আধুনিকায়নে পিছিয়ে পড়ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

সরকারের মুখে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান থাকলেও আধুনিকায়ন থেকে পিছিয়ে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। এসব ব্যাংকে এখনও গ্রাহকদের প্রাচীন আমলের সেবা দেওয়া হচ্ছে। যুগোপযোগী সেবা দেওয়াসহ মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হিমশিম খাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী এবং রূপালী ব্যাংক।

ঢাকা: সরকারের মুখে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান থাকলেও আধুনিকায়ন থেকে পিছিয়ে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। এসব ব্যাংকে এখনও গ্রাহকদের প্রাচীন আমলের সেবা দেওয়া হচ্ছে। যুগোপযোগী সেবা দেওয়াসহ মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হিমশিম খাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী এবং রূপালী ব্যাংক।

যদিও এসব ব্যাংকগুলোর আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তবে কাজের কত দূর অগ্রগতি হবে এ নিয়েও সন্দিহান ভুক্তভোগীরা।

সরকারি মালিকাধীন এ চারটি ব্যাংকের হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি ব্রাঞ্চে অনলাইন সুবিধা আছে। ফলে গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এক ব্রাঞ্চে টাকা জমা দিয়ে তাদের সুবিধা অনুযায়ী অন্য ব্রাঞ্চ থেকে তুলতে পারছেন না।

একই সঙ্গে এসব ব্যাংকের অনেক শাখায় কম্পিউটার নেই। নেই গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। তারপরও প্রয়োজনের তাগিদে গ্রাহকরা রাষ্ট্রায়ত্ত এসব ব্যাংকে ভিড় জমান।

স্বাধীনতার পর উত্তরা ব্যাংক ছাড়া প্রায় সকল ব্যাংকই রাষ্ট্রের অধীনে চলে আসে। তবে এসব ব্যাংকের শুরুর দিকে তেমন কোনও আধুনায়কনের ব্যবস্থা ছিল না। লেজার (খাতায়) হিসেব নিকাশ করা হতো।

যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশে কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু হলে ব্যাংকগুলোও এর অধীনে চলে আসতে শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, রূপালী এবং আগ্রণী ব্যাংকের কোনওটিরই সকল শাখায় কম্পিউটার পদ্ধতিতে সেবা দেওয়া হচ্ছে না।

একই সঙ্গে নেই অনলাইন সেবার কার্যক্রমও। এসব ব্যাংকে ডিজিটাল সেবা না থাকার কারণে গ্রাহক এবং জামানতকারীরা আধুনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এখনও প্রাচীন আমলের সেবায় চলছে চার ব্যাংকের একাধিক ব্রাঞ্চ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, দেশে সোনালী ব্যাংকের মোট ১ হাজার ১৮৬টি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে শহরে ৩৮৩ টি এবং গ্রাম পর্যায়ে ৮০৩টি। এর মধ্যে অর্ধেক ব্রাঞ্চে কম্পিউটার পদ্ধতিতে গ্রাহকদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। বাকিগুলোতে লেজার ব্যবহার করা হয়।

জনতা ব্যাংকের ব্রাঞ্চ রয়েছে ৮৪৫টি। এর মধ্যে শহরে ৩২৬টি ও গ্রাম পর্যায়ে ৫১৯টি। এসব শাখার ২০০টিতে কমিউটার রয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংকের মোট শাখা রয়েছে ৮৬৭টি। শহরে ২৯৮টি ও লোকাল পর্যায়ে ৫৬৯টি। এসব শাখায় আধুনকি সেবা প্রদানের তেমন ব্যবস্থা নেই।

এছাড়া রূপালী ব্যাংকের শহর ও গ্রাম মিলিয়ে মোট ৪৯১টি ব্রাঞ্চ রয়েছে। এসব শাখার মধ্যে ১৪৫টিতে কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে সেবা দেওয়া হচ্ছে। বাকি শাখাগুলো আধুনকি সেবা থেকে বঞ্চিত।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, সরকারের নির্বাচনী ইস্তেহারে সর্বক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু করার কথা থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে এখনও তা চালু করা হচ্ছে না।

