php glass

স্ত্রীকে বাজে কথা বলায় ডেকে নিয়ে খুন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ফাহিম খুনের ঘটনায় গ্রেফতার আরিফ। ছবি: বাংলানিউজ

walton

চট্টগ্রাম: একসঙ্গে বাসায় বসে আড্ডা দিতেন দুই বন্ধু শাখাওয়াত হোসেন ফাহিম (২১) ও মো. আরিফ (২২)। বাসায় স্ত্রী থাকার সুযোগে একই সঙ্গে সেবন করতেন ইয়াবা। ইয়াবার আসরে মো. আরিফের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলতেন শাখাওয়াত হোসেন ফাহিম। খোদ আরিফের কাছে ফাহিম বলতেন- তার স্ত্রীর সঙ্গ পেতে চান। আর এসব বিষয় নিয়ে ক্ষোভ থেকে শাখাওয়াত হোসেন ফাহিমকে গলাকেটে খুন করেন আরিফ।

বুধবার (২৮ আগস্ট) নগরের মোমিন রোডের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান।

গত ২৩ আগস্ট সকালে ডিসি রোডের আবু কলোনীর পাশে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে শাখাওয়াত হোসেন ফাহিমের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এসএম মেহেদী হাসান বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলায় ক্ষোভ থেকে মূলত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে আরিফ। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে আরিফ। আরিফ দাবি করেছে- সে একাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

তিনি জানান, দুই বন্ধু শাখাওয়াত হোসেন ফাহিম ও মো. আরিফ প্রায় সময় আড্ডা দিত। ডিসি রোডের আবু কলোনীর পাশে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় টিনশেডঘেরা পানির টাংকি ও ভাড়াটিয়া বিপ্লব দে’র রুমেও আড্ডা দিত তারা। আড্ডাতে ইয়াবা সেবন করতো এবং প্রায় সময় আরিফের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলতো ফাহিম। এ নিয়ে আরিফের মনে ক্ষোভ জন্মে।

পুলিশ কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার দুইদিন আগেও আরিফের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলে ফাহিম। আরিফের কাছে ফাহিম বলেন- তার স্ত্রীর সঙ্গ পেতে চান। ওইদিনের পর আরিফ ফাহিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ২০ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে আরিফ বাসা থেকে একটি কাঁথা ও একটি ছুরি নিয়ে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় টিনশেডঘেরা পানির টাংকির ওখানে যায়। সাড়ে সাড়ে ৮টার দিকে গলির মুখে দাঁড়িয়ে শাহাব উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মোবাইল থেকে ফাহিমকে ফোন করে ওখানে আসতে বলে। ফাহিমের আসতে দেরি হওয়ায় শাহজাহান আরেকজনের মোবাইল থেকে ফের ফোন করে। পাহিম আসলে তাকে নিয়ে পানির টাংকির ওখানে গিয়ে আড্ডা দেওয়ার জন্য বসে। একপর্যায়ে ফাহিমের গলায় ছুরি বসায় আরিফ। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ফাহিমের বুকে, পেটে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার সেখান থেকে চলে যায় আরিফ। ঘটনার তিন দিন পর ২৩ আগস্ট ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এসএম মেহেদী হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই আরিফ ভোলার জেলার রতনপুর এলাকায় তার খালার বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করে। মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে ভোলার জেলার রতনপুর এলাকায় তার খালার বাড়ি থেকে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। আরিফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী- হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতার আরিফ চকবাজার ডিসি রোডের মো. খোকন প্রকাশ হেনজা প্রকাশ আবদুর রহমানের ছেলে। হত্যার শিকার শাখাওয়াত হোসেন ফাহিম পটিয়া উপজেলার আজিমপুর এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে। ফাহিম ডিসি রোডের শহিদ কমিশনার গলির বাবুল কোম্পানির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবছার উদ্দিন রুবেল বাংলানিউজকে বলেন, হত্যার পরপরই স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় খুনির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে আমরা খবর পাই ভোলা জেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেছে আসামি। সেখানে অভিযান চালিয়ে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার সকালে আরিফকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

আবছার উদ্দিন রুবেল জানান, ২০ আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিল ফাহিম। ২২ আগস্ট তার পরিবার চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। ২৩ আগস্ট ডিসি রোডের আবু কলোনীর পাশে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে শাখাওয়াত হোসেন ফাহিমের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মুহাম্মদ আবদুর রউফ, চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার মুহাম্মদ রাইসু্ল ইসলাম, চকবাজার থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরীসহ অভিযান পারিচালনাকারী টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩৮ ঘণ্টা, আগস্ট ২৮, ২০১৯
এসকে/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
পুরুষ নির্যাতন দমন আইন পাসের দাবি
সাভারে পিকআপ ভ্যান খাদে পড়ে হেলপার নিহত
৩৯তম বিসিএস: ৪৪৪৩ জন চিকিৎসক নিয়োগ
অযৌক্তিক আইন সংশোধনে প্রয়োজনে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে
সিসিকে তিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, হোটেল সিলগালা


রোহিঙ্গাদের এনআইডি: ইসির অফিস সহকারী ৪ দিনের রিমান্ডে
নিত্যপণ্যের দাম বেশি রাখলেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলগালা
বশেমুরবিপ্রবিতে সাবেক ভিসির কর্মকাণ্ডের তদন্ত শুরু
ঝালকাঠি থেকে ৯ রুটে বাস চলাচল বন্ধ
রূপালীর মনোরঞ্জন দাসের জামিন হয়নি