php glass

‘ছেলেকে ঈদে নতুন পোশাক নয়, ওষুধ কিনে দিয়েছি’

সিফায়াত উল্লাহ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঈদের দিনও স্বাভাবিকভাবে চলছে চমেক হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা।

walton

চট্টগ্রাম: ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু মো. তৌহিদ (৭) দুই সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলায়। বাবা দিনমজুর, এক ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট তৌহিদ।

ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে রয়েছেন তৌহিদের মা নুর বানু। ৯ নম্বর শিশু মেডিসিন বিভাগে ১০ নম্বর বেডে চিকিৎসা চলছে তার। ক্যান্সার আক্রান্ত তৌহিদকে নিয়ে এবার হাসপাতালে ঈদের সময়টা পার করতে হচ্ছে নুর বানুকে।

বাংলানিউজকে নুর বানু বলেন, ঘন ঘন জ্বর উঠতো তৌহিদের। এরপর চিকিৎসক দেখালে কিছু এক্স-রে দেন। পরে চিকিৎসকরা জানান, তৌহিদের শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়েছে।

‘দুই মেয়ে বড়। তারা স্কুলে পড়ে। তৌহিদকে এখনো স্কুলে ভর্তি করিনি। তার বাবা দিনমজুর, আয়ের টাকায় সংসার চালাতে টানাটানি। তবুও ঈদে ছেলে-মেয়েকে নতুন পোশাক কিনে দিতাম। কিন্তু এবার ঈদের পোশাকের টাকায় ছেলেকে ওষুধ কিনে দিয়েছি।’ কথাগুলো বলতে বলতে নুর বানুর চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় অশ্রু ঝরছিল।

সারাদেশ যখন ঈদ আনন্দে ভাসছে, তখন চমেক হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে তৌহিদের মতো হাজারো রোগী ও তাদের পরিবারের।

সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডেই কমবেশি রোগী রয়েছে। জরুরি বিভাগ খোলা। সেখানে চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন।

অর্থোপেডিক্স বিভাগে কথা হয় দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরিবহন শ্রমিক আবদুল মালেকের (২৪) সঙ্গে। দুর্ঘটনায় তার ডান পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুস্থ হতে আরও সময় লাগবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তাই আবদুল মালেকের কাছেও নেই ঈদ আনন্দ।

বাংলানিউজকে তিনি বলেন, সাধ্যের মধ্যে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতাম। ঈদের দিন নামাজ শেষে আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় যেতাম। এবার কিছুই হলো না।

নিউরোসার্জারি বিভাগে কথা হয় নুর হোসেনের সঙ্গে। নোয়ালখালীর বাসিন্দা নুর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, কোমরে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

‘চিকিৎসক জানিয়েছেন, মেরুদণ্ডে সমস্যা আছে। অস্ত্রোপচার  করতে হবে। তবে এখানে অস্ত্রোপচার করাতে সময় লাগে। এখনো তারিখ নির্ধারণ করেনি। তাই অপেক্ষা করছি।’

‘ঈদের দিনও হাসপাতালে চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। নার্সরা ওষুধ দিচ্ছেন। আয়া-ওয়ার্ডবয়রা নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন’ বলেন নুর হোসেন।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার রাজীব কুমার দে বাংলানিউজকে বলেন, এক হাজার ৩১৩ শয্যার এ হাসপাতালে দুই থেকে আড়াই হাজার রোগী নিয়মিত ভর্তি থাকে। এ ছাড়া প্রতিদিন ছয়শ থেকে নয়শ রোগী জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে আসে।

এদিকে ঈদের দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছে। সকালে দেওয়া হয় সেমাই। দুপুরে খাসির মাংস, পোলাও দেয়া হয়। রাতে দেওয়া হবে মুরগির মাংস ও ভাত।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের দিনও হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজনও করা হয়েছে।

‘রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক সেবা চালু আছে। গাইনি, হৃদরোগ, নিউরোসার্জারি, মেডিসিনসহ ব্যস্ত বিভাগগুলোতে অতিরিক্ত চিকিৎসক দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি নার্স, আয়া-ওয়ার্ডবয়রা ডিউটি করছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩৬ ঘণ্টা, জুন ০৫, ২০১৯
এসইউ/এসি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বিরোধী দলীয় নেতার অভিনন্দন
খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে কর্মসূচি দেবে ২০ দল
ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে সেরাটাই খেলতে চান মাশরাফি
মাদক মামলায় মিয়ানমার নাগরিকের কারাদণ্ড


একাধিক রেকর্ড গড়ার ম্যাচে সাকিবই ম্যাচ সেরা
সাকিবময় জয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর অভিনন্দন
টুইটারে প্রশংসায় ভাসছেন সাকিব
৮ শতাংশ কর প্রত্যাহার চায় বিসিএমএ
বন্ড দুর্নীতি মামলা: আটকে আছে সাড়ে ৩ কোটি টাকার রাজস্ব