হোম কোয়ারেন্টিনে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ৩ কর্মকর্তা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের লোগো

walton

চট্টগ্রাম: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এক নারীর সন্তানের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার জেরে হোম কোয়ারেন্টিন পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্ত্তীসহ ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া শিক্ষা বোর্ডের আরও দুই কর্মকর্তা।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্ত্তী নিজেই।

তিনি বাংলানিউজকে জানান, এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে গত ২২ মার্চ কক্সবাজারের ১২ জন কেন্দ্র প্রধানদের সঙ্গে আমরা একটি বৈঠক করি। হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ জীবাণুনাশক সামগ্রী দিয়ে হাত পরিষ্কার করে বোর্ডে সবাইকে প্রবেশ করানো হয়।

তিনি আরও জানান, অন্য কেন্দ্র প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষও। তবে তার মা যে এর কয়েকদিন আগে সৌদিআরব থেকে ফিরেছেন, তিনি মায়ের সঙ্গে দেখা করার পরেও হোম কোয়ারেন্টিন পালন না করে যে বৈঠকে এসেছেন- তা গোপন করেন।

‘বুধবার বিষয়টি জানাজানির পর ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিন পালনের অনুরোধ জানিয়েছি। আমি নিজেও হোম কোয়ারেন্টিন পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, বোর্ড কর্মকর্তাদের আতঙ্ক বা শঙ্কার কিছু নেই। ওই বৈঠকে আমরা সবাই নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে বসেছি। সবাই জীবাণুনাশক সামগ্রী দিয়ে হাত পরিষ্কার করেছি। আক্রান্ত ওই নারীর সঙ্গে দেখা করার পরেও কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি।

‘তারপরেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের এই কঠিন পরিস্থিতে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে নিজেকে, পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।’ যোগ করেন তিনি।

এদিকে তথ্য গোপন করে বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাংলানিউজকে জানান, সৌদি ফেরত মায়ের সঙ্গে দেখা করলেও তার সংস্পর্শে যাইনি আমি। মঙ্গলবার সকালে মায়ের করোনা ভাইরাসের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর আমি নিজেই হোম কোয়ারেন্টিন পালন করছি।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের মা কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার বাসিন্দা ওই নারী গত ১৩ মার্চ ওমরাহ শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। এরপর তিনি নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় তার এক ছেলের বাসায় ওঠেন। পরে ১৪ মার্চ চকরিয়ার খুটাখালীতে গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার অসুস্থতার ধরন দেখে নমুনা পরীক্ষার জন্য ২২ মার্চ রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠায়। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ওই নারীর করোনা ভাইরাসের রিপোর্ট পজেটিভ আসে।

এ খবরে মঙ্গলবার রাতে নগরের চান্দগাঁও এবং বাকলিয়া এলাকায় ওই নারীর দুই সন্তানের বাড়ি লকডাউন করে প্রশাসন। কক্সবাজারের বাড়িও লকডাউন করা হয়। পাশাপাশি তাকে সেবা দেওয়া চিকিৎসক, নার্স এবং সংস্পর্শে আসা পরিবারের লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩০ ঘণ্টা, মার্চ ২৫, ২০২০
এমআর/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
কুমিল্লায় সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচার-খাদ্য বিতরণ সেনাবাহিনীর
রামজান উপলক্ষে বুধবার থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু
চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে সিএমপি
করোনা: পোল্ট্রি শিল্পে ক্ষতি ১১৫০ কোটি টাকা
 কবি হাসান হাফিজুর রহমানের প্রয়াণ


করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে আরও ৮৩৭ জনের মৃত্যু
গোপনে রাতের আঁধারে ত্রাণ পৌঁছে গেল ঘরে
কুষ্টিয়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে দুই ভাই নিহত
চট্টগ্রামে আইসোলেশনে থাকা রোগীর মৃত্যু 
১০ হাজার অসহায় পরিবারের পাশে পিএইচপি ফ্যামিলি