শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারী নেই, সবাই জুয়াড়ি: অর্থমন্ত্রী

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

শেয়ারবাজারে যারা আছেন, তারা সবাই জুয়াড়ি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

ঢাকা: শেয়ারবাজারে যারা আছেন, তারা সবাই জুয়াড়ি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে শেয়ারবাজারে কোনো বিনিয়োগকারী নেই। যারা আছেন তারা সবাই জুয়াড়ি। শেয়ারবাজারে যখন দাম বাড়ে, তখন এরা নীরব থাকে, আর যখন দাম কমে, তখন এরাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। প্রতিদিনই শেয়ারের দাম বাড়বে, এটা ঠিক নয়। এটা কোনো মার্কেট হতে পারে না।’

‘দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে শনিবার দুপুরে এফবিসিসিআই আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রাজনৈতিক অস্থিরতাই অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে কালো ছায়া পড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দেড় বছরে মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতির ওপর।’

এজন্য বিরোধী দলকে রাজনৈতিক সহিংসতা এড়িয়ে স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করছে দেশের অর্থনীতির ভবিষৎ কোন দিকে যাবে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি একে আজাদের সভপাতিত্বে ওই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ ফারুক খান।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জান, ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, এফবিসিসিআই সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, এফবিসিসিআই প্রথম মোঃ জসিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, বিকেএমএ সভাপতি সেলিম ওসমান, ডিসিসিআই সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, বিজেএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহীউদ্দিন, বিটিএমএ সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে ধরে রাখার জন্য বিরোধীদলের কাছে দেড় বছর চেয়েছি।’

এ সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে বলে মন্ত্রী জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আশা-আকাঙ্খা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সবকিছু নির্ভর করছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে আলোচনার ওপর। আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বিরোধী দল সংসদেই যায় না। তাহলে কিভাবে আলোচনা হবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেমন হবে তা নিয়ে আগামী সংসদে এসে বিরোধীদলের কথা বলা উচিত।’

তিনি রাজনৈতিক ইস্যুতে বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

আড়াই বছর সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনার জন্য বিরোধীদলের প্রতি আহবান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অন্তত: আমাদের চার বছর সময় দেন। সরকারের পঞ্চম বছরে যত খুশী রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস, দ্রব্যমূল্যসহ আমাদের বেশ কয়েকটি ঝুঁকি রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলা না করতে পারলে আমাদের বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে না, বিনিয়োগও বাড়বে না। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় আমরা টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছি।’

এ সময় অর্থমন্ত্রী সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিনের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, ‘আমাদের বিনিয়োগের হার বাড়েনি। এটা বাড়াতে হলে বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, ‘চিনি ছাড়া অন্যান্য পণ্য স্থিতিশীল রয়েছে। টিসিবিকে আমরা কিছুটা হলেও শক্তিশালী করেছি এবং আরও শক্তিশালী করা হবে। টিসিবির মাধ্যমে ট্রাকে করে ৬২ টাকা কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন আগের চেয়ে অনেক এগিয়েছে। আমাদের রপ্তানি আয় বেড়েছে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীসহ কৃষক শ্রমিক সবারই অবদান রয়েছে। তবে আমাদের ব্যাংক ইন্টারেস্ট কমাতে হবে এবং ব্যাংক লোনের পরিধিও বাড়াতে হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল কিন্তু তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে বলেছিল, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা অবদান রাখবে। বিরোধী দলে থেকেও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা যায়। কিন্তু তারা কি তা রাখছে?’

মতবিনিময় সভায় সাবেক গভর্নর ফরাস উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সঞ্চয়ের হার শতকরা ২৯ ভাগ এবং বিনিয়োগের হার শতকরা ২৪ ভাগ। তবে এবার বিনিয়োগের হার ২৫ শতাংশ হবে। কিন্তু বিনিয়োগের এই হার যথেষ্ট নয়, আমাদের প্রয়োজন শতকরা ৩৫ ভাগ বিনিয়োগ হওয়া। তার জন্য অবকাঠামো প্রয়োজন যা সরকারকেই করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আরও ব্যাংকের প্রয়োজন। তাহলে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। কিন্তু এই ১৬ কোটি মানবকে সম্পদে পরিণত করার কোনো উদ্যোগ গত ৪০ বছরে আমি দেখিনি।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক অর্জন আছে যা গৌরব করার মতো। বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন উলেল্লখযোগ্য। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি থেকে দেশের শতকরা ৭৭ ভাগ মানুষ বঞ্চিত থেকে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে রাজনীতি হয়ে গেছে ব্যবসা আর ব্যবসা হয়ে গেছে রাজনীতি। বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে শতকরা ৫৯ ভাগেরই মূল পেশা ব্যবসা। আমাদের রাজনীতি হচ্ছে দ্বন্দ্ব সংঘাতের রাজনীতি। এ থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। রাজনীতিবিদদের নিজেদের থেকেই বের হওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৬, ২০১১

লিবিয়ায় বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশি যে লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন
স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা
পত্নীতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ ভাইয়ের মৃত্যু
দৌলতদিয়া ঘাটে বাড়ছে যাত্রীদের চাপ
ফতুল্লায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আ’লীগ নেতার মৃত্যু


ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম করোনার উপসর্গ নিয়ে এক যুবকের মৃত্যু
চাষিদের স্বপ্ন হাঁড়িভাঙা আমে
নীলফামারীতে অতিবৃষ্টির কারণে ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক
কিশোরগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু
ফরিদপুরে করোনায় আরও একজনের মৃত্যু