শে এটা বন্ধ করা ঠিক হবে না।    

ড. মাহবুব হোসেন বলেন, আমাদের আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি উৎপাদনে যেতে হবে। স্বল্প সময়ে যাতে ধান ঘরে আসে তার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য গবেষণা বাড়াতে।  

বাংলাদেশ সময়: ২১১৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৯, ২০১১

হাসপাতালে রোগীর খাবার পৌঁছাতে এগিয়ে এলো পুলিশ
গোডাউন থেকে ২১ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার
৪০০ পরিবহন শ্রমিককে খাবার দিলেন ফারাজ করিম
সার্কভুক্ত দেশের বাণিজ্য ক্ষতি পোষাতে ৫ সুপারিশ
ইসরায়েলে করোনা আক্রান্ত বেড়ে প্রায় ১০ হাজার, মৃত্যু ৭১


করোনা প্রতিরোধে দোষারোপ নয়, একযোগে কাজ করতে জাসদের আহ্বান
বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচসেরা অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন আকবর
গৃহহীনদের অস্থায়ী আবাসনের দাবি গণসংহতি আন্দোলনের
করোনায় আক্রান্ত মার্কিন রণতরী থিওডোর রুজভেল্টের ২৮৬ নাবিক
নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে সরকারকে ফখরুলের চিঠি