পুঁজিবাজারে শেয়ার-সরররাহ বাড়েনি ডিএসই-সিএসইর দায়িত্বহীনতায়

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

দুই স্টক এক্সচেঞ্জের দায়িত্বহীনতার কারণেই পুঁজিবাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ছে না । এ মন্তব্য করেছেন ডিএসইর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ রশিদ লালী।

ঢাকা : দুই স্টক এক্সচেঞ্জের দায়িত্বহীনতার কারণেই পুঁজিবাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ছে না । এ মন্তব্য করেছেন ডিএসইর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ রশিদ লালী।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ`র (সিএসই) দায়িত্বহীনতার কারণে পুঁজিবাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ছে না। বাজারে শেয়ারের সরবরাহ না বাড়ার দায় কোনোভাবেই এ দুই স্টক এক্সচেঞ্জ এড়াতে পারে না। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের বড় বড় স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানোর জন্য মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট আছে।  নেই কেবল  আমাদের দেশের স্টক মার্কেটে। এ কারণেই বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ শতভাগ ব্যর্থ ।’

মঙ্গলবার বাংলানিউজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
 
আহমেদ রশিদ বলেন, ‘ডিএসই ও সিএসই শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বারবার সরকারি ২৬ কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসার কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে,এই ২৬ কোম্পানির শেয়ার বাজারে আসার পর কি শেয়ারের ঘাটতি দূর হবে? আর যদি তাই হয়, তাহলে সেটা হবে সাময়িক--- বড় জোর ২ বছর কিংবা ৩ বছরের জন। এরপর তো বাজারে আবার একই অবস্থা হবে। তখন তারা কার কাছে যাবেন?’

তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্ন করেন, ‘পুঁজিবাজারে শেয়ারেরর সরবরাহ বাড়ানোর জন্য চাই পর্যাপ্ত প্রচার। কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের কোনো উদ্যোগ নেই। তাহলে তাদের হয়ে প্রচারটা কে চালাবে; সরকার চালাবে? এই ব্যর্থতার দায় তো আর সরকার নেবে না । কেন নেবে?’  

আহমেদ রশিদ লালী বলেন, ‘ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি যে ১০ শতাংশ কর রেয়াত পায় সেটা অনেক কোম্পানি জানেই  না । ডিএসই ও সিএসইতে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট থাকলে এমনটি হতো না। এটি জানানোর দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জের মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের। মোদ্দা কথা, মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট নেই বলে শেয়ারের সরবরাহও বাড়ানো যাচ্ছে না। ’

তিনি বলেন, ‘সরকার পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য ১০ শতাংশ কর রেয়াত করেছে। এই দুই মার্কেট সুযোগটি  কাজে লাগাতে পারেনি। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সরকার নন-লিস্টেড কোম্পানির জন্য সাড়ে ৩৭ শতাংশ আর লিস্টেড কোম্পানির জন্য সাড়ে ২৭ শতাংশ কর ধার্য করে দিয়েছে। এই সাড়ে ২৭ শতাংশের বাইরে আরো সুবিধা আছে। ২৭ শতাংশ কর দেওয়া কোম্পানি যদি বছরে ২০ শতাংশ লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড) দেয়, তাহলে তার দেয় কর ২৭ শতাংশ থেকে কমে ২৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ হয়ে যাবে।সরকারের দেওয়া এই কর রেয়াত সুবিধাটির কথা কোম্পানিগুলোকে রীতিমতো ঢাকঢোল পটিয়ে জানাতে হবে। কিন্তু মার্কেট দুটি সে পথ একদমই মাড়াচ্ছে না। একটি স্টক মার্কেটে মাকের্টিং ডিপার্টমেন্ট নেই, এটা অবিশ্বাস্য!’
 
‌বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য এই মুহূর্তে কী করা দরকার ?`--বাংলানিউজের করা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য এসইসি’র নিয়ম কানুন কিছুটা শিথিল করা যেতে পারে। কারণ কোনো কোনো কোম্পানি সামান্য কিছু ত্রুটির কারণে বাজারে আসতে পারছে না। এ এদিকটায় কিছুটা ছাড় দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট গড়ে তুলে বড় বড় কোম্পানিতে গিয়ে জোরালো প্রচার চালাতে হবে।’

সম্প্রতি দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সংবাদ সম্মেলন করে যে বক্তব্য দিয়েছে তার সমালোচনা করে লালী বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলন করে তারা যেসব কথাবার্তা বলেছে তার কোনো প্রয়োজন ছিল না। বাজার নিয়ে আগে থেকেই সবার মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছিল। তাই এই মুহূর্তে পুঁজিবাজার নিয়ে সংবাদ সম্মেলন বা রোড শো করার দরকার নেই। প্রয়োজন হলো বিনিয়োগকারীদের সঠিক দিক নির্দেশনা দেওয়া। আর সেজন্য ডিএসই ও সিএসইর উচিত হবে প্রত্যেক জেলায় সপ্তাহে কমপক্ষে ২টি সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা।’
 
তিনি বলেন, ‘ ডিএসই বিনিয়োগকারীদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেবে না` বলে  মন্তব্য করেছে। এমন মন্তব্য  অবান্তর। ডিএসই কেনই বা নেবে। আর কেনই বা অপ্রাসঙ্গিকিভাবে তা বলতে যাবে।’
 
বাজারে উর্ধ্বগতি রোধে কী করা উচিত জানতে চাওয়া হলে জবাবে ডিএসই’র সাবেক এই সিনিয়র সহ-সভাপতি বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাজারের উর্ধ্বগতি রোধে এসইসির নেওয়া পদক্ষেপগুলোর উদ্দেশ্য ভালো। কিন্তু এতগুলো সিদ্ধান্ত না নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিলেই হতো।’

তিনি বলেন, এখনো বাজারে যে হারে তারল্য প্রবাহ (নগদ অর্থের সরবরাহ) বাড়ছে, সেটা কন্ট্রোল করতে হবে।  অতিরিক্ত অর্থের সরররাহ কমিয়ে আনতে হবে। আর সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ না নিয়ে মার্জিন লোন অনুপাত  ১:১  পরিবর্তে ১:০.২৫ করলে হতো। প্রয়োজনে ১ মাস পরে কার আবার পর্যালোচনা (রিভিউ) করলে হতো।’
 
পুঁজিবাজারে এ মুহূর্তে বিনিয়োগ নিরাপদ কিনা এমন এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাজারে এখনো অনেক সেক্টর রয়েছে যেখানে বিনিয়োগ করা নিরাপদ। কেননা এখনো অনেক শেয়ারের প্রাইস আর্নিং রেশিও (পিই)  ১০ এর কম। আবার কোনো কোনো সেক্টরের পিই ২০ এর মধ্যে রয়েছে। দেখে-শুনে এ ধরণের কোম্পানিতে  বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগ ঝুকিঁমুক্ত থাকবে। ’
 
বাংলাদেশ সময় : ১৮৪৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৯, ২০১০

Nagad
ফজলুর রহমান মসজিদের মোতোয়াল্লী হাজী জাহাঙ্গীর
যেসব স্থানে পালিয়ে ছিলেন সাহেদ
সিলেটে করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক দম্পতি
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করোনায় আক্রান্ত
করোনা: নারায়ণগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৪২


পদ্মায় তীব্র স্রোতে, পাটুরিয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ জট
করোনায় আরও ৩৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩৫৩৩
সরকার আর শিক্ষিত বেকার তৈরি করতে চায় না: শিক্ষামন্ত্রী
অনলাইনে গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী
সাতক্ষীরা সীমান্তে ৫ স্বর্ণের বারসহ নারী আটক