এতে একদিকে যেমন গ্রাকহরা আধুনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার ব্যাংক থেকে অধিক মুনাফা হারাচ্ছে।

একই সঙ্গে বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে পড়ছে সরকারি ব্যাংক।

গ্রাহকরা মনে করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের যে জনপ্রিয়তা রয়েছে, সে হারে সেবার মান নিশ্চিত করতে পারলে গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সরকারও ব্যাপক অর্থ পেত। সেইসঙ্গে গ্রাহকরাও সুবিধা ভোগ করতে পারতো।

সোনালী, জনতা, রূপালী এবং আগ্রণী ব্যাংকের নিম্নমানের সেবার কথা উল্লেখ করেছেন এসব ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব কথা বলেন।

তবে সেবার দিক থেকে কিছুটা সমস্যা হলেও এসব ব্যাংক দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ব্যাপারে পদক্ষেপ রাখছে এমন কথাও বলেন তারা, যা বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো রাখছে না। শুধু লাভের জন্যই বেসরকারি ব্যাংক ব্যবসা করে থাকে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতাও অনেক কম।

সেবার মানের কথা উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে যারা কাজ করেন তাদের অনেকেই পুরনো ও সেকেলে মানসিকতার। নতুন করে তেমন লোকবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া বেতন কাঠামোও প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর চেয়ে অনেক কম। ফলে সরকারি ব্যাংকগুলোতে যাও দুয়েক জন মেধাবী লোক রয়েছে, তারাও প্রাইভেট ব্যাংকে চলে যাচ্ছেন। এতে সেবার মানের ক্ষেত্রে কিছুটা ঢিলেমী দেখা দিয়েছে।

রূপালী ব্যাংকের অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে এ ব্যাংকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সালের মে মাস পর্যন্ত এ ব্যাংকের নতুন লেনদেন বন্ধ ছিল। একই সঙ্গে উন্নয়নও হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আগে সেবার মান ভালো ছিলো। তবে বর্তমানে এ ব্যাংকের সেবার মান ভালো করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

১৪৫টি ব্রাঞ্চে কম্পিউটারাইজড পদ্ধতি চালু রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দু’টি ব্রাঞ্চে অনলাইন ব্যাঙ্কিং চালু আছে। এর পাশাপাশি ১০টি ব্রাঞ্চে অনলাইন কার্যক্রম চালু করার জন্য কাজ চলছে।‘
বাংলাদেশ ব্যাংকের

রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবির বাংলানিউজকে বলেন, ২০০৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকগুলোর আধুনিকায়নে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর ফলে আগের তুলনায় এখন গ্রহকেরা এখন বেশি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। তবে পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনতে আরেকটু সময় লাগবে।

তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে রূপালী ব্যাংকের সকল শাখা আধুনিকায়ন করা হবে। একেবারে মফস্বলের শাখাগুলোতে খুব শিগগিরই কম্পিউটারের আওতায় আনা হবে। রূপালী ব্যাংকের গ্রাহকরা আগের তুলনায় বেশি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে।

প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের জিএম কয়েস সামি বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমাদের ব্যাংক কেবল শুরু মাত্র। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি এই ব্যাংককে একটি আধুনিক ব্যাংক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে।’

 ‘আমাদের দায়িত্ব এমনভাবে পালন করছি যেন আগামীতে গ্রাহকরা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারেন।’, বলেন সামি।


বাংলাদেশ সময়: ১৫৪১ ঘণ্টা, আগস্ট ১৭, ২০১১

করোনা: বরিশাল জেলায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
সাজেকে ‘হাম-রবেলা’ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু
ত্রিপুরায় করোনায় আক্রান্ত একজন শনাক্ত
বিনিয়োগ বাড়লেও ইপিজেডে কমেছে জনবল
করোনা: লালমনিরহাটে বেগুনের কেজি ২ টাকা!


হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়ায় রাস্তায় ইজিবাইকে জন্ম নিলো শিশু
‘করোনা’ গুজব ঠেকাতে ফেসবুকের সমন্বিত উদ্যোগ
নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ ঘোষণা
উজিরপুরে ৫ বাড়ি লকডাউন
করোনা: ফ্রান্সে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা