php glass

পুলিশের ভুলে ১৩ দিন কারাগারে, নিরপরাধ আবছারের মুক্তি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

নিরপরাধ নুরুল আবছার

walton

চট্টগ্রাম: চেক প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টের আসামি ধরতে গিয়ে সোর্স ও স্থানীয়দের দেওয়া ভুল তথ্যে গ্রেফতার হয়ে ১৩ দিন ধরে কারাগারে থাকা নিরপরাধ নুরুল আবছারকে মুক্তি দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (০২ সেপ্টেম্বর) পঞ্চম যুগ্ম-মহানগর দায়রা জজ মো. জহির উদ্দিনের আদালত এ আদেশ দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মুক্তির আদেশ পাওয়া নুরুল আবছার সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মধ্যম গারাংগিয়া এলাকার মৃত নুরুন্নবীর ছেলে।

নুরুল আবছারকে যে মামলা গ্রেফতার করে সাতকানিয়া পুলিশ কারাগারে পাঠিয়েছিল সেই মামলার প্রকৃত আসামি সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া হাতিয়ারপুল এলাকার নুরুল কবির আলমের ছেলে নুরুল আবছার (৩৩)। আসামি নুরুল আবছার চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানহাট মিঠাগলি ফজিলা মার্কেটের নিউ মোটর বিতানের মালিক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পঞ্চম যুগ্ম-মহানগর দায়রা জজ আদালতের পেশকার ফরিদ আহমদ বাংলানিউজকে বলেন, সাতকানিয়া থানার পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. জহিরুল ইসলাম চেক প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টের আসামি ধরতে ভুলবশত প্রকৃত আসামি নুরুল আবছারের পরিবর্তে আরেকজন নুরুল আবছারকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করেছিলেন গত ১৯ আগস্ট। পরে আদালত গ্রেফতার নুরুল আবছারকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন। পরে এএসআই মো. জহিরুল ইসলাম আদালতে আবেদনের মাধ্যমে জানান তিনি যে নুরুল আবছারকে গ্রেফতার করেছিলেন তিনি প্রকৃত আসামি নন এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস তিনি আদালতে উপস্থাপন করেন। পরে আদালত গ্রেফতার নুরুল আবছারকে মুক্তির আদেশ দেন।

পঞ্চম যুগ্ম-মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর উত্তম কুমার দত্ত বাংলানিউজকে বলেন, পুলিশের ভুলে নিরপরাধ নুরুল আবছার ১৩ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। সোমবার আদালত নুরুল আবছারকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। আসামি ধরার ক্ষেত্রে পুলিশের আরও যাচাই বাছাই করা উচিত।

নুরুল আবছারকে গ্রেফতার করা এএসআই মো. জহিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, চেক প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টের আসামি নুরুল আবছারকে গ্রেফতার করতে গারাংগিয়া এলাকায় যাই। পরে সোর্সের দেওয়া তথ্যে নুরুল আবছারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।

এএসআই মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, নুরুল আবছারকে যখন গ্রেফতার করি ওয়ারেন্টে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় ব্যক্তি ও ইউপি সদস্যের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি সেই নুরুল আবছার কী না। তারা সবাই জানান গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিই সেই নুরুল আবছার। এছাড়া নুরুল আবছার বা তার পরিবারের কেউ পুলিশকে বলেননি তিনি (গ্রেফতার নুরুল আবছার) কোনো মামলা আসামি নন। নুরুল আবছার কারাগারে যাওয়ার কয়েকদিন পর জানতে পারি তিনি প্রকৃত নুরুল আবছার নন। তখন কারাগারে থাকা নুরুল আবছারের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট জোগাড় করে আদালতে নুরুল আবছারকে মুক্তি দিতে আবেদন করেছি।

প্রকৃত আসামি সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া হাতিয়ারপুল এলাকার নুরুল কবির আলমের ছেলে নুরুল আবছার বর্তমানে ব্রাজিলে অবস্থান করছেন বলে জানান এএসআই মো. জহিরুল ইসলাম।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, আসামি নুরুল আবছার ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে বহদ্দারহাট শাখার অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৮১ টাকার চেক প্রদান করেন। ১৭ এপ্রিল সেই চেক ডিসঅনার হয়। পরে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড প্রধান কার্যালয়ের পক্ষে ওয়াসা শাখার সহযোগী ম্যানেজার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বাদি হয়ে নুরুল আবছারের নামে আদালতে চেক প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল এ মামলায় আসামি নুরুল আবছারকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও চেকের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করেন পঞ্চম যুগ্ম-মহানগর দায়রা জজ মো. জহির উদ্দিনের আদালত।

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৯
এসকে/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ শাহাদাত
অভিজিত হত্যা মামলায় আরও দুজনের সাক্ষ্য
তিন শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ কিশোর আটক
না'গঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভে পুলিশের বাধা, আটক ১
নিজ পকেটের টাকায় বার্সায় ফিরতে হবে নেইমারকে!


বিএবির প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
খা‌লেদার অবমাননা মামলার অ‌ভি‌যোগ গঠন শুনা‌নি ৪ ডিসেম্বর
মহেশপুরে অস্ত্রসহ ডাকাত আটক
ডিএসইর সূচক বাড়লেও কমেছে সিএসইতে
মাঠে সতীর্থকে মেরে বড় শাস্তির মুখে শাহাদাত