ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

বিমানবন্দরে বডি স্ক্যানার ‘প্রোভিশন ২’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২০১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০
বিমানবন্দরে বডি স্ক্যানার ‘প্রোভিশন ২’ শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো হয়েছে বডি স্ক্যানার ‘প্রোভিশন ২’।

চট্টগ্রাম: যাত্রীবেশী কোনো সন্ত্রাসী যাতে প্লেনে অস্ত্র বা বিস্ফোরক নিয়ে উঠতে না পারে সে লক্ষ্যে শাহ আমানতে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক বডি স্ক্যানার ‘প্রোভিশন ২’।

সূত্র জানায়, জাইকার অর্থায়নে স্ক্যানারটি বসানো হয়েছে। ৮ ফুট উঁচু ছোট্ট একটি কাচের ঘরের মতো দেখতে স্ক্যানারটিতে যাত্রী যদি অন্তর্বাসের ভেতর লুকিয়েও অস্ত্র, বিস্ফোরক, বোমা তৈরির উপকরণ নিয়ে প্লেনে ওঠার চেষ্টা করে তবে তা স্ক্যানারে সংযুক্ত মনিটরে ধরা পড়বে।

মেটালিক, নন-মেটালিক, ওয়েপনস, স্ট্যান্ডার্ড ও হোম মেড বিস্ফোরক (শিট ও বাল্ক), লিক্যুইডস, জেলস, প্লাস্টিকস, পাউডারস, সিরামিক ইত্যাদি ধরা পড়বে। একজন যাত্রীকে স্ক্যান করতে সময় লাগবে দেড়-দুই সেকেন্ড। ঘণ্টায় দুই-তিনশ যাত্রীকে স্ক্যানিক করা যাবে। ‘প্রোভিশন ২’ বডি স্ক্যানার বসানো হচ্ছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ওসমানী বিমানবন্দরেও।  

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গণশুনানিতে অংশ নিতে এসে স্ক্যানারটির কার্যক্রম দেখেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। পরীক্ষামূলকভাবে তিনি স্ক্যানারের ভেতর ঢুকে দেখেন। এ সময় স্ক্যানারটি নিখুঁতভাবে ইমেজ ডেলিভারি দেয় স্ক্রিনে।

২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাই ফ্লাইটের উড়োজাহাজ ময়ূরপঙ্খি উড্ডয়নের ১৭ মিনিট পর পলাশ আহমেদ নামে এক যাত্রী প্লেনের ভেতর পিস্তল বের করে ফ্লাইটটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। এরপর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেন পাইলট। পরে সন্ধ্যায় কমান্ডো অভিযানে নিহত হন ছিনতাইকারী। এ ছাড়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেশ কয়েকবার বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ যাত্রী শনাক্ত করা হয়।  

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, কোনো যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে, দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে যাত্রী নির্বাচন করে কিংবা গোপন সংবাদ থাকলে কোনো ফ্লাইটের সব যাত্রীকে স্ক্যানিং করা হবে।

শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ার-ই-জামান বাংলানিউজকে বলেন, এ বিমানবন্দর দিয়ে ২০১৯ সালে ১৭ লাখ ৭৮ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন। ৯টি আন্তর্জাতিক রুটে ৩টি বিদেশি ফ্লাইট অপারেটরসহ মোট ৯টি অ্যাভিয়েশন সংস্থা যাত্রী ও কার্গো পরিবহন করে। সপ্তাহে ৫৬০টি এবং দিনে ৪০টি ফ্লাইট অবতরণ ও উড্ডয়ন করে এ বিমানবন্দরে। গত ১০ বছরে ফ্লাইট বেড়েছে ১ দশমিক ৮ গুণ, যাত্রী বেড়েছে ৩ দশমিক ১১ গুণ। স্বাভাবিকভাবেই ‘প্রোভিশন ২’ স্ক্যানার বিমানবন্দর ও ফ্লাইটের সেফটি ও সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

>> বিমান ছিনতাই চেষ্টা করেছিলেন পলাশ একাই
>> সব বিমানবন্দরের উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সময়: ২০৫০ ঘণ্টা,  ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
এআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa