php glass

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত চার বছরের সাতকাহন

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত চার বছরের সাতকাহন।

walton

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের মেয়াদ শেষ হতে বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। আগামী ১৪ জুন উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এখন চলছে এ প্রশাসনের মূল্যায়ন। বিগত চার বছরে কি কি অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে, প্রচলিত নিয়ম ভেঙে কি কি করা হয়েছে, গবেষণাখাতে উন্নয়ন কেমন হয়েছে- এসব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর প্রশাসন কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে সিদ্ধান্তগুলোর কারণে প্রশাসনের শত্রু বেড়েছে। প্রভাবশালীমহলের কাছে এ প্রশাসনের জনপ্রিয়তা কমেছে। তবে উপকৃত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

গত চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয় সীমানা নির্ধারণ করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মচারী নিয়োগ, ই-টেন্ডারের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফলে অতীতের মত প্রভাবশালী মহল নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি করতে পারেনি। যুগের পর যুগ দখলে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় শত শত একর জমি দখলে ছিল, সেগুলোও প্রভাবশালীদের হাত থেকে রক্ষা করেছে প্রশাসন।

সাড়ে ছয় বছরের সেশনজটকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম অর্জন বলেও মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অর্জনের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপন ও ‘জয় বাংলা’ ভাস্কর্য নির্মাণকে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রায় প্রতিটি সদস্যের নামে এ প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে স্থাপন করেছে হল, জিমনেসিয়াম, পার্কসহ নানা স্থাপনা।

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মৌলবাদি অপশক্তির দৃঢ় অবস্থানের ফলে বঙ্গবন্ধুর নামও মুখে আনা যেত না সে বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন চারিদিকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে দৃশ্যমানভাবে।

এছাড়া ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, বাংলাদেশ স্টাডিজ, সঙ্গীত বিভাগ, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের মত নতুন পাঁচটি বিভাগ এবং মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটকে ফ্যাকাল্টিতে রুপান্ত করে ওশানোগ্রাফিসহ তিনটি নতুন বিভাগ চালু করার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় সমৃদ্ধ করেছে অনেক।

এছাড়া অতীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে পয়েন্ট কমিয়ে জিপিএ মাত্র ৩.০০ ধারীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত যোগ্যতার চেয়ে পয়েন্ট কমিয়ে কোনো শিক্ষক নিয়োগের কোন অভিযোগ নেই।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বিভাগ, নতুন হল ও পুরনো কয়েকটি হলে কর্মচারীর অভাবে অফিসিয়াল কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মাস্টার দা সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থীরা বাবুর্চি, ঝাড়–দাডসহ বিভিন্ন পদে কর্মচারী নিয়োগের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছে।

এছাড়া নতুন প্রতিষ্ঠিত বিভাগগুলোতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন অন্যান্য অফিসের দায়িতত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এসব সংকট নিরসনে লক্ষ্যে ইউজিসি’র বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে দৈনিক ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া প্রায় শতাধিক কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী করার মধ্য দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতের কয়েকটি প্রশাসন উপাচার্যের নিজস্ব ক্ষমতাবলে বিভিন্ন পদের বিপরীতে এডহক ও মাস্টাররোলে কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিল।

সেসকল প্রশাসন এসব কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করেনি। এদের মধ্যে অনেকে ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিল। বর্তমান প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে প্রায় এক’শ কর্মচারীর যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করে চাকরি স্থায়ী করেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫ সালের ১৫ জুন উপাচার্য পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ, প্রেরণায় বঙ্গবন্ধু- এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশরত্ম শেখ হাসিনার শিক্ষা-দর্শনের আলোকে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেছি। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সকল স্তরের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত-অবকাঠামো, শিক্ষা-গবেষণা খাতে উন্নয়ন অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘সাড়ে ছয় বছরের সেশনজট বর্তমান প্রশাসনের নিরলস পরিশ্রমের ফলে এখন শূন্যের কোটায়। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ভিত ভেঙে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালজুড়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে চেতনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এ প্রশাসনই প্রথমবারের মত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনই সীমানা নির্ধারণ করে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারদিকে সীমানপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে যুগের পর যুগ ধরে প্রভাবশালী মহলের দখলে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভূমিদস্যুদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে।’

কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের বিভিন্ন প্রশাসনের সময়ে এডহক ও মাস্টাররোলে নিয়োগ পাওয়া প্রায় শতাধিক কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছিল। ১০-১৫ বছর তারা নিজেদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিল। এরপর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, তাদের স্থায়ী করার। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রায় এক বছর ধরে যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে তাদের স্থায়ী করা হয়ে। প্রায় তিন হাজার প্রার্থীর মধ্য থেকে লিখিত, মৌখিক এবং ক্ষেত্র বিশেষে ব্যবহারিক পরীক্ষা নিয়ে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যা বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে হয়েছে কি-না আমার জানা নেই।

উপাচার্য আরো বলেন, কর্মচারী স্থায়ীকরণের এ বিষয়টিকে নতুন নিয়োগ বলে চালিয়ে দিয়ে গণমাধ্যমে মিথ্যাচার করেছে একশ্রেণীর কুচক্রীমহল। কয়েকটি গণমাধ্যম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ না করে কারো এজেন্ডার অংশ হিসেবে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি লক্ষ্যে খন্ডিত তথ্য প্রচার করেছে।

বলা হয়েছে, ইউজিসি’র নিষেধাজ্ঞার পরও দৈনিক ভিত্তিতে কর্মচারী নিয়োগ হয়েছে। অথচ ইউজিসি দৈনিক ভিত্তিতে কর্মচারী নিয়োগে কোনো নিষেধাজ্ঞাই দেয়নি। উল্টো ইউজিসি দৈনিক ভিত্তিতে কর্মচারী নিয়োগ দিতে পদ ও অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি’র নিষেধাজ্ঞার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও এডহক এবং মাস্টার রোলে কোনো কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ এর অ্যাক্ট অনুযায়ী পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৫ ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিধান রয়েছে। এগুলো হল স্থায়ী, অস্থায়ী, অ্যাডহক, মাস্টাররোল ও দৈনিক মজুরীভিত্তিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে প্রশাসন এগুলোর যে কোনো একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে সকল কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পর্ষদগুলোতে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট অনুযায়ী সভাপতিত্বই করেন শুধুমাত্র।’ 

তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ দফতরের নিকট থেকে তথ্য সংগ্রহ না করে অযথা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিয়ে জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়েছে। কারা, কেন, কিসের বিনিময়ে এসব মিথ্যাচার করছে তা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে সহজেই অনুমেয়।’

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমালোচনাও রয়েছে কিছু। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদে উপাচার্যের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় বিভিন্ন মহলে। বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন-আদর্শ নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন চরিত নিবিড়ভাবে পাঠ ও চর্চার জন্য বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ (বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্র)।

এটি প্রতিষ্ঠার পর গঠিত নীতিমালা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু চেয়ার নির্বাহী কমিটি বঙ্গবন্ধু, মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চেতনা সমৃদ্ধ লেখা, জননেত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষা ও উন্নয়ন দর্শন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসহ দেশের শিল্পায়ন, নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন অঙ্গীকার নিয়ে বিপুল সংখ্যক প্রকাশিত লেখালিখিগুলোকে বিবেচনায় এনে বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে (বর্তমান উপাচার্য) বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদে যোগদানের প্রস্তাব করে।

এর প্রেক্ষিতে নূন্যতম আর্থিক সুবিধা ব্যতিরেকে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু চেয়ার নির্বাহী কমিটির সকল সদস্য সর্বসম্মতিক্রমেই অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে এ পদে যেতে প্রস্তাব করেন।

এ বিষয়ে ওঠা সমালোচনার বিষয়ে প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়ার নির্বাহী কমিটি আমাকে প্রস্তাব করেছে এ গবেষণা কেন্দ্রের দায়িত্ব নিতে। আমি সে প্রেক্ষিতে কোনো আর্থিক সুবিধা ব্যতিরেকে এ দায়িত্ব গ্রহন করেছি। এবং ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু বইমেলাসহ নানা কার্যক্রম দৃশ্যমান। এক বছরের পরিকল্পনাও আমি জমা দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু চেয়ার নির্বাহী কমিটি কর্তৃক আমাকে এ পদে যোগদানের প্রস্তাবকে যদি আমি প্রত্যাখ্যান করতাম তাহলেও কিন্তু সমালোচনা হত।

আমি মনে করি, রহস্যজনক কারণে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রত্যক্ষ মদদে বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বপালনরত কেউ কেউ। যা বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার শামিল।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ১৭ জন শিক্ষককে চবি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফেরত পাঠানো বিষয় নিয়েও রয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দফতরের বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিগত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইনিস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ-এ (আইইআর) ১৭ জন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এ বিষয়ে আপত্তি জানায়। কারণ হিসেবে ইউজিসি উল্লেখ করে, চবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই আইইআর এ আত্তীকরণ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে।

এ শিক্ষকদের চবি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফেরত পাঠানোর সুপারিশ করে ইউজিসি। এবং ইউজিসি তাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে অর্থ বরাদ্দ বাতিল করে দেয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ইউজিসি’র সুপারিশ অনুযায়ী আইইআর এর শিক্ষকদের চবি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে ওই ১৭ জন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন চবি স্কুল অ্যান্ড কলেজে যোগদানও করেছে। তারা তাদের স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতাসহ সুবিধা ভোগ করছেন।

এ বিষয়ে প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়টি নিয়েও একটি মহল নানাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। এ বিষয়টি সম্পূর্ণ ইউজিসি’র বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় নিজ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইউজিসি’র তদন্ত কমিটি যা সুপারিশ করেছে তা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তা বাস্তবায়ন করেছে। এছাড়া ইউজিসি তাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে অর্থ বরাদ্দ বাতিল করেছে। তাদের অতীত কর্মস্থল চবি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফেরত পাঠাতে বলেছে। এখন বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালত যে রায় দিবে বিশ্ববিদ্যালয় তা বাস্তবায়ন করবে।

ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়ার মামলার আসামীদের কয়েকজন আত্মীয় চাকরি পেয়েছেন এ প্রশাসনের সময়ে। এ নিয়েও রয়েছে সমালোচনা। এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে কয়েক বছর আগে নিজ বাসায় সাবেক শিক্ষার্থী দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। কয়েকবছর হয়ে গেলেও সিআইডি এ মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি। যা দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলাটির তদন্ত দ্রুত শেষ করার মাধ্যমে এ মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন জরুরী বলে মনে করে।

আমরা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে অতীতের মত আবারো সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, নিয়োগ বোর্ড ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে প্রার্থীদের যোগ্যতাই সবচেয়ে বড় বিষয়। পুলিশ ভেরিফিকেশনও করা হয়েছে এসব চাকরির ক্ষেত্রে। আমার জানা মতে, এ মামলার কোনো আসামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পায়নি। এ সাবেক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনাকে পুঁজি করে ষড়যন্ত্রকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে।

উপাচার্য আরো বলেন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনকে নিয়ে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যায় সুবিধা অর্জনকারী কুচক্রীমহল। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে অন্যায় সুবিধা নিতে না পেরে বেনামে প্রশাসনের দায়িত্বপালনকারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্টার, লিফলেটও প্রচার করেছে। দুদকে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন ই-টেন্ডার প্রবর্তনের ফলে অনিয়মের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ নিতে ব্যর্থ হয়ে গুটিকয়েক ঠিকাদারও কুচক্রীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ফায়দা নিতে সচেষ্ট। যারা মূল দরের ১৫ শতাংশেরও বেশি দরে শত শত কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছিল; তাদের চক্ষুশুলে পরিণত হয়েছে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব বিষয় তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠিও দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কিন্তু দুদক বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীতে প্রশাসনগুলোর বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগ তদন্ত না করে বেনামে পাঠানো অভিযোগ, ভুল ও মিথ্যা তথ্যে ভরপুর পত্রিকার সংবাদকে রেফারেন্স হিসেবে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান প্রশাসনের কয়েকটি বিষয়কে তদন্ত করছে। আমরা দুদক কর্তৃক যেকোন তদন্তের বিষয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং অভিযোগ তদন্ত করাকে সাধুবাদও জানাই।

তিনি আরো বলেন, অতীতের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলো নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, টেন্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছে কি-না তা খতিয়ে দেখতেও দুদকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে চবির বর্তমান প্রশাসন ও অতীতে প্রশাসনগুলোর ব্যাপারে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সঠিক তদন্ত করতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করতেও সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ সময়: ২০১৫ ঘণ্টা, জুন ০৪, ২০১৯
জেইউ/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা
স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বিরোধী দলীয় নেতার অভিনন্দন
খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে কর্মসূচি দেবে ২০ দল
ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে সেরাটাই খেলতে চান মাশরাফি


মাদক মামলায় মিয়ানমার নাগরিকের কারাদণ্ড
একাধিক রেকর্ড গড়ার ম্যাচে সাকিবই ম্যাচ সেরা
সাকিবময় জয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর অভিনন্দন
টুইটারে প্রশংসায় ভাসছেন সাকিব
৮ শতাংশ কর প্রত্যাহার চায় বিসিএমএ