ঝুঁকি নিয়ে শুরু নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

করোনা ঝুঁকির মধ্যে শুরু নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ। ছবি: বাংলানিউজ

walton

চট্টগ্রাম: মাত্র কয়েকদিন আগে নিজেরাই চালিয়েছিলেন করোনা নিয়ে সচেতনতা। কিন্তু সপ্তাহ পেরুতেই তারাই আবার নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে এখন আলোচনার মুখে।

আসন্ন (২৯ মার্চ) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২০ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ।

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া করোনা সংক্রমণের প্রভাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে সরকার বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হতে নিরুৎসাহিত করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সতর্কতামূলক এত আয়োজনের পরও নির্বাচন কমিশনের যেন করার কিছুই নেই।

নির্বাচনের প্রশিক্ষণ নিতে আসা বেশ কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী বাংলানিউজকে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইইডিসিআরসহ বিভিন্ন সংস্থা যখন জনসমাগম এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিচ্ছে, সেখানে নির্বাচন কমিশন রীতিমতো জনসমাবেশ তৈরি করছে। কঠিন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায়ভার নেবে কে?

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, ইভিএমে ভোটগ্রহণ পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল দরকার। যা প্রশিক্ষণ ছাড়া সম্ভব নয়। তাছাড়া নির্বাচন বন্ধ হয়নি, তাই নির্বাচন সামনে রেখে সকল প্রস্তুতি আমাদের নিয়ে রাখতে হবে। এখানে কারো প্রতি আমাদের আন্তরিকতার কমতি আছে- তা নয়।

শুক্রবার (২০ মার্চ) প্রথম দিনেই তিন হাজার কর্মকর্তার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে নির্বাচন কমিশন। মহানগরের ৯টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ প্রশিক্ষণ, যা চলবে ২৫ মার্চ পর্যন্ত। এবারের সিটি নির্বাচনে ৭৩৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৮৮৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৯ হাজার ৭৭২ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। নগরের আগ্রাবাদ খাজা আজমেরি উচ্চ বিদ্যালয়, পাহাড়তলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুলগাঁও সিটি করপোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সিডিএ পাবলিক স্কুলে তাদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

করোনা ঝুঁকির মধ্যে শুরু নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ। ছবি: বাংলানিউজনির্বাচনের দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তাদের অনেকেই আছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষক। তাদের মধ্যে নারীও আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী শিক্ষক বাংলানিউজকে বলেন, এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। এমনিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রুটিন দায়িত্ব পালনে হিমশিম খেতে হয়, তার ওপর সংসারের কাজ সামলে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করা খুব কঠিন। তারপরও বাধ্য হয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশংকায় ভয়ে থাকেন তারা।

চসিক নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জেলা শিল্পকলা একাডেমির থিয়েটার হলে সকাল সাড়ে দশটায় প্রার্থীদের সঙ্গে সভা করার কথা ছিল। কিন্তু জনসমাগম এড়াতে শেষ মুহুর্তে তা বাতিল করা হয়।

বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে হলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী এখনই সিদ্ধান্ত নিতে চান না। এছাড়া চট্টগ্রামবাসীকে করোনাভাইরাসের ‘মহাবিপদ’ থেকে সুরক্ষিত রাখতে নির্বাচন স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন।

ইসি সচিব মো. আলমগীর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, করোনার প্রকোপের মধ্যে নির্বাচন করা যাবে কি-না, এই প্রশ্নের মধ্যে নির্বাচন কমিশন আলোচনায় বসেছিল। যেহেতু চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের জন্য হাতে আরও সময় আছে, তাই পরিস্থিতি দেখে শনিবার (২১ মার্চ) বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪০ ঘণ্টা, মার্চ ২০, ২০২০
এমএম/এসি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
দেশবাসীকে ঘরে থাকার আহবান খালেদা জিয়ার
নারায়ণগঞ্জে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত
আড়াইহাজারে মাজার খাদেমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
গণস্বাস্থ্যের কিটের ট্রায়াল স্থগিত
৫ হাজার মানুষকে ঈদ উপহার দিলেন সালমান খান


মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইটভাটার মালিক-কর্মচারীর মৃত্যু
আড়াইহাজারে দগ্ধ চা দোকানির মৃত্যু
খুমেক ল্যাবে ৬ পুলিশসহ ১০ জনের করোনা শনাক্ত
আলমডাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ 
ত্রিপুরা রাজ্যে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত