পারকি-পতেঙ্গা সৈকত ফেলছে স্বস্তির নিশ্বাস

নিউজরুম এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

পারকি সমুদ্র সৈকত। ছবি: উজ্জ্বল ধর

walton

চট্টগ্রাম: শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে আনোয়ারার পারকি সমুদ্র সৈকত। স্থানীয়দের ভাষায় এটি ‘পারকির চর’। এই  সৈকত কর্ণফুলীর মোহনায় হলেও এর বিস্তৃতি দক্ষিণে শঙ্খ নদীর মোহনা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার।

সৈকতের বালুচর, ঝাউবাগান, বন্দরের বহির্নোঙরে সারি সারি জাহাজ, রাতের আলোকচ্ছটা মুগ্ধ করে পর্যটকদের। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের উপস্থিতি না থাকায় সৈকতের প্রকৃতি প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দূরে দেখা মিলেছে লাল কাঁকড়ার সারি।

পারকি সমুদ্র সৈকত। ছবি: উজ্জ্বল ধর২০১৭ সালের ৩০ মে দুপুরে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে ‘এমভি ক্রিস্টাল গোল্ড’ নামের একটি জাহাজ পারকি সৈকতে গিয়ে আটকা পড়ে। এরপর জাহাজটিতে চালানো হয় লুটতরাজ। দীর্ঘদিন সৈকতে আটকে থাকা জাহাজটির নিচের বেশ কিছু অংশ দেবে গেছে। সেই জাহাজ ঘিরে সবসময় জমে থাকা পর্যটকের ভিড় এখন নেই।

অপরূপ সৌন্দর্যের পারকি সৈকতে একপাশে রয়েছে দীর্ঘ ঝাউ গাছের সারি। বন বিভাগের উদ্যোগে ১৯৯৩-৯৪ সাল ও ২০০২ সালে পারকির প্রায় ৮০ হেক্টর এলাকায় ঝাউবন তৈরি করা হয়, যা এখন পর্যটকদের কাছে দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার।

পারকি সমুদ্র সৈকত। ছবি: উজ্জ্বল ধরপারকি বিচের ১৩ একর জায়গায় আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্স প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বিপিসি)। ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর পারকি বিচ হবে দেশের অন্যতম আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র।

কর্ণফুলীর তলদেশে যে টানেল নির্মাণ হচ্ছে, এটির মুখ বের হবে পারকির সিইউএফএল এলাকায়। এখন পর্যটকদের যাতায়াতে যে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, ভবিষ্যতে তা আর থাকবে না। টানেল ব্যবহার করে ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই পর্যটকরা পৌঁছে যেতে পারবেন পারকিতে।

পারকি সমুদ্র সৈকত। ছবি: উজ্জ্বল ধরএদিকে জনশূন্য পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের প্রকৃতিও সেজেছে নিজের রঙে। কমেছে পরিবেশ দূষণ। বালুকাবেলায় রাজত্ব করছে শামুক-ঝিনুক। সাগরের ঢেউয়ের গর্জন ছাড়া আর কোনও কোলাহল নেই।

শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে পতেঙ্গা সৈকতের অবস্থান। এই সৈকতকে ঘিরে হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। সৈকত ঘেঁষে তৈরি হয়েছে সাড়ে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ আউটার রিং রোড।

পতেঙ্গা সৈকতে ডানা মেলেছে প্রকৃতি।সবসময় এই সৈকতে পর্যটকদের পদচারণা থাকলেও করোনা ভাইরাসের কারণে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতজুড়ে এখন কেবলই নির্জনতা। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সৈকতের ৫ কিলোমিটার এলাকায় ওয়াকওয়ে তৈরি ও সৌন্দর্য্যবর্ধন করেছে।

পর্যটকের উৎপাত না থাকায় গাছগুলোতে ফুটে থাকা ফুল সৌন্দর্য্য ছড়াচ্ছে। পাখিদের ওড়িউড়ি, কিচিরমিচির ডাক, ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার দৃশ্য মনে করিয়ে দেয়, পদভারে ক্লান্ত প্রকৃতি এখন ফেলছে স্বস্তির নিশ্বাস।

বাংলাদেশ সময়: ১০৩০ ঘণ্টা, মে ০৭, ২০২০
এসি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
Nagad
সাহারা খাতুনকে শেষ শ্রদ্ধা
রোয়াংছড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নারী নিহত 
বৃষ্টিতে ভোগান্তি, বন্দরে সতর্কতা সংকেত
বনানী কবরস্থানে সাহারা খাতুনের দ্বিতীয় জানাজা
বান্দরবানের রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ আর নেই


রাজধানীর পথে-ঘাটে ভেজাল সুরক্ষা পণ্যের কারবার
বনানী কবরস্থানে সাহারা খাতুনের মরদেহ
নীলফামারীতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপরে
ছোটপর্দায় আজকের খেলা
করোনা সম্পর্কিত নতুন রোগ বাংলাদেশেও