বন্ধ হওয়ার পথে জাহাজভাঙা শিল্প !

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বিভিন্ন কারণেই চট্টগ্রামের ‘জাহাজভাঙা শিল্প’ এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে । বাংলাদেশের ইয়ার্ড মালিকরা ২০০৪ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সবচেয়ে বেশি জাহাজ কিনলেও গত পাঁচ মাসে এখানকার চালু ৫৫টি ইয়ার্ডে পুরনো (স্ক্র্যাপ) জাহাজ এসেছে মাত্র দুটি।

চট্টগ্রাম: বিভিন্ন কারণেই চট্টগ্রামের ‘জাহাজভাঙা শিল্প’ এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে । বাংলাদেশের ইয়ার্ড মালিকরা ২০০৪ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সবচেয়ে বেশি জাহাজ কিনলেও গত পাঁচ মাসে এখানকার চালু ৫৫টি ইয়ার্ডে পুরনো (স্ক্র্যাপ) জাহাজ এসেছে মাত্র দুটি। পরিবেশ দূষণসহ বিভিন্ন অজুহাতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ওইসব ইয়ার্ডে এখন পুরনো জাহাজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। অনেক ইয়ার্ডেই বন্ধ রয়েছে আমদানি করা জাহাজ ভাঙা।

ইয়ার্ড মালিকদের অভিযোগ, বাংলাদেশে এ শিল্প বন্ধ করতে কলকাঠি নাড়ছে বিদেশি শক্তি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে এ শিল্প বন্ধ করার জন্য বিদেশিরা চক্রান্ত করছে।’

এ জন্য প্রচুর অর্থও ঢালছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে বন ও পরিবেশ প্রতিতিমন্ত্রী ডক্টর হাছান মাহমুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে  করলে তিনিও এ সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।’

এ শিল্প বন্ধ হওয়ার উপক্রম সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আদালতের আদেশের কারণে এখন জাহাজভাঙা শিল্পের এ অচলাবস্থা।’ তবে পরিবেশ রক্ষা করেই এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ থেকে আবেদনকারীরা পরিবেশ ছাড়পত্র পাবে। এ সংক্রান্ত নীতিমালাও তৈরি হয়েছে।’

সরকারে একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমে বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষার দোহাই দিয়ে যারা পুরনো জাহাজভাঙা শিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা করছেন তাদের মুখে পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হাজারীবাগের ট্যানারি নিয়ে কোনো কথা নেই। কারণ এ ট্যানারি শিল্প নিয়ে কথা বললে তাদের জন্য বিদেশ থেকে টাকা আসা বন্ধ হয়ে যাবে।’

চালু ইয়ার্ডগুলোতে এ সময়ে দুই লাখ টন লৌহজাত সামগ্রী আছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বেড়ে ১০ দিনের ব্যবধানে ৩৩ হাজার টাকা টনের লোহা গতকাল বিক্রি হয়েছে ৩৭ হাজার টাকায়।

ইয়ার্ড মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্র্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিএ) কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবছর এ শিল্পে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এখান থেকে সরকার প্রায় ৮০০ কোটি টাকার আমদানি শুল্ক পায়। রি-রোলিং মিলের মাধ্যমে সরকার পায় আরও দেড় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব।

তারা জানান, প্রতিবছর দেশে যে ৩২ লাখ টন লৌহজাত সামগ্রীর চাহিদা রয়েছে, এর ২২ লাখ টনই সরবরাহ করা হতো জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে।

১৯৮০ সালে প্রথম সীমিত আকারে শুরু হয়ে ১৯৮৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে পুরোমাত্রায় চালু হয় এ ব্যবসা। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মাদামবিবিরহাট থেকে কুমিরা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে ১১৯টি ইয়ার্ড। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক হাজার মানুষের।

বিএসবিএ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ১৫ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের যে কমিটি গঠন করেছে সেখানে এ শিল্পের কোনো প্রতিনিধি নেই। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কমিটির ৫টি বৈঠকের তিনটিতেই জাহাজ ভাঙা শিল্পের কেউ ছিলেন না। পরিবেশ মন্ত্রণালয় সচিবের অনুরোধে শেষের দুটি বৈঠকের একটিতে যোগ দিয়েছিলেন তারা।

৩০ বছরের পুরনো এ শিল্প রায় সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নেই উল্লেখ করে বিএসবিএর উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আনাম চৌধুরী বলেন, ‘পরিবেশ সচেতন দেশ আমেরিকা থেকে শুরু করে প্রতিবেশী ভারতেও জাহাজভাঙা শিল্পের ব্যবসা রয়েছে। পরিবেশ রক্ষার নামে আমাদের এখানে মামলা করে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করছে কিছু এনজিও। এগুলোর মধ্যে বেলা (বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি) অন্যতম।’

তিনি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এনজিও গ্রিনপিস ও অপর একটি আন্তর্জাতিক এনজিও বেসেল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (বেন) হয়ে কাজ করে বেলা।’

২০০৫ সাল থেকে বেলা আমাদের এই শিল্প যাতে বিকশিত না হয় সে জন্য কাজ করছে। এর আড়ালে রয়েছে বিদেশিদের স্বার্থরা। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে জাহাজ আমদানি করতে হলে ১১০ দিনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হবে একজন ব্যবসায়ীকে। পৃথিবীর কোনো দেশে এই নিয়ম নেই।`

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সম্পর্কে বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজওয়ানা হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, `জাহাজ ভাঙার এই শিল্পে যারা মানুষ মারে, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন বলবৎ আছে। যারা আইন মেনে ব্যবসা করবে না, তাদের দায়দায়িত্ব তো নিতেই হবে।`

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মুনির চৌধুরী বলেন, `রাতারাতি এ শিল্পের পরিবেশের উন্নতি ঘটানো যাবে না। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জাহাজ ভাঙা শিল্পের ইয়ার্ড পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে সময় দিতে হবে। অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে এ ধরনের ব্যবসা বন্ধ করা কারো উদ্দেশ্য হতে পারে না।’

বাংলাদেশ সময় ১৪১৪ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৮, ২০১০

Nagad
‘পাটশিল্পের সঙ্গে জড়িতরা অভিশপ্ত জীবনের দিকে ধাবিত হচ্ছেন’
দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে অর্থ-সম্পদ বাড়ালে ছাড় নয় 
ঢাকা উত্তরে ‘স্মার্ট ল্যাম্প পোল’ চালু করলো ইডটকো
বাড়িভাড়া জুলাই থেকে ৫০ শতাংশ করার দাবি
দিরাইয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু


কমলনগরে নদী ভাঙন রোধের দাবিতে মানববন্ধন
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ মৃত্যু, শনাক্ত ৩০৯৯
ঈদুল আজহার ছুটি বাড়ানো হবে না: মন্ত্রিপরিষদ সচিব
সিলেটে ৫ উপজেলার ৩৭ ইউনিয়ন বন্যা কবলিত
রাজশাহীতে দেরি হচ্ছে ফ্লাইট চালু