লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে: কৃষি ঋণে পিছিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

গত অর্থ বছরে বিতরণকৃত ঋণের চেয়ে এবার তিনগুণ বেশি ঋণ বিতরণ করতে হবে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এই লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে নতুন কৃষিঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেছে।

ঢাকা: গত অর্থ বছরে বিতরণকৃত ঋণের চেয়ে এবার তিনগুণ বেশি ঋণ বিতরণ করতে হবে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এই লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে নতুন কৃষিঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেছে।

২০১০-২০১১ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো যেখানে কৃষিখাতে ঋণ হিসেবে বিতরণ করে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সেখানে চলতি অর্থ বছরে তাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ধরে দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা। ৩০টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।  

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে লক্ষ্যমাত্রা ধরে দেওয়া হয়েছিলো ৩ হাজার কোটি টাকা। যেখানে ব্যাংকগুলো বিতরণ করে মাত্র এক হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫০ শতাংশ। আর মোট কৃষিঋণের লক্ষ্য ছিলো ১২ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা।

তবে এবার ঋণের লক্ষ্যমাত্র কমেছে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য। গত অর্থবছরে দেশের নয়টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য কৃষিঋণের লক্ষ্য ছিলো ৫৮২ কোটি টাকা। আর এবছর ৩৫ কোটি টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ৫৪৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, লক্ষ্যমাত্রা তিনগুণ বাড়ানো হলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করলে এটি অর্জন করা সম্ভব। এটি অসম্ভব কিছু নয়।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সুধীর চন্দ্র দাস বাংলানিউজকে জানান, ব্যাংকগুলো হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করে। তার মাত্র আড়াই শতাংশ এবার কৃষিখাতে বিতরণের জন্য বলা হয়েছে। সে হিসেবে এই সংখ্যা তিন গুণ বেড়েছে। তবে আমরা আশা করছি, ব্যাংকগুলো আন্তরিক হয়ে কাজ করলে অবশ্যই এটি অর্জন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু বলেছি মোট ঋণ ও অগ্রিমের আড়াই শতাংশ দিতে হবে কৃষিখাতে। আর  কোনো ব্যাংক কত টাকা বিতরণ করবে তা তারা নিজেরা নির্ধারণ করেছে।’

সূত্র জানায়, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সব সময়ই অনীহা কৃষিখাতে ঋণ বিতরণে। এখাতে শুধু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো এগিয়ে থাকে। তাদের কারণেই মোট লক্ষ্যমাত্রা সন্তোষজনকভাবে অর্জন করা সম্ভব হয়।

দেখা গেছে, ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর জন্য মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৮ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। যেখানে তারা বিতরণ করেছে ৯ হাজার ২১০ কোটি টাকা। আর একারণেই লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ অজর্ন সম্ভব হয়েছে।

অবশ্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণের বাধা হিসেবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের শাখা না থাকা এবং জনবল সংকটকে দায়ি করে থাকেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বছর নীতিমালায় ঘোষণা করেছে, কোন ব্যাংকের শাখার সমস্যা থাকছে সেখানে অন্য যে ব্যাংকের শাখা আছে তার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করতে হবে।

আর বিদেশি বাণিজিক্য ব্যাংকগুলোকে ক্ষুদ্র ঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করবে।

তবে কোন ব্যাংক যদি তার লক্ষ্য অর্জন করতে না পারে তা নিয়ম মতো বাংলাদেশ ব্যাংকে এক বছরের জন্য জমা রাখতে হবে। তবে সেজন্য অবশ্য সুদ দেওয়া হবে ব্যাংকগুলোকে।

সুধীর চন্দ্র দাস বরেন, ‘ব্যাংকগুলো যাতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে সেজন্য তাদের দিক নির্দেশনা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও তার তদারকি কার্যক্রম বাড়াচ্ছে। আর হয়রানি দূর করতে চালু করা হয়েছে হেল্প ডেস্ক। যেখানে কৃষক সরাসরি তার অভিযোগ তুলে ধরতে পারবেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮১৮ ঘণ্টা, আগস্ট ০৭, ২০১১

বেনাপোলে প্রায় আড়াই মাস আটকা ১৯ ভারতীয় ট্রাকচালক
মোরা ত্রাণ চাই না, বেড়ি চাই
রবীন্দ্র সরোবর যেন সবুজের গালিচা
ফলন ভালো হলেও বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাহাড়ের কৃষক
করোনায় মারা গেলেন প্রথম কোনো ফুটবলার


শ্বাসকষ্ট নিয়ে চবি শিক্ষকের মৃত্যু
প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে ‘করোনামুক্ত’ মন্টেনিগ্রো
উল্লাপাড়ায় ঘুড়ি কেনাবেচা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত এক
ইডিইউতে হারমনি অব আর্টস আজ ও কাল
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস রোববার