বাজারে আবারও চিনির সংকট

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

রোজার শুরুতে সরকার বাজার তদারকির মাধ্যমে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করলেও রোজার মাঝামাঝি এসে আবারও বাজারে চিনি সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে দামেও শুরু হয়েছে অস্থিরতা।

ঢাকা: রোজার শুরুতে সরকার বাজার তদারকির মাধ্যমে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করলেও রোজার মাঝামাঝি এসে আবারও বাজারে চিনি সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে দামেও শুরু হয়েছে অস্থিরতা।

সরকার প্রতি কেজি চিনির দাম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করলেও খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।

১২ আগস্ট থেকে টিসিবি খোলা বাজারে চিনি বিক্রি বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়টিই বাজারে সংকট সৃষ্টির একটি কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তবে পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবই চিনির বাজারে এ অস্থিরতার কারণ বলে উল্লেখ করছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাজার, কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে- বেশিরভাগ দোকানেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি। এছাড়া অনেক খুচরা দোকানে চিনির দেখা মেলেনি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার ভয়ে চিনি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন অনেক খুচরা ব্যবসায়ী।

মোহাম্মদপুর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী লস্কর ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল কুদ্দুস (৩২) বাংলানিউজকে বলেন, ‘গতকাল রাতে চিনি কিনতে হয়েছে প্রতি কেজি ৬৮ টাকা দরে। এখন আমি কি সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করে লোকসান দেবো?’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি বস্তায় লাভ করবো ১০০ টাকা, কিন্তু মোবাইল কোর্ট এসে জরিমানা করবে ২০-৫০ হাজার টাকা। তার চেয়ে চিনি বিক্রি না করাই ভালো।’

এছাড়া গতকাল মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে চিনি কিনতে গিয়ে পাননি বলে জানান তিনি।

গ্রিন রোডের আশা বাজারের কর্মচারীরও একই বক্তব্য। তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি চিনি কিনতে ব্যয় হয়েছে ৬৭ টাকা। এখন ৭০ টাকায় বিক্রি না করলে, আমি যে গাড়িভাড়া, মজুরি দিয়েছি তা উঠে আসবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাস্টমারের চাহিদার কথা চিন্তা করে বেশি দামে কিনতে চাইলেও পাইনি। মাত্র এক বস্তা চিনি পেয়েছি।’ বাজারে চিনিই নেই বলে উল্লেখ করলেন তিনি।

বেশিরভাগ খুচরা ব্যবসায়ীর অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার মোবাইল কোর্ট দিয়ে আমাদের হয়রানি ও জরিমানা করে।’

তাদের প্রশ্ন, ‘সরকার যদি সঠিক দামে দিতে না পারে তবে আমরা কিভাবে সঠিক দামে বিক্রি করবো? দিতেই যদি না পারে তবে আমাদের জরিমানাই বা করবে কেন?’

যতদিন সঠিক দামে চিনি সরবরাহ করেছে ততদিন সব খুচরা ব্যবসায়ীই সরকার নির্ধারিত দাম প্রতি কেজি ৬৫ টাকা দরে চিনি বিক্রি করেছে বলে তাদের দাবি।

চিনির বাজারে অস্থিরতার কারণ জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের চিনির আড়তদার মুক্তার ট্রেডার্সের মালিক সর্পরাজ (৪৮) বাংলানিউজকে বলেন, ‘সরকারের তদারকিতে কয়েকদিন চিনির সরবরাহ ভালো থাকলেও, এখন পর্যাপ্ত সরবরাহ দিচ্ছে না মিল মালিকরা।’

আর পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে দাম বাড়াই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করলেন তিনি।

এছাড়া রোজায় আর দাম না কমার সম্ভাবনার কথা জানালেন তিনি।

হঠাৎ চিনির বাজার অস্থির হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠান- ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং চিনি ও খাদ্য করপোরেশন (বিএসএফআইসি) খোলা বাজারে ঢাকার ১৩টি পয়েন্টে চিনি বিক্রি করছিল।

টিসিবি প্রতি কেজি চিনি ৬২ টাকা দরে ও বিএসএফআইসি প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি করছিল।

বিএসএফআইসি খোলা বাজারে তিনটি পয়েন্টের চিনি বিক্রি কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালিত হলেও গত ১২ আগস্ট থেকে টিসিবি খোলা বাজারে চিনি বিক্রি বন্ধ করে দেয়। এটিই বাজারে সংকট সৃষ্টির একটি কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, টিসিবি প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ১০টি ট্রাকের মাধ্যমে চিনি বিক্রি করতো। প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাকে গড়ে আড়াই থেকে তিন টন চিনি বিক্রি করতে পারতো বলে জানায় সূত্র। সে হিসাবে ১০টি ট্রাকে দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ টন চিনি বিক্রির ক্ষমতা ছিল টিসিবির।

টিসিবি খোলা বাজারে চিনি বিক্রি বন্ধের কারণ জানতে চাইলে টিসিবির তথ্য অফিসার হুমায়ূন কবির বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজার পরিদর্শন করে দেখলো, বাজারে চিনির সংকট কেটে গেছে। তাই তারা খোলা বাজারে চিনি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।’

খোলা বাজারে রমজানে আর চিনি বিক্রি করা হবে কিনা সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাজার যদি অস্থির হয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যদি মনে করে খোলা বাজারে চিনি বিক্রি দরকার, তবে আবার বিক্রি করবো।’

বাণিজ্যমন্ত্রণালয় যে আদেশ দেয় আমরা তাই করতে বাধ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চিনির বাজার অস্থিরতার কারণ জানতে চাইলে চিনি ও খাদ্য করপোরেশনের যুগ্ম-সচিব মো. মুনসুর আলী সিকদার বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন তিনটি ট্রাকে গড়ে ৮ থেকে ১০ টন চিনি বিক্রি করছি। আমাদের কার্যক্রম সঠিকভাবে চালিয়ে যাচ্ছি। ঈদের আগ পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।’

তবে কি জন্য বাজার অস্থির হয়েছে তা তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

বাজার অস্থিরতার কারণ সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাজার বিশ্লেষক বলেন, ‘বাজারে যখন স্থিতিশীলতা ফিরে আসছিল এমন সময় খোলা বাজারে চিনি বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া টিসিবির উচিৎ হয়নি।’

টিসিবির কার্যক্রম বাজারে যথেষ্ট প্রভাব পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৮২০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৭, ২০১১

শেবামেকে করোনা ল্যাব, বুধবার শুরু হচ্ছে প্রশিক্ষণ-টেস্ট 
যাত্রাবাড়ীতে কর্মহীন মানুষের মধ্যে যুবলীগের ত্রাণ বিতরণ
করোনা মোকাবিলায় অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখতে হবে
চলে গেলেন রিয়াল, বার্সা, অ্যাতলেটিকোর সাবেক কোচ অ্যান্টিচ
করোনা: বরিশাল জেলায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা


সাজেকে ‘হাম-রবেলা’ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু
ত্রিপুরায় করোনায় আক্রান্ত একজন শনাক্ত
বিনিয়োগ বাড়লেও ইপিজেডে কমেছে জনবল
করোনা: লালমনিরহাটে বেগুনের কেজি ২ টাকা!
হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়ায় রাস্তায় ইজিবাইকে জন্ম নিলো শিশু