ঢাকা, সোমবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১০ আগস্ট ২০২০, ১৯ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

মুজিব বর্ষে অপারেশনে যাবে পিসিটি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৪৬ ঘণ্টা, জানুয়ারী ৭, ২০২০
মুজিব বর্ষে অপারেশনে যাবে পিসিটি সংবাদ সম্মেলনে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ। ছবি: সোহেল সরওয়ার

চট্টগ্রাম: মুজিব বর্ষে চট্টগ্রাম বন্দরের সাড়ে ৪ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যে নির্মিতব্য পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করা যাবে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের ৫২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ এসব তথ্য জানান।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, পিসিটিতে ৬০০ মিটার জেটিতে ১৯০ মিটার লম্বা ও সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের ৩টি কনটেইনার জাহাজ ও ২২০ মিটার লম্বা তেলবাহী জাহাজ ভিড়ানো যাবে।

ব্যাকআপ ইয়ার্ড থাকবে ১৬ একর, কনটেইনার ধারণক্ষমতা সাড়ে ৪ হাজার টিইইউ’স। পিসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি তথা ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

বে টার্মিনাল প্রসঙ্গ

বে টার্মিনালের জন্য ৬৭ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন বন্দরকে বুঝিয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, প্রাথমিকভাবে ইয়ার্ড, ট্রাক টার্মিনাল ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের বাকি ৮০৩ একর খাস জমি বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ওই জমি জেলা প্রশাসন থেকে সহসাই বন্দরকে হস্তান্তর করা হবে।

বে টার্মিনালে ২০২৫ সালের মধ্যে দেড় হাজার মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস টার্মিনাল এবং ১২২৫ ও ৮৩০ মিটার দীর্ঘ ২টি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এটি হলে বর্তমানে বন্দরের মূল জেটিতে জোয়ারের সময় সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফট ও ১৯০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ ভিড়ানোর যে সুযোগ, তার পরিবর্তে বেশি ড্রাফটের ও বড় জাহাজ দিন রাত ২৪ ঘণ্টা ভিড়ানোর সুযোগ থাকবে।

বন্দরের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। সাধারণ কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১০ কোটি ৩০ লাখ টন। প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের এ সংখ্যা বন্দরের ৩০ বছর মেয়াদি প্রক্ষাপণকে ছাড়িয়ে গেছে। এখন বন্দরের ইয়ার্ডে ৫০ হাজার কনটেইনার রাখা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি জানান, বন্দর সম্প্রসারণ করার পাশাপাশি মিরসরাইয়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরকে সাপোর্ট দিতে সীতাকুণ্ডে আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ চলমান আছে। পোর্ট লিমিট ৭ নটিক্যাল মাইল থেকে ৫০ নটিক্যাল মাইলে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বন্দরের জলসীমা ৬ গুণ বেড়েছে।

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর নামে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন, সভা-সেমিনার, মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীদের জন্য পেনশন কর্নার চালু, ওয়াটারশো, সংবাদ-তথ্যচিত্র সংগ্রহ ও প্রকাশ, বঙ্গবন্ধুর কার্যক্রমের ওপর অ্যালবাম তৈরি, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিফলক স্থাপন, কর্ণফুলীতে নৌকাবাইচসহ অনেক কর্মসূচি নিয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম, সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমডোর এম শফিউল বারী, সদস্য (প্রকৌশল) ক্যাপ্টেন এম মহিদুল হাসান, পরিচালক (প্রশাসন) মো. মমিনুর রশীদ, পরিচালক (পরিবহন) মো. এনামুল করিম, সচিব মো. ওমর ফারুক, উপসচিব আজিজুল মাওলা প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১২৩৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০২০
এআর/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa