php glass

রোহিঙ্গা ফেরাতে ভারত-চীনকে পাশে রাখতে হবে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বক্তব্য দেন মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম। ছবি: সোহেল সরওয়ার

walton

চট্টগ্রাম: রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফেরাতে বৃহৎ দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও চীনকে বাংলাদেশের পাশে রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ভারত ও মিয়ানমার বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করছে না। তাদের কারণে পশ্চিমা বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপকে উপেক্ষা করে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমার কোনো উদ্যোগই নেয়নি।

‘মিয়ানমার নিয়ে ভারত ও চীনের কৌশলগত আগ্রহ থাকলেও বাংলাদেশকে তাদের বুঝাতে হবে- রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি। মিয়ানমারকেই এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।’

সোমবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলানিউজ আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা ফেরাতে বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলানিউজের চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন ব্যুরো এডিটর তপন চক্রবর্তী। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন।

মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কিছু প্রস্তাবনা পেশ করে। কিন্তু চীনের ভেটোর কারণে তা আর বাস্তবায়ন করা যায়নি।

রোহিঙ্গা নিধন কার্যক্রমে জড়িত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রবেশে আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ নিষেধাজ্ঞা দিলেও সম্প্রতি ভারত তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ঊষ্ণ অভ্যর্থনা দিয়েছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের প্রতি ভারত ও চীনের এক ধরণের নিরব সমর্থনের কারণে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপকে পাত্তা দিচ্ছে না।

‘রোহিঙ্গা ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভারত ও চীনকে পাশে পেতে বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে।’ যোগ করেন এ নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

বক্তব্য দেন মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম। ছবি: সোহেল সরওয়ার

রোহিঙ্গা নিধন পরিকল্পিত

মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের আমরা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করলেও মিয়ানমার সরকার তাদের পরিকল্পিতভাবে দেশ থেকে তাড়িয়েছে। নির্যাতন করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের উপর নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে।

তিনি বলেন, একটি দেশের সরকার যখন একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর উপর নিধনযজ্ঞ চালায়, তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে তখন সেখানে ওই জনগোষ্ঠী অসহায় হয়ে পড়ে।

‘যে পরিকল্পনা নিয়ে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ফের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে তার থেকে বড় পরিকল্পনা নিতে হবে। এটা কূটনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই সম্ভব।’

মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাজ করার সময় তাদের জাতীয় নিরাপত্তা সেলের একটি প্রতিবেদন পড়ার সুযোগ হয়েছিলো। সেখানে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন উল্লেখ করেছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন রোহিঙ্গা এবং রাখাইন- দুটি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি চিত্র তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের পরিবারে ৫-৭ জন করে ছেলে-মেয়ে থাকলেও বিপরীতে রাখাইন পরিবারে ছেলে-মেয়ে আছে মাত্র ২-৩ জন করে।

‘গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের আশঙ্কা ছিলো, রোহিঙ্গারা জনসংখ্যায় সংখ্যাগুরু হলে একটা সময় আরাকানকে স্বাধীনতার ডাক দিতে পারে। কারণ আরাকান কিন্তু এক সময় স্বাধীন ছিলো। ফলে মিয়ানমার তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে শঙ্কার মধ্যে পড়ে। রোহিঙ্গাদের নিধনে মনোনিবেশ করে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৫ ঘণ্টা, আগস্ট ২৬, ২০১৯
এমআর/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম রোহিঙ্গা
জঙ্গি দমনে ‘অলআউট’ প্রচেষ্টায় অনেকটা সফল
সিলেটে ছেলের হাতে মা খুন
নরসিংদীতে পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন শুরু
কটিয়াদীর ফটিক হত্যার সব আসামি খালাস
এ ফুল শ্রদ্ধার ও ভালোবাসার


পাকুন্দিয়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিশু নিহত
ট্রেলার নিয়ে এলো দীপিকার আলোচিত সিনেমা ‘ছপাক’
বগুড়ায় বসুন্ধরা সিমেন্টের রাজমিস্ত্রি কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের তাগিদ
কোটালীপাড়ায় ২ মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে পুলিশসহ নিহত ২