php glass

খাতুনগঞ্জে এলো মিয়ানমারের পেঁয়াজ!

আল রাহমান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

...

walton

চট্টগ্রাম: ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে এসেছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চীন, মিশরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির ব্যাপারে খোঁজখবরও রাখছেন ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের আল হাকিম বাণিজ্যালয়ে সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নাসিক জাতের পেঁয়াজ পাইকারিতে বিক্রি হয় ৪০-৪১ টাকা। এর বিপরীতে মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৭ টাকা।

খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের বড় বিপণিকেন্দ্র হামিদউল্লাহ মার্কেট। এ মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বাংলানিউজকে বলেন, ঈদুল আজহার পর থেকে ক্রমে যখন ভারতের পেঁয়াজের দাম বাড়ছে তখন সুখবর হচ্ছে রোববার (১ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমারের এক ট্রাক পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের পাইকারি আড়তে ঢুকেছে। আকারে কিছুটা ছোট হলেও বাজারে মোটামুটি প্রভাব ফেলেছে। আমদানিকারকেরা যদি লাভবান হন, তবে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। ভারত ও মিয়ানমারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছেন অনেক ব্যবসায়ী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাতুনগঞ্জে সারা বছর পেঁয়াজ আসে ভারত সীমান্তবর্তী হিলি, ভোমরাসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর থেকে। বেপারীরা ট্রাকে করে পেঁয়াজ এনে বিভিন্ন আড়তে ভাগ করে দেন। আড়তদার কমিশনের ভিত্তিতে পেঁয়াজ বিক্রি করেন পাইকারিতে। একজন খুচরা বিক্রেতা বা পাইকারি ক্রেতা আড়ত থেকে পেঁয়াজ কিনলে কেজিপ্রতি ৩০ পয়সা আড়তদারি দিতে হয়। এ ছাড়া আড়ত থেকে রিকশা, পিক আপ বা ট্রাকে পেঁয়াজের প্রতি বস্তা তোলা বাবদ কুলিকে দিতে হয় ১৫ টাকা। আড়তদার কেজিপ্রতি ৩০ পয়সা কমিশন পেয়ে থাকেন বেপারীর কাছ থেকেও। তবে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকেরা চীন, মিশর, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেন। মানে ও দামে ভারতের পেঁয়াজের চেয়ে কম হলেও হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিয়ে, মেজবানে এ ধরনের পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে।

.....খুচরায় হাফ সেঞ্চুরি পেঁয়াজের

পাইকারিতে বা আড়তে ৪০-৪১ টাকায় প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হলেও খুচরা দোকানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। কেউ কেউ আরও বেশিও দাম হাঁকছেন। সরেজমিন মোমিন রোড, এসএস খালেদ রোড, আসকার দীঘির পাড়, কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন খুচরা দোকানে এমন চিত্র দেখা গেছে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য হওয়ায় প্রতিবস্তায় ৩-৪ কেজি পচা পড়ে। এরপর আড়তের কমিশন, কুলিদের মজুরি, গাড়িভাড়া, পলিথিন, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীর বেতন এসব মিলিয়ে খুব একটা লাভ করা যায় না। নিয়মিত ক্রেতাদের ধরে রাখার জন্য পেঁয়াজ রাখতে হচ্ছে দোকানে। নয়তো ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশি পেঁয়াজ নেই পাইকারি বাজারে

পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজ মৌসুমে কিছুটা দেখা গেলেও বছরের অন্যান্য সময় ভারতের নাসিকের রাজত্বই চলে। মুড়িকাটা পেঁয়াজের মৌসুমের বাইরে হাতেগোনা দু-একটি আড়তে দেশি পেঁয়াজ থাকলেও পরিমাণে খুব কম।

এ প্রসঙ্গে একজন আড়তদার বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ শৌখিন। তারা দেখতে সুন্দর, মানে ভালো এমন পেঁয়াজই কেনেন বেশি। যদিও নিম্নমানের হোটেল, রেস্তোরাঁ আর বস্তি এলাকায় কমদামি পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে।

কমেছে আদা রসুনের দাম

খাতুনগঞ্জে কিছুটা কমেছে চীনা আদা ও রসুনের দাম। ঈদুল আজহার আগে যে রসুন বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা, সেটি এখন পাইকারিতে ১২৫-১২৬ টাকা। ১৬০ টাকার আদা এখন ১২০ টাকা।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৫০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৯
এআর/এসি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো কলেজছাত্রের
দুদকে ২ নতুন মহাপরিচালক
বেঁচে যাবো কখনো ভাবিনি...
দেশে রফতানি বাড়াতে দরকার পরিবহন খাতে উন্নয়ন: বিশ্বব্যাংক
আশুলিয়ায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার


ব্যাংকে আইটিভিত্তিক মানবসম্পদ উন্নয়নে বাজেট বাড়াতে হবে
ফেনী ইউনিভার্সিটিতে সাহিত্যে বিষয়ক কর্মশালা
‘ভারতের প্রধান বিচারপতিকে মোদীর চিঠি লেখার খবর মিথ্যা’
মিরপুরে বাসের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু
দেশের সব নাগরিককে স্বাস্থ্য বিমার আওতায় আনা হবে