php glass

বিদ্যুৎ বিল বাঁচাতে…

উজ্জ্বল ধর, সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

রাতের ‘আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার’।ছবি: বাংলানিউজ

walton

চট্টগ্রাম: দিনের আলোয় রাস্তা দিয়ে ছুটে চলে ছোট বড় অসংখ্য গাড়ি। কেউবা আবার চালায় বেপরোয়া গতিতে। কিন্তু সন্ধ্যা হতেই নতুনরূপে আবির্ভূত হয় চট্টলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ‘আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার’।

এই ফ্লাইওভারের কোথাও একপাশে জ্বলছে এলইডি বাতি, আরেক পাশে জ্বলছে না। আবার উপরিভাগে বাতির আলো থাকলেও নীচের অংশ থাকছে অন্ধকারে। ফলে ফ্লাইওভারটিতে সন্ধ্যার পর সৃষ্টি হচ্ছে ভূতুড়ে পরিবেশ।

রাতের ‘আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার’।ছবি: বাংলানিউজঅথচ যাত্রার শুরুতে হাজারখানেক এলইডি বাতির আলোয় আলোকিত ছিল এই ফ্লাইওভার। এখন পর্যাপ্ত আলোর অভাবে সন্ধ্যার পর যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্ভোগ।

এমনিতেই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা এখানে অনেকটা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর এখন সন্ধ্যার পর স্থাপিত সড়কবাতির অর্ধেকও না জ্বলার কারণে অন্ধকারের মধ্যে বিভিন্ন লুপের সংযোগস্থল শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এই ফ্লাইওভার দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারীরা যানবাহনের চালকরা। তারা বলছেন, এখন সন্ধ্যার পর অর্ধেকেরও বেশি বাতি জ্বালানো হচ্ছে না।

রাতের ‘আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার’।ছবি: বাংলানিউজপ্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ৫.২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৫৪ ফুট প্রস্থের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের ওপর সড়ক বাতি ও নীচের সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যবহৃত বাতিতে প্রতিমাসে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে। এই বিল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) পরিশোধ করে আসছে। খুঁটিতে বিদ্যুৎ লাইনের ত্রুটির ফলে কিছু বাতি রাতে জ্বলছে না।

রাতের ‘আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার’।ছবি: বাংলানিউজতবে চউক এর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, এখানে প্রিপেইড মিটারে অগ্রিম বিল পরিশোধ করতে হয়্। কিন্তু নিজস্ব তহবিলে অর্থের সংকট থাকার ফলে সেই বিল পরিশোধ করতে এখন গলদঘর্ম হয়ে যাচ্ছে চউকের। তাই বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য অধিকাংশ সড়কবাতি জ্বালানো বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাতের ‘আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার’।ছবি: বাংলানিউজবিদ্যুৎ বিল কমানোর অজুহাতে ফ্লাইওভারের বাতি বন্ধ রাখার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে আখ্যায়িত করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা বলছেন, ‘এটা মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলার মতো অবস্থা’।

প্রায় ৬৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে নির্মাণ কাজ শুরু হয় আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের। ২০১৯ সালের প্রথম দিকে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় সড়কটি। তবে বৃষ্টি হলেই পানি নামতে না পেরে ফ্লাইওভারে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। তার ওপর এখন সৃষ্টি হয়েছে অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ।

রাতের ‘আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার’।ছবি: বাংলানিউজযদিও এই ফ্লাইওভার ব্যবহারে যানজট অনেকটা কমে এসেছে, তবে আলো না থাকার সুযোগে চুরি হচ্ছে মূল্যবান লোহা ও স্টীলের রেলিং পাইপ, বিদ্যুতের খুঁটি, তার ও লাইট। চোর ও অপরাধীচক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে চলেছে এই ফ্লাইওভার।

সাধারণত চউক প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তা সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করার নিয়ম থাকলেও নানা কারণে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারটি হস্তান্তর করা হয়নি। লোকবল সংকটের ফলে এর রক্ষণাবেক্ষণ আরো জটিল আকার ধারণ করছে প্রতিনিয়ত।

রাতের ‘আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার’।ছবি: বাংলানিউজআখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর একনেকের সভায় অনুমোদন পায়। এর মধ্যে মূল অবকাঠামো তৈরিতে ব্যয় হয় ৪৫০ কোটি টাকা এবং র‌্যাম্প ও লুপ তৈরি ও সৌন্দর্য বর্ধনে ব্যয় হয় ২৪৮ কোটি টাকা। ফ্লাইওভারটি নগরের মুরাদপুরে এন মোহাম্মদ কনভেনশন সেন্টারের সামনে থেকে শুরু হয়ে জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদের পশ্চিম গেটের সামনে হয়ে লালখানবাজারে এসে নেমেছে।

অপরদিকে বায়েজীদ সড়ক থেকে ওঠা-নামার জন্য দুটি লুপ রয়েছে, যা জিইসি মোড়ে এসে নেমেছে। ২০১৭ সালের জুনে ফ্লাইওভারটি প্রাথমিকভাবে খুলে দেওয়া হলেও পুরোপুরি খুলে দেয়া হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে।

বাংলাদেশ সময়: ১০০০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯
ইউডি/এসি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
ksrm
তিস্তার পানি বিপদসীমার উপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ঢাকা থেকে বিদায় নিচ্ছেন জাপানের রাষ্ট্রদূত
টাকা ভাগের কথা স্বীকার করায় ছাত্রনেতাকে হুমকির অভিযোগ
জাবির শিক্ষক-ছাত্রনেতার মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ
প্রাবন্ধিক মোতাহের হোসেনের প্রয়াণ


বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা সহজীকরণের সুপারিশ
কারাবন্দির তথ্য ডাটাবেজে থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যক্তির কারণে সংগঠনের ইমেজ ক্ষুণ্ন করতে চাই না
‘ছাত্রলীগ দিয়ে সিগন্যাল দিলেন প্রধানমন্ত্রী’
ডে-কেয়ার সেন্টার নিশ্চিতের নির্দেশ শ্রম প্রতিমন্ত্রীর