ঢাকা, বুধবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ সফর ১৪৪২

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রামকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য করাই প্রধান লক্ষ্য: সুজন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৩৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০
চট্টগ্রামকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য করাই প্রধান লক্ষ্য: সুজন সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে যানজট নিরসনে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের বৈঠক

চট্টগ্রাম: যানজটমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগর গড়তে ট্রাফিক বিভাগ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে বদ্ধ পরিকর উল্লেখ করে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, এ নগরকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।  

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে যানজট নিরসনে চসিক নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে এক বৈঠকে প্রশাসক এসব কথা বলেন।


 
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দ্রুত বর্ধমান একটি নগর, যেখানে বিবিধ উন্নয়ন ও পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। দেশের সব প্রান্ত থেকে মানুষ বিবিধ প্রয়োজনে ছুটছে বন্দরনগর অভিমুখে, বাড়িয়ে তুলছে নগরীর জনসংখ্যা। এ অতিরিক্ত জনসংখ্যা নগরে নানা কৃত্রিম সমস্যার সৃষ্টি করছে, যার মধ্যে অন্যতম যানজট। যানজট সৃষ্টিতে রাস্তার মোড়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা, সড়কে বিভিন্ন গতির ও অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করা, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, আইন প্রয়োগ ও কার্যকরের অভাব, অপর্যাপ্ত ও অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের অভাব, সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া, লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক, রাস্তা ও ফুটপাত দখল, অবৈধ রিকশার ছড়াছড়ি, যানবাহনের ইচ্ছামতো চলাচল, যত্রতত্র পার্কিং ও আইন মেনে না চলা, ফুটপাতগুলো দখল, সড়কে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা প্রধান কারণ।

এ ছাড়া অপরিকল্পিভাবে রাস্তা কেটে উন্নয়নকাজ করা, মোড়ে মোড়ে রিকশা দাঁড়িয়ে থাকা, সড়কের পাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান, ত্রুটিযুক্ত যানবাহন ও দিনে সড়কে বড় ট্রাক চলাচল করাই মূলত যানজটের জন্য দায়ী। অপরিকল্পিত বাসস্ট্যান্ডের কারণে নগরের চার প্রবেশমুখ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। নগরীর অক্সিজেন মোড়, শাহ আমানত সেতু চত্বর, কাপ্তাই রাস্তার মাথা এবং সিটি গেট-কর্নেল হাটে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেশিরভাগ সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। যত্রতত্র যানবাহন দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী উঠা-নামা করানোর কারণে প্রতিটি মোড়েই একধরনের বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, গাড়ির সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে সড়ক বাড়েনি। চালকদের মধ্যে সচেতনতাও বাড়েনি। পরিকল্পিতভাবে টার্মিনালও গড়ে তোলা হয়নি।  
তিনি শিগগির নগরে প্যাডেল চালিত অবৈধ রিকশা উচ্ছেদ করে রিকশা চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা ঠিক করে দেওয়া হবে বলে জানান।  

সমাজের সচেতন মহল যদি শহরের  উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে এগিয়ে আসেন তা হলে এ শহরের চিত্র বদলাতে দেরি হবে না বলে উল্লেখ করে প্রশাসক।  

সিএমপি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনে কিছু প্রস্তাবনা লিখিতভাবে প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়। প্রশাসক এ ব্যাপারে একমত হয়ে একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানান। নগরে ফুটপাতে যেন হকাররা যত্রতত্র বসতে না পারে এবং স্থায়ী কোনো স্থাপনা তৈরি করতে না পারে সেদিকে নজর রাখার তাগাদা দেন প্রশাসক।  

এ ছাড়া রাস্তায় জেব্রা ক্রসিং ও রোড মার্কিং, বিভিন্ন মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ স্থাপন, যাত্রী উঠানামার স্থান নির্দিষ্ট করার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান প্রশাসক।  

বৈঠকে করোনা মহামারীকালে যে সব পুলিশ সদস্য মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, করোনাকালে তাদের ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।  

এ সময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমেদ, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম, ডিসি ট্রাফিক দক্ষিণ মো. শহিদুল্লাহ, ডিসি ট্রাফিক পশ্চিম জয়নুল আবেদীন, এডিসি ট্রাফিক উওর উক্য সিং,এডিসি ট্রাফিক বন্দর অলক বিশ্বাস, এডিসি ট্রাফিক পশ্চিম সিএমপি ছত্রধর ত্রিপুরা, স্থপতি আবদুল্লাহ ওমর উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০
এআর/এসকে/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa