php glass

লক্কড়ঝক্কড় কালুরঘাট সেতু

সোহেল সরওয়ার, সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

লক্কড়মার্কা কালুরঘাট সেতু। ছবি: বাংলানিউজ

walton

চট্টগ্রাম: খানাখন্দে ভরা জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতু। দিন যত গড়াচ্ছে জনদুর্ভোগ চরমে উঠছে। প্রায়ই সেতুর ওপর গাড়ি বিকল হয়ে বন্ধ থাকছে যানবাহন চলাচল।

রোববার (৪ আগস্ট) সকালে সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাস বিকল হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। সেতুর উভয় পাড়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।

লক্কড়মার্কা কালুরঘাট সেতু। ছবি: বাংলানিউজ২০০১ সালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কালুরঘাট সেতুকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল। এ ঘোষণার দেড়যুগ পার হলেও লক্কড়ঝক্কড় এ সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে সমানতালে। আগের তুলনায় যানবাহন বেড়েছে কয়েকগুণ।

জানা যায়, ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মা ফ্রন্টের সেনা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্ণফুলী নদীতে একটি আপদকালীন সেতু তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

লক্কড়মার্কা কালুরঘাট সেতু। ছবি: বাংলানিউজব্রিটিশ আমলে নির্মিত কালুরঘাট সেতু ১৯৩১ সালের ৪ জুন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। রেলওয়ের নথিতে এটির নাম কর্ণফুলী রেল সেতু। ২ হাজার ৯৪ ফুট দীর্ঘ সেতুটি মূলত ট্রেন চলাচলের জন্য নির্মিত হয়েছিল। সেতুতে ইস্পাতের পাটাতন স্থাপন ও বিটুমিন দিয়ে পাকা রাস্তা তৈরি করে ৩১ বছর পর ১৯৬২ সালে বাস, ট্রাকসহ সাধারণ যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়।

সেই থেকে ট্রেনের পাশাপাশি চলছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যান। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ভূসম্পত্তি বিভাগ সেতুটি তত্ত্বাবধান করে আসছে। ৪৬ বছর আগেই সেতুর মেয়াদ পেরিয়ে যায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে চালু আছে সেতুটি।

লক্কড়মার্কা কালুরঘাট সেতু। ছবি: বাংলানিউজএ পর্যন্ত সেতুর রেলিং ভেঙে একাধিকবার ট্রাক, বাস ও কোচ কর্ণফুলী নদীতে পড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনার পর প্রতিবারই মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর কিছুদিন অবকাঠামো ঠিক থাকে। বছর না ঘুরতেই আবার নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের যাতায়াতের জন্য এই একমুখী সেতুর কারণে দুইপাশে যানজটের পাশাপাশি সেতুর ওপর চাপও বেড়েছে। সেতু না থাকলে মানুষের যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হবে তা মেরামতের সময়ের চিত্রই বলে দেয়। এ সময় ফেরি কিংবা নৌকায় করে নদী পারাপার হতে হয়।

লক্কড়মার্কা কালুরঘাট সেতু। ছবি: বাংলানিউজদেখা গেছে, সেতুর ওপরের কার্পেটিং অনেক স্থানে উঠে গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে লোহার পাত ভেঙ্গে গেছে এবং সেতুর গায়ের লোহায় ধরেছে মরিচা। এ অবস্থায় মাঝেমধ্যে জোড়াতালি দিয়ে চলে সংস্কার কাজ। সেতুর দুইপাশে যানজট লেগেই থাকে সব সময়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলে তা ব্যবহার করা উচিত নয়। সেতুর লোহার পিলার ৬০-৭০ বছর ব্যবহারের পর বাদ দেওয়া উচিত।

সরকারের কাছে কালুরঘাটে নতুন একটি সড়ক সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। সেতুর জন্য কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদসহ একাধিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে।

বাংলাদেশ সময়: ১০২০ ঘণ্টা, আগস্ট ৯, ২০১৯
এসএস/এসি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
ksrm
রোববার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আজিজের মরদেহ আসবে কমলনগরে
পরাজয় এড়াতে লড়ছে ইংল্যান্ড
পয়েন্ট হারালো রিয়াল মাদ্রিদ
কুতিনহোর অভিষেক ম্যাচে লেভানডভস্কির হ্যাটট্রিক
মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে সরকার: বিএনপি


অরুণ জেটলির মৃত্যুতে মোয়াজ্জেম আলীর শোক
নভোচারী নিল আর্মস্ট্রংয়ের প্রয়াণ
বিপিএলে অংশ নিচ্ছে সিলেট সিক্সার্স
সালাহর জোড়া গোলে লিভারপুলের জয়
ওএসডি হচ্ছেন জামালপুরের ডিসি