বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধনের জন্য ১৮টি প্রস্তাব

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধনের জন্য ১৮টি প্রস্তাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিয়েছেন স্টকহোল্ডারগণ।

ঢাকা: প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধনের জন্য ১৮টি প্রস্তাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিয়েছেন স্টকহোল্ডারগণ।

এর মধ্যে রয়েছে বিডিং প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য ২০ ধরনের বিডার, যা আগে ছিলো ৯ ধরনের বিডার। নতুন কোম্পানির প্রসপেক্টাস যাচাই-বাছাই করার জন্য একটি কমিটি, বিডিং প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ায় ইনস্টিটিউট ইনভেস্টরদের প্রাপ্য (ইলজিবল) শেয়ারে লকইন ১৫ দিনের পরিবর্তে ৬ মাস, নতুন কোম্পানির রোড শোতে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করণ, ইস্যু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিডিংয়ে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ, বিডিং প্রাইস আগের ৩দিনের পরিবর্তে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়।

বৃহস্পতিবার এসইসি’র সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধনের জন্য মতামত  সভায় স্টকহোল্ডারা এসব প্রস্তাব দেন।

আগামী সপ্তাহে মতামত পর্যালোচনা শেষে সাধারণ পাবলিকের মতামত নিয়ে বুক বিল্ডিং চুড়ান্ত করা হবে বলে এসইসির মুখপাত্রের দায়িত্বপাপ্ত নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এসইসি তাদের মতামত গ্রহণ করেছে। পাবলিক মতামতের পরই এটি চুড়ান্ত রুপরেখা পাবে।

সভায় থেকে জানা যায়, স্টকহোল্ডারা এসইসি’র কাছে ১৮টি প্রস্তাব দেন। তারা এসইসিকে বলেন, রোড শোর ৫ দিন পূর্বে ইনডিকেটিভ প্রাইস ছাড়া ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠানের প্রসপেক্টাস দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, ইন্সুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন, অ্যাসেট ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশন, ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, লিজিং অ্যাসোসিয়েশনকে দিতে হবে। রোড শোতে অবজারভার হিসেবে দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে রাখতে হবে।

ইস্যুয়ার কোম্পানি এবং তার সাবসিডিয়ারি কোন কোম্পানির পরিচালক, স্পন্সর বুক বিল্ডিংয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। বিডিং শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসইসির কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। বিডিং প্রক্রিয়া শেষ ও সাবসক্রিপশন এর মধ্যে সময়সীমা ২৫ দিনের পরিবর্তে ১৫ করতে হবে। যোগ্য ইনভেস্টর হিসেবে অ্যাসেট ম্যানজোর প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করতে পারবে। যোগ্য ইনভেস্টরগণ কি পরিমাণ শেয়ার ক্রয় করতে চান তা বিডিং প্রসেসের সময় উল্লেখ করতে হবে।

এছাড়া ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইপিও কোটা হলো ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা মূলধন হলে ৪০শতাংশ, ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা হলে ৫০ শতাংশ আর ১০০কোটি টাকার বেশি হলে ৬০ শতাংশ রাখতে হবে।

এদিকে ইন্সটিটিউট ইনভেস্টররা ৫ শতাংশ এর বেশি কোট করতে পারবে না। আর ৫ শতাংশ এর অর্থ গ্যারান্টি হিসেবে রাখতে হবে। ইস্যুয়ার এবং ইস্যু ম্যানেজার ইনডিকেটিভ প্রাইস কোট না করে প্রতিবেদন এসইসিতে আবেদন জমা দিবে। আর সর্ব্বোচ ২০ জনের ইনডেকেটিভ প্রাইস আবদন জমা দিতে হবে। এর মদ্যে ৫ জন মাচেন্ট ব্যাংক, ৫ জন কমার্শিয়াল ব্যাংক, ৫ জন অ্যাসেট ম্যানেজার এবং বাকী ৫ জন অন্যদের মধ্যে হতে হবে।

আর ইনডিকেটিভ প্রাইসে অংশ নেওয়াদের ১০ শতাংশ শেয়ার ফেসভ্যালু প্রাইসে ক্রয় করতে হবে। আন্তজার্তিক মানের আর্থিক প্রতিবেদন করতে হবে। আর ফুল  ডেলুটেড ইপিএস দেখাতে হবে। কোনো মতেই ফিউচার ইনকাম দেখানো যাবে না। আর কোয়ারটারলি (তৃতীয় মাসিক)বা হাফ ইয়ারলি (অর্ধ বছর) প্রতিবেদন কখনও অ্যানুয়ালইজ করা যবে না।  শেষ দুই বছরে ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠানের অ্যাসেট রিভ্যালূয়েশন করা হলে সম্পদ পুন:মূল্যায়নের আগের  ও পরের দুই ধরনের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এসইসি আর্থিক প্রতিবেদন যাচাই করতে নিজেই নতুন করে নিরীক্ষা করতে পারে। নতুবা আইসিএবি, আইসিএমএবি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টস বিভাগের চেয়ারম্যান নিয়ে পৃথক কমিটি পুন:নিরীক্ষা করতে পারে।

এ ক্ষেত্রে তাদের কাছে ১০ দিন পূর্বে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, সিএসইর পক্ষ থেকে একাধিক বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অডিট কোম্পানিকে ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠান হতে ভ্যালু অব স্টকস, ওয়ার্কি প্রগ্রেস, কানেক্ট এডভান্স ও ডিপোজিট বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়া হয়।
সেই বিষয়ে একটি সার্টিফিকেট দিতে হবে। আর এতে করে কোম্পানি কর্তৃক ভুল তথ্য দেওয়া হলে পরবর্তীতে দোষী সাবস্ত করা যাবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকেই সফলভাবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারে এই পদ্ধতি চালু করার জন্য গত বছরের ৯ মার্চ বিধিমালা জারি করে এসইসি।
প্রচলিত পদ্ধতির নির্ধারিত মূল্যের (ফিক্সড প্রাইস) পাশাপাশি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নির্ধারণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়। বুক বিল্ডিং পদ্ধতি চালুর হলেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি না থাকায় এটি প্রয়োগ করতে সময় লেগেছে এক বছর। ২০১০ সালের মার্চে এই পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়।

গত বছরের শেষ দিকে শেয়ার বাজার ব্যাপক বধসের পর এ পদ্ধতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে। এর পর গত ২২ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধনের কথা বলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯২০ ঘণ্টা আগস্ট ১১.২০১১

শেবামেকে করোনা ল্যাব, বুধবার শুরু হচ্ছে প্রশিক্ষণ-টেস্ট 
যাত্রাবাড়ীতে কর্মহীন মানুষের মধ্যে যুবলীগের ত্রাণ বিতরণ
করোনা মোকাবিলায় অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখতে হবে
চলে গেলেন রিয়াল, বার্সা, অ্যাতলেটিকোর সাবেক কোচ অ্যান্টিচ
করোনা: বরিশাল জেলায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা


সাজেকে ‘হাম-রবেলা’ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু
ত্রিপুরায় করোনায় আক্রান্ত একজন শনাক্ত
বিনিয়োগ বাড়লেও ইপিজেডে কমেছে জনবল
করোনা: লালমনিরহাটে বেগুনের কেজি ২ টাকা!
হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়ায় রাস্তায় ইজিবাইকে জন্ম নিলো শিশু