ঈদ মার্কেট: সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন ব্যবসায়ীরা

নিউজরুম এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ফাইল ফটো

walton

চট্টগ্রাম: ঈদ সামনে রেখে করোনার দুর্যোগের মধ্যেও ১০ মে থেকে দোকান ও শপিং মল খোলার সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে পুঁজি হারানোর ভয় অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে এখন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন ব্যবসায়ীরা।

নগরের লাকী প্লাজা, আখতারুজ্জামান সেন্টার, ব্যাংকক সিঙ্গাপুর মার্কেট, স্যানমার ওশান সিটি, সেন্ট্রাল প্লাজা, নিউমার্কেট, টেরিবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার, আফমি প্লাজা, মিমি সুপার মার্কেট, চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্স, খুলশি টাউন সেন্টার, ইউনেস্কো সেন্টার, আমিন সেন্টারসহ অর্ধশত মার্কেট এখন বন্ধ।

এর আগে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় এখনও প্রায় সবগুলো সুপারশপ, মার্কেট ও দোকান বন্ধ রয়েছে।

সোমবার (৪ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দোকান ও শপিংমল ১০ মে থেকে খোলা রাখা এবং বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ করার কথা উল্লেখ করা হয়। সেই সঙ্গে প্রতিটি শপিংমলে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সতর্কতা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা-উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ দোকান আছে। লকডাউন কিছুটা শিথিল হওয়ায় কিছু কিছু দোকান ইতিমধ্যে খুলে গেছে। তবে নগরের বড় বড় বিপণিবিতানগুলো খোলা নিয়ে ব্যবসায়ীদের একাংশের রয়েছে চরম আপত্তি। তাদের মতে, ঈদ উপলক্ষে বিপণিবিতান খুলে দেওয়া হলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব হবে না। ফলে করোনা সংক্রমণ আরও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে।

আবার অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, করোনার কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে মার্কেটগুলো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সারাবছর এই ঈদ মৌসুমের জন্য থাকে অপেক্ষা। এই সময়টাতেই যদি ব্যবসা বন্ধ থাকে, তাহলে অনেককে পুঁজিটাই হারাতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম শাখার নেতারা বিভিন্ন বিপণিবিতানের দোকান মালিক ও মার্কেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। যারা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পারবেন, তাদেরকে সময়সীমা মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সম্মতি দেওয়া হচ্ছে। আবার মার্কেট খোলা হলে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ও করোনার ভয়ে ক্রেতারা বাজারমুখি হবেন কিনা-সেটাও ভাবাচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি সালেহ আহমদ সোলেমান বাংলানিউজকে বলেন, করোনা নিয়ে আমরা সবাই ভয়ে আছি। আবার ব্যবসা বন্ধ রেখে জীবিকা নির্বাহ করাও কঠিন। এ অবস্থায় কয়টি মার্কেট ও দোকান খোলা রাখা হবে, সে ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে যারা দোকান খুলতে চান, তারা খুলতে পারেন। আর যারা চান না, সেটা তাদের ইচ্ছে। কারও ওপর দোকান খুলতে আমাদের চাপ নেই।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার স্বার্থে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু করলে সেটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে করতে হবে। এই বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা যায় সেটা ভাবতে হবে। নইলে মানুষ বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩০০ ঘণ্টা, মে ০৭, ২০২০
এসি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
Nagad
‘বিএনপি আমলে সাহেদ হাওয়া ভবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন’
করোনা: ঢাকাসহ চার জেলায় পশুর হাট না বসানোর প্রস্তাব
নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদার জন্ম
ঢাকার পথে সাহারা খাতুনের মরদেহ
ভিয়েতনামে মানবপাচারের ঘটনায় আটক তিনজন রিমান্ডে


পল্লবীতে ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে অভিযান, আটক ৩
রাজশাহীতে বাসচাপায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ২
‘আদিম’ মুক্তির আগেই নির্মিত হচ্ছে সিক্যুয়েল
লকডাউনে ভিডিওচিত্র বানিয়ে খুদে শিক্ষার্থী প্রিয়তির রোবট জয়
সিলেটে করোনার নমুনা জট নেই