তীব্র হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট তীব্র হচ্ছে। কমছে লেনদেনের পরিমাণ। সেই সঙ্গে কমছে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ। পাশাপাশি শেয়ার বাজার নিয়ে সরকারি নীতিনির্ধারকদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্ত আরও বেশি সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট তীব্র হচ্ছে। কমছে লেনদেনের পরিমাণ। সেই সঙ্গে কমছে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ। পাশাপাশি শেয়ার বাজার নিয়ে সরকারি নীতিনির্ধারকদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্ত আরও বেশি সৃষ্টি হয়েছে।

সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাজারে মামলা নিয়ে গুঞ্জন। ফলে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বাজারকে স্থিতিশীলতার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও ইতিবাচক কোনো ফল আসছে না।

গত ডিসেম্বর থেকে টানা সাড়ে ছয় মাসের বিপর্যয়ের রেশ কাটার আগেই নতুন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আবারও পতনের ধারায় ফিরেছে শেয়ারবাজার।

বাজারে কারসাজি অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ, সরকারের দিক থেকে সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা এবং ৫ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ড গঠনের পর বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল হচ্ছে না বাজার। বরং তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির দর কমতে কমতে নতুন করে নিঃস্ব হতে চলেছেন লাখ লাখ বিনিয়োগকারী।

ফলে দেশের শেয়ারবাজারে চাহিদার বিপরীতে ভালো শেয়ারের সংকট রয়েই গেছে। বড় বিপর্যয়ের পর কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তার কারণে লেনদেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বাড়ছে অতি মূল্যায়িত হওয়ার ঝুঁকি।

শেয়ারবাজারকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে হলে চাহিদা অনুযায়ী শেয়ার সরবরাহের দিকে মনোযোগ দেওয়া সবচেয়ে জরুরী। পাশাপাশি শেয়ার কেনা-বেচায় বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেয়ারবাজার কিছুটা চাঙ্গা হলেই একের পর এক গুজব ছড়ানো শুরু হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। গত দু’তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো বিষয়ে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বরাবরের মতো এবারও ভিত্তিহীন গুজবের মাত্রা বেশি। এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা স্টক এক্সচেঞ্জ গুলো।

এদিকে পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। গত ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজারে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একেক সময়ে একেক ধরনের কথা বলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিক্ষোভকারী বিনিয়োগকারীদের ‘ফটকাবাজ’ বলে পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করেন।

জুলাই মাসের অধিকাংশ দিন উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধির পর শেয়ারবাজারে মূল্য সংশোধন অনেকটা প্রত্যাশিত ছিল। ফলে ২৫ জুলাই থেকে সূচকের সংশোধন শুরু হলে বিনিয়োগকারীরা একে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন। কিন্তু তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

এতে শেয়ারের মূল্য সংশোধনের মাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়। এরমধ্যে কারসাজির দায়ে অভিযুক্ত কিছু বিনিয়োগকারীর বিরুদ্ধে এসইসির মামলার প্রন্তুতির খবর ছড়িয়ে পড়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর অভিযুক্তদের পাশাপাশি কিছু কিছু বড় বিনিয়োগকারী নিষক্রিয় হয়ে পড়েন। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রির দিকে ঝুঁকে পড়লে বাজারে দরপতন ত্বরান্বিত হয়।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ কারসাজির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের জন্য একাধিক জুয়াড়িচক্র দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে সক্রিয় রয়েছে। এদের প্রতিনিধিরা ব্রোকারেজ হাউস ঘুরে গুজব ছড়ায়। এতে আকৃষ্ট হয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট ওই কোম্পানির শেয়ার কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

এতে শেয়ারটির দর বেড়ে গেলে জুয়াড়িরা তাদের হাতে থাকা শেয়ারগুলো বিক্রি করে দেয়। তারপরই ওই শেয়ারের দর টানা কমতে থাকে। ফলে শেষ পর্যন্ত লোকসান দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের হাতের শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। এভাবে গুজবের ভিত্তিতে শেয়ার লেনদেন করায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা না হলে গুজব বা হুজুগের ওপর ভিত্তি করে লেনদেনের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

ডিএসই থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের ৩০ জুন তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানির শেয়ারের গড় পিই অনুপাত ছিল ১৮ দশমিক ৪৪। সে সময় বাজার মূলধন ছিল ১ লাখ ২৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। ২০১০ সালের জুনে পিই অনুপাত বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৮।

ওই সময় বাজার মূলধন দাঁড়ায় ২ লাখ ৭০ হাজার ৭৪ কোটি টাকায়। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ডিএসইর গড় পিই অনুপাত ছিল ২৯ দশমিক ১৬। ওইদিন বাজার মূলধনের পরিমান ছিল ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ডিএসইর বাজার মূলধন ৩ লাখ ৪ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকায় উন্নীত হলেও গড় পিই অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৮।

৩১ ডিসেম্বরের অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ওইদিন ২৯ দশমিক ১৬ পিই অনুপাতের বিপরীতে ডিএসই সাধারণ সূচক ছিল ৮ হাজার ২৯০ দশমিক ৪১। সেই হিসাবে বর্তমান পিই অনুপাত (১৭ দশমিক ৮০) অনুযায়ী ওই সূচক ৫ হাজার ৬০ পয়েন্ট হওয়ার কথা।

বর্তমানে ডিএসই সাধারণ সূচক ৬ হাজার ৫৭৮ দশমিক ২৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। নতুন শেয়ার যুক্ত হয়ে বাজারের ইস্যু মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচকে এ অতিরিক্ত ১ হাজার ৫১৮ পয়েন্ট যোগ হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৯ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০১১

মশা নিধনে বিশেষ অভিযানের উদ্বোধন করলেন মেয়র নাছির
মাজেদকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি নাসিমের
চট্টগ্রামের ৮ হাসপাতালে পিপিই দিল বিএসআরএম
সরবরাহ ঠিক রাখতে মৌলভীবাজারে রেণু পোনা উৎপাদন অব্যাহত
আউশের উৎপাদন বাড়াতে প্রণোদনা পাবেন এক লাখ কৃষক


বন্দরে সাইফ পাওয়ারটেকের অস্থায়ী শ্রমিকদের ত্রাণ বিতরণ
না’গঞ্জে ডিসি সুস্থ, করোনা আক্রান্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের সময় বাড়লো এক মাস
চাহিদা থাকলে ট্রেনে পরিবহন করা যাবে সবজি
বিদেশ থেকে গুজব ছড়ালে ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী