ঢাকা, শুক্রবার, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

তারের জঞ্জালে বাড়ছে বিপদ

সোহেল সরওয়ার,সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০২৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৩, ২০২০
তারের জঞ্জালে বাড়ছে বিপদ ছবি: বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম: নগরের বিভিন্ন সড়ক ও গলিপথে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে জড়িয়ে থাকা তারের জঞ্জাল সরাতে কার্যত কোনো উদ্যোগ নেই। এই জঞ্জালের কারণে আর্থিং, শর্ট সার্কিট হয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

দেখা গেছে, ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরদের তারের ভারে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। সেসব খুঁটিতে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। এছাড়া এসব তারের জঞ্জালে নগরের সৌন্দর্যহানিও হচ্ছে।  

চট্টগ্রামের সব বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গতবছর একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শহরকে তারের জঞ্জাল থেকে মুক্ত করতে নগরে এলোপাতাড়ি থাকা বিদ্যুৎলাইন মাটির নিচে নেওয়ার কাজটি দ্রুত হলেই মঙ্গল। এই ভূগর্ভস্থ লাইন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি সিস্টেম লস কমিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের উপকার করবে। ঝড়-বৃষ্টিতেও বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাহত হবে না।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, অগ্নি দুর্ঘটনার ৭৫ শতাংশই বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় নানা সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। নগরে  ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের বেশিরভাগই বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ঘটেছে।  

নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোতে তারের জঞ্জাল ঝুলছে। নিউমার্কেট, রেয়াজউদ্দীন বাজার, আগ্রাবাদ, চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ষোলশহর ২নম্বর গেট, টাইগারপাস, জামাল খান, আন্দরকিল্লাসহ পুরো নগরজুড়ে চিত্র একই। বিভিন্ন সময়ে এসব তার ছিঁড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। সেবা সংস্থাগুলোর দায়িত্বহীনতার কারণে নগরের ৭০ লাখ মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।  

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ৬০ বর্গমাইলের নগরে পিডিবির ৩ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রোধে সম্প্রতি ঝুলে থাকা এসব তার সরানোর নির্দেশনা দেয় আদালত। পরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সব তারই মাটির নিচে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিতরণ) দক্ষিণাঞ্চল এর কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুতের খুঁটিতে ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরদের তার টাঙিয়ে এ জঞ্জাল সৃষ্টি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরকে তারগুলো সরিয়ে নিতে বলা হলেও তারা তা মানছে না।  

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, মাটির নিচে বিদ্যুতের তার নেওয়া হলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কমে যাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষায় তার ছিঁড়ে পড়ার ভয়ও থাকবে না। নান্দনিক শহর গড়ে তুলতে তারের জঞ্জাল সরানো জরুরী।  

বাংলাদেশ সময়: ১০২০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৩, ২০২০
এসএস/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa