php glass

দুর্যোগকবলিত জাপানে ৫৬ পণ্য রপ্তানি বন্ধ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

দুর্যোগকবলিত জাপানে বাংলাদেশের ৫৬টি পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানে। বিস্ফোরিত হয় দেশটির তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে।

ঢাকা: দুর্যোগকবলিত জাপানে বাংলাদেশের ৫৬টি পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানে। বিস্ফোরিত হয় দেশটির তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে।

স্বাভাবিকভাবেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্যে। দেশটির সঙ্গে বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশও।  

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে বাংলাদেশের ৫৬টি পণ্য জাপানে রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। কবে নাগাদ এ পণ্যগুলো আবার রপ্তানি করা যাবে সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নয় তারা।

তবে দীর্ঘদিন এসব পণ্য রপ্তানি বন্ধ থাকলে বাংলাদেশ বিরাট অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

জাপানে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশি পণ্যগুলো হচ্ছে-তৈরি পোশাক, মাছ, দুগ্ধজাত পণ্য, ডিম, মধু, কফি, চা, মসলা, তেল বীজ, ফল, ফল বীজ,  শাক সবজি, তেল, বাদাম, পাথর, সিমেন্ট, লবণ, বেভারেজ, পারফিউম, কসমেটিকস, সাবান, মোমবাতি, প্লাস্টিক সামগ্রী, বই, সংবাদপত্র, ছবি, উল, প্রাণির চুল, ঘোড়ার চুল, কার্পেট, টেক্সটাইল সামগ্রী, সিরামিক পণ্য, লোহা, স্টিল, লৌহজাত পণ্য, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, খেলনা, খেলাধুলার সামগ্রী, অপটিকাল ফটো, টেকনিক্যাল, মেডিক্যাল ও ঘড়ির যন্ত্রাংশ

২০০৯-২০১০ অর্থবছরে জাপানে ২ হাজার ৩১৩ কোটি ৮৯ লাখ ২৫ হাজার ৩২০ টাকার পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ।

গত আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) জাপান থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৬১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

এদিকে জাপানে রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা দেখছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি।

সিপিডির গবেষক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘জাপানে কিন্তু বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছিল। আমরা মূলত স্বল্পমূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করছিলাম। এটা ভূমিকম্প ও সুনামির আগের কথা। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে জাপানিরা সস্তা পোশাকের দিকে ঝুঁকছিল। তো এখন ভূমিকম্প আর সুনামির ফলে জাপানের অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে তাতে জাপানি ক্রেতারা আরও বেশি করে স্বল্প মূল্যের পোশাকের খোঁজ করবে। ফলে এ তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম স্থানে থাকবে।’

এদিকে পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিস্ফোরণের পর জাপানে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অনেক দেশই এখন জাপান থেকে খাদ্য দ্রব্য আমদানিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে।

তবে বাংলাদেশ জাপান থেকে মূলত গাড়ি আর নানা ধরনের যন্ত্রপাতি আমদানি করে।

এর ফলে বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যে খুব একটা প্রভাব পড়বে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তবে রপ্তানি খাতে দুর্যোগের সাময়িক প্রভাব পড়লেও তৈরি পোশাক আগের তুলনায় বেশি রপ্তানি করা যাবে বলেই ধারণা করছেন তারা।

একই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স’র সভাপতি মি. সুজুকি।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, জাপানের অর্থনীতি যে ভায়বহ বিপর্যয় ঘটে গেছে তাতে করে এ নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন করে ভাবতে হবে। কোম্পানিগুলোও নতুন করে ভাববে তাদের ব্যবসা নিয়ে। অনেক কোম্পানিই হয়তো ব্যবসা অন্য দেশে সরিয়ে নেবে। যেটা কোরিয়া করে থাকে। ওদের বাজার খুব ছোট। সঙ্গত কারণেই কোরিয়ান কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা অন্য দেশে সম্প্রসারণ করে থাকে। জাপানে বাজার বড় হওয়ায় কোম্পানিগুলো অভ্যন্তরীণ বাজারকে কেন্দ্র করে ব্যবসা করতো। কিন্তু এখন সে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কোরিয়ার মতো জাপানি কোম্পানিগুলোকে অন্য দেশের বাজার খুঁজতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলাদেশকে বিকল্প হিসাবে নিতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৪২ ঘণ্টা, মার্চ ২২, ২০১১

এ সপ্তাহের টপচার্ট
সাতক্ষীরায় সোহাগ পরিবহনের ধাক্কায় গৃহবধূ নিহত
শেখ হাসিনা একজন আদর্শ সেবক: গণপূর্তমন্ত্রী
লালমনিরহাট মুক্ত দিবস পালিত
বই উৎসবে বরিশালে সোয়া ২ কোটি নতুন বই


লালমনিরহাটে হানাদারমুক্ত দিবসের র‍্যালি
ফাইনালে উড়ন্ত বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা
বরখাস্ত হলেন ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার প্রধান নির্বাহী
হাটহাজারীতে জোড় ইজতেমা শুরু
‘যুদ্ধে হিট অ্যান্ড রানে বিশ্বাসী ছিলাম’