ফের বিশ্বমন্দার আতঙ্ক

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

সপ্তাহব্যাপী বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে দরপতন, ইউরো জোনের ঋণ সংকট, মার্কিন অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়া ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ধীর প্রবৃদ্ধির কারণে ফের বিশ্বমন্দার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা: সপ্তাহব্যাপী বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে দরপতন, ইউরো জোনের ঋণ সংকট, মার্কিন অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়া ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ধীর প্রবৃদ্ধির কারণে ফের বিশ্বমন্দার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

দেনা ও বাজেট ঘাটতির কারণে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার ক্রেডিট রেটিংয়ে প্রথম বারের মতো শীর্ষ পর্যায় থেকে নেমে গেছে।

শীর্ষস্থানীয় ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস (এসঅ্যান্ডপি) তাদের রেটিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে `এএএ` পর্যায় থেকে এক ধাপ নামিয়ে বসিয়েছে ‘এএ’ প্লাস স্থানে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ও ঋণসীমা বাড়ানো নিয়ে কংগ্রেসের প্রবল বিতর্ক ও অচলাবস্থায় সৃষ্ট উদ্বেগের কারণেই এ সিদ্ধান্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের অবনমনের ফলে সেখানকার সরকার, কোম্পানি ও ভোক্তাদের ঋণ গ্রহণের খরচ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের দাম এখন যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও কানাডার মতো দেশের ট্রেজারি বন্ডের চেয়ে কম।

সপ্তাহব্যাপী বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্যহারে দরপতন হয়। গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারগুলো সূচক হারিয়েছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ৯ কার্যদিবসেই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডো-জোনস সূচকের ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের পর সবচেয়ে বেশি পতন হয়। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী দেশগুলো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিন ওয়াল স্ট্রিটে বড় ধসের পর শুক্রবার ইউরোপের শেয়ারবাজারে ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতনের ঘটনা ঘটে। ওয়াল স্ট্রিটে দর পতনের হাওয়া শুক্রবার ইউরোপসহ এশিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ভারতের সেনসেক্সেও দরপতনের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডো-জোনস শেয়ারবাজারে সূচক পড়েছে ৪.৩১ শতাংশ, নাসডাক সূচক কমেছে ৫.০৮ শতাংশ, লন্ডনের এফটিএসই-১০০ সূচক কমেছে ২.৩৬ শতাংশ, জার্মানির ড্যাক্স কমেছে ২.৩৩ শতাংশ, ফ্রান্সের সিএসি কমেছে ১.২৯ শতাংশ।

শুক্রবার দিনের শুরুতে জাপানের প্রধান শেয়ারবাজারে সূচক কমে যায় ৩.৭ শতাংশ এবং হংকংয়ের শেয়ারবাজারে সূচকের পতন হয়েছে ৪.৬ শতাংশ।

ভারতের সেনসেক্স শেয়ারবাজারে বড় দরপতনের ঘটনা ঘটেছে। বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। ভারত সরকার বলেছে, শেয়ারবাজারে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ দেশের মৌলিক অর্থনীতি এখনো শক্ত ভিত্তির ওপর রয়েছে। শুক্রবার দিনের শুরুতে সেনসেক্সের সূচক ৭০০ পয়েন্ট কমে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ঋণসীমা বৃদ্ধি নিয়ে তৈরি সংকট ও বেকারত্ব নতুন করে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা তৈরি করায় মার্কিন শেয়ারবাজারে দরপতনের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে ইউরো জোনের বড় অর্থনীতির দুটি দেশ ইতালি ও স্পেন নতুন করে ঋণ সংকটের মুখে পড়ছে এমন আশঙ্কায় ইউরোপের বাজারে দরপতন ঘটে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরকারের পদক্ষেপে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মন্দা থেকে উত্তরণে স্থিতাবস্থা, ইউরো জোনের বিভিন্ন দেশের ঋণ সংকট এবং দক্ষিণ এশিয়ার ধীর প্রবৃদ্ধিই বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দর পতনের অন্যতম কারণ। এর মধ্যে ইউরো জোনের ঋণ সংকটই বড় সমস্যা।

গত বৃহস্পতিবার ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জোসে ম্যানুয়েল ব্যারোসো সতর্ক করে বলেন, ইউরো জোন বিভিন্ন দেশের ঋণ সংকট বৃদ্ধি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে আইরিশ রিপাবলিক, পর্তুগাল ও গ্রিসের মতো ঋণ সংকট ইতালি এবং স্পেনকেও গ্রাস করতে পারে।

মূলত এ বক্তব্যের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। যদিও গুজব উঠেছে পরবর্তীতে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) স্প্যানিশ ও ইতালিয়ান বন্ড কিনে এসব দেশকে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপরও ইউরোজোনে শেয়ারবাজারে দরপতন ঠেকানো যায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৫০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৬, ২০১১

সিলেটে প্রবাস ফেরত যুবককে কুপিয়ে খুন
নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন বাসার ছাদে সারারাত জামাতে নামাজ আদায়
রাজশাহীতে ৩৩৭ জনের নমুনা সংগ্রহ
করোনা মোকাবিলায় ফেনীর প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সহায়তা
আশুলিয়ায় কলোনিতে আগুন, ৮ কক্ষ পুড়ে ছাই


বরিশালে চার বাড়ির লকডাউন প্রত্যাহার
শিল্পকলার তথ্যচিত্রে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ বার্তা
শেরপুরে শিশুসহ আরো দুজন করোনায় আক্রান্ত
কুড়িগ্রামে ১৫ জনের কোভিড-১৯ নেগেটিভ
রাজধানীর পূর্ব মনিপুরে যুবলীগের খাদ্য বিতরণ