অনশনে রাত পার করল বিনিয়োগকারীরা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

রাস্তার একদিকে আন্দোলন, অন্যদিকে ছুটছে যানবাহন। ধ্বংসাত্মক কোনো কার্যক্রমই তাদের নেই। অত্যন্ত সংযমের মাধ্যমে আন্দোলন করছেন সর্বস্ব হারানো শেয়ারবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

ঢাকা: রাস্তার একদিকে আন্দোলন, অন্যদিকে ছুটছে যানবাহন। ধ্বংসাত্মক কোনো কার্যক্রমই তাদের নেই। অত্যন্ত সংযমের মাধ্যমে আন্দোলন করছেন সর্বস্ব হারানো শেয়ারবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

রোববার সকালে আমরণ অনশনে যাওয়া এসব বিনিয়োগকারীদের এদিন রাতভর আন্দোলনে যেন একটুও ক্লান্তির ছাপ নেই! ‘লাভ নয়, মূলধন ফেরতে’র আন্দোলনে বদ্ধপরিকর তারা।

কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানার কিংবা কোনো প্রভাবশালীর দাপটে নয়, নিজেদের দাবি নিজেরাই আদায়ের চেষ্টা করছেন এ ক্ষুদে বিনিয়োগকারীরা। না-খেয়ে, না-ঘুমিয়ে, রাস্তায় প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে দাবিদাওয়ার কথা তুলে ধরছেন সরকারের কাছে।

গান গেয়ে, কবিতা পাঠ করে, কখনও বা কৌতুক বলে বিনিয়োগকারীরা একে অপরের মনোবল দৃঢ় ও চাঙা রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন। রোববার দিবাগত মধ্যরাতে ডিএসই প্রাঙ্গন ঘুরে এসব চিত্র চোখে পড়ে।

তাদের দাবি, কোনো মন্ত্রী বা ব্যবসায়ীদের কাছে নয়, শেয়ারবাজারে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের কামনায় তারা আন্দোলন করে যাচ্ছেন।

কথা হয়, কয়েকজন সাধারণ বিনিয়োগকারীর সঙ্গে। তাদের একজন আমিনুল ইসলাম। শেয়ার ব্যবসাই যার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘স্বপ্ন ছিল সৎভাবে ব্যবসা করে টাকা আয় করে বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাবো। তাই, কিছু টাকা পরিবারের কাছ থেকে, আর কিছু বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু, আজ আমার আর কিছুই নেই। পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন কারো কাছেই যেন মুখ দেখানোর উপায় নেই।’

তিনি আরও জানান, সব মিলিয়ে মোট ১৩ লাখ টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। আরও ১০ লাখ টাকা লোন নিয়েছেন মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে। তার কাছে এখন আছে মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা। কথাগুলো বলতে বলতে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘সব শেষ হয়ে গেছে!’

অন্য একজন বিনিয়োগকারী ফয়সাল আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাবার পেনশনের টাকা এনে বিনিয়োগ করেছি শেয়ার বাজারে। আজ বাবাকে ওষুধ কিনে দেওয়ার টাকাটাও দিতে পারিনি।’

তিনি জানান, রোববার দুপুর ১২টা থেকে আন্দোলনে শরীক হন তিনি। সারাদিন পানি আর একটি স্যালাইন ছাড়া কিছুই পেটে পড়েনি তার।

রাস্তায় জীবন দেবেন তাও দাবি আদায় ছাড়া বাসায় ফিরবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এখন বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীদের দাবি, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পদত্যাগ।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা সর্বস্ব হারাচ্ছি। কিন্তু, কেউ আমাদের সান্ত¡নার বাণী পর্যন্ত শোনাচ্ছেন না। উল্টো ধিক্কার দিয়ে বলছেন, আমাদের নাকি চাওয়ার শেষ নেই। শেয়ার মার্কেট নাকি আমাদের অনেক দিয়েছে। শেয়ার মার্কেট দিলে দিয়েছে সালমান এফ রহমান, লোটাস কামালকে।’

এদিকে, শান্ত পরিবেশে এ আন্দোলনের চারপাশে পুলিশের নজরদারি লক্ষ করা গেছে। তবে আন্দোলনকারীদের দমানো বা বাধা দেওয়ার কোনো লক্ষণই তাদের মধ্যে দেখা যায়নি।

আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণের কোনো পদক্ষেপ আছে কি না জানতে চাইলে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কাছেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘এভাবে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করলে আমরা তাদের বাধা দেবো না। তবে, যদি তারা ভাঙচুর করেন, তখন পুলিশ পদক্ষেপ নেবে।’ র‌্যাবকেও টহল দিতেও দেখা যায়।

বাংলাদেশ সময়: ০৮৪৬ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৭, ২০১১

ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা-মশক নিধনকর্মীদের গ্লাভস-জুতা বিতরণ
সিলেটে রাস্তায় পড়ে থাকা বিদেশি নাগরিক আইসোলেশনে
বশেফমুবিপ্রবিতে প্রস্তুত হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ 
নওগাঁয় মেয়েকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
করোনা আতঙ্কে কষ্টে দিন কাটছে ছিন্নমূল মানুষের


ট্রাকে যাত্রী বহন করায় ১১ চালককে জরিমানা
করোনা: ডেমরায় পুলিশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
হাসপাতালে রাধিকা আপ্তে!
সাবেক ক্রিকেটার দুর্জয়ের পিপিই-মাস্ক-হ্যান্ডগ্লাভস বিতরণ
‌পোশাক খাতের শীর্ষ দুই সংগঠনকে ধন্যবাদ দিল ইউএফজিডব্লিউ