সপ্তাহজুড়ে দরপতন, ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৯৭৩ কোটি টাকা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া ৪ কার্যদিবসের মধ্যে ৩ কার্যদিবসেই দেশের দুই পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। সরকারি ছুটি থাকায় সোমবার পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়নি। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন কমেছে ৯৭৩ কোটি টাকা।

ঢাকা: গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া ৪ কার্যদিবসের মধ্যে ৩ কার্যদিবসেই দেশের দুই পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। সরকারি ছুটি থাকায় সোমবার পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়নি। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন কমেছে ৯৭৩ কোটি টাকা।

সপ্তাহের প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ কার্যদিবস যথাক্রমে রোববার, মঙ্গলবার ও বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) টানা দরপতন হয়। এর মধ্যে বুধবার দরপতনের প্রতিবাদে ডিএসইর সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিনিয়োগকারীরা। বিক্ষোভের পরদিন বৃহস্পতিবার চাঙা হয় বাজার।

এর আগে গত ২, ৪ ও ৭ আগস্ট দরপতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন বিনিয়োগকারীরা।

চলতিমাসের শুরু থেকেই পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। গত ৬ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিনিয়োগকারীদের জুয়াড়ি আখ্য দিয়ে মন্তব্য করার পর থেকেই বাজারে দরপতন শুরু হয়। এরপর পুঁজিবাজর ধসে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা করার খবরে আরো অস্থির হয়ে পড়ে বাজার।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে ২২৩টি প্রতিষ্ঠানের দাম ও সাধারণ সূচক কমেছে ৯৪.৮৪ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের দাম ও সূচক কমেছিল ৪৭.০৪ পয়েন্ট। অর্থাৎ গত দুই সপ্তাহে ডিএসইর সাধারণ সূচক কমেছে ১৪১.৮৮ পয়েন্ট।

অন্যদিকে গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ১৬৪টি প্রতিষ্ঠানের দাম ও সাধারণ সূচক কমেছে ১৩১ পয়েন্ট বা ১.১৮০৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে ৭৭টি প্রতিষ্ঠানের দাম ও সূচক কমেছে ২০৮.১১ পয়েন্ট বা ১.৮২৯২  শতাংশ।  
একই সঙ্গে উভয় বাজারের লেনদেন কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ২৭০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬৫টির লেনদেন হয়। লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৪টির ও কমেছে ২২৩টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৮টি প্রতিষ্ঠানের দাম। বাকি ৫টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়নি।

পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইর সাধারণ সূচক নেমে যায় ৬ হাজার ১১৮.০২ পয়েন্টে যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ১.৫৩ শতাংশ কম। সার্বিক সূচক ১.৪৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ১১৬.৬৭ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে মোট ১ হাজার ৫৬৬ কোটি ৮৯ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯৮ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৫৪০ কোটি ৪৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৩৩ টাকা।

গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় ২ লাখ ৯০ হাজার ৭০৬ কোটি ৫৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯০৮ টাকায় যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ১.২৭ শতাংশ কম।

দাম বাড়ার দিক দিয়ে ডিএসইর সাপ্তাহিক শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠান ছিল- আইসিবি এএমসিএল ইসলামিক মি.ফা., দেশ গার্মেন্টস, আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট এনআরবি মি.ফা., ডিবিএইচ ফার্স্ট মি.ফা., গ্রামীণ মিউচ্যুয়াল ওয়ান, সমরিতা হসপিটাল, তিতাস গ্যাস, রেনেটা লিমিটেড, বিএটিবিসি ও আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় মি,ফা.।

দাম কমার শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠান ছিল- আইএলএফএসএল, স্কয়ার ফার্মা, ফিনিক্স ফিন্যান্স ফার্স্ট মি.ফা., পঞ্চম আইসিবি মি.ফ., অষ্টম আইসিবি মি.ফ., মবিল যমুনা, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, নর্দান জুট, ষষ্ঠ আইসিবি মি.ফ. ও আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট মি.ফা.।

এছাড়া লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) সাপ্তাহিক শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠান ছিল- ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বেক্সিমকো, স্কয়ার ফার্মা, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, এমআই সিমেন্ট, মালেক স্পিনিং, গ্রামীণফোন, কেয়া কসমেটিক্স, সিটি ব্যাংক ও ফু-ওয়াং ফুড।

অপরদিকে সিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম  বেড়েছে ৩৫টির, কমেছে ১৬৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১২টি প্রতিষ্ঠানের দাম।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইর সাধারণ সূচক ১.১৮০৫ শতাংশ কমে স্থির হয় ১১ হাজার ১৮১.১৬৫৭ পয়েন্টে। সার্বিক সূচক ১.১৬২০ শতাংশ কমে নেমে যায় ১৭ হাজার ৪৪২.৪৬২৫ পয়েন্টে।

গত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হয় মোট ১৯৫ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৩১৭ কোটি ২৪ লাখ ৪২ হাজার ৪৪৩ টাকা।

গত সপ্তাহে সিএসইর দাম বৃদ্ধির শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠান ছিল- সাউথইস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মি.ফা., এপেক্স ফুডস, ডিবিএইচ ফার্স্ট মি.ফা., গ্রামীণ মি.ফা. ওয়ান, রংপুর ফাউন্ড্রি, কে অ্যান্ড কিউ, আইসিবি এএমসিএল ইসলামিক মি.ফা., ইবনে সিনা, গ্রামীণ মি.ফা. স্কিম ওয়ান, ন্যাশনাল পলিমার।

সাপ্তাহিক দাম কমার শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠান ছিল- স্কয়ার ফার্মা, ষষ্ঠ আইসিবি মি.ফা., মবিল যমুনা, বিএসসি, সমতা লেদার, ফিনিক্স ফিন্যান্স ফার্স্ট মি.ফা., সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, অষ্টম আইসিবি মি.ফা., বাটা সু ও অ্যারামিট সিমেন্ট।

ওদিকে লেনদেনের ভিত্তিতে সিএসইর সাপ্তাহিক শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠান ছিল- ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বেক্সিমকো, বেক্সিমকো ফার্মা, এইএমস ফার্স্ট গ্রান্টেড মি.ফা., ইউনাইটেড কমার্শিল ব্যাংক, গ্রামীণফোন, মবিল যমুনা, আফতাব অটোমোবাইলস, স্কয়ার ফার্মা ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট।

বাংলাদেশ সময়: ১১৫৭ ঘণ্টা, আগস্ট ১৯, ২০১১

রবীন্দ্র সরোবর যেন সবুজের গালিচা
ফলন ভালো হলেও বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাহাড়ের কৃষক
করোনায় মারা গেলেন প্রথম কোনো ফুটবলার
শ্বাসকষ্ট নিয়ে চবি শিক্ষকের মৃত্যু
প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে ‘করোনামুক্ত’ মন্টেনিগ্রো


উল্লাপাড়ায় ঘুড়ি কেনাবেচা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত এক
ইডিইউতে হারমনি অব আর্টস আজ ও কাল
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস রোববার
খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা রোগীর মৃত্যু
ছোটপর্দায় আজকের খেলা