php glass

চট্টগ্রাম-ঢাকা

জ্বালানি তেল যাবে ৩০৫ কিমি পাইপলাইনে

আল রাহমান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্প। ছবি: বাংলানিউজ

walton

চট্টগ্রাম: সারাদেশে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে শিগগির।

প্রথম ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অনুকূলে ১ হাজার ৫৫ কোটি ৬৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে বিপিসি।

প্রকল্পের অধীনে ডিজেল পাঠানোর জন্য চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো পর্যন্ত ২৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ, গোদনাইল থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার ১০ ইঞ্চি ব্যাসের এবং কুমিল্লা থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত ৬ ইঞ্চি ব্যাসের ৫৯ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হবে।  

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমের পরই ৩০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপ লাইপ বসানোর কাজ পুরোদমে শুরু হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের বেসিক ডিজাইন অনুমোদন হয়ে ডিটেইল ডিজাইনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লায় একটি পাম্প হাউস থাকবে। পাইপ লাইনের কোনো অংশে সংস্কার বা মেরামতের প্রয়োজন হলে তেলের অপচয় রোধে ব্লক বাল্ব স্টেশন থাকবে। এ ছাড়া মাটির ৫-৬ ফুট গভীরে এ পাইপ লাইনে বসানো থাকবে অত্যাধুনিক সেন্সর সিস্টেম। এর ফলে যদি কোথাও পাইপ লাইনের ওপর খননকাজ বা আঘাত করা হয় সঙ্গে সঙ্গে সংকেত চলে যাবে কনট্রোল রুমে।

প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর একনেকে অনুমোদন হয়। ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। অধীনে ৪৩৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।    

বিপিসি’র একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, সারা দেশে জ্বালানি তেল পরিবহনে বর্তমানে বিপিসিকে ছোট ছোট অয়েল ট্যাংকার, রেলের ওয়াগন আর সড়কপথে লরির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন হয়ে গেলে সারাদেশে কম খরচে নিরাপদে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হবে। বৈরী আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, যানজট, হরতাল, অবরোধ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময়ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা যাবে। এটি হবে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি।

বিপিসি’র পরিচালক (অর্থ) মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে তেল চুরি, অপচয় রোধ হবে অন্যদিকে দ্রুততম সময়ে কম খরচে সহজে জ্বালানি তেল পৌঁছানো যাবে। বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বিপিসির। বিশেষ করে বহির্নোঙর থেকে বড় জাহাজ (মাদারভ্যাসেল) থেকে ছোট জাহাজে (লাইটার ট্যাংকার) করে শোধিত ও অশোধিত তেল পতেঙ্গার প্রধান স্থাপনাগুলোতে নিয়ে আসতে হয়। তাই সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন প্রকল্পের মাধ্যমে আমদানি করা তেল দুইটি লাইনে পতেঙ্গা নিয়ে আসার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। একটি পাইপলাইন দিয়ে শোধিত তেল পদ্মা, মেঘনা, যমুনার তৈলাধারে চলে যাবে। আরেকটি লাইন দিয়ে অশোধিত তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে চলে যাবে।

পর্যায়ক্রমে পিতলগঞ্জ থেকে কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো, শিলগুঁড়ি থেকে পার্বতীপুর ইত্যাদি পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৪৮ ঘণ্টা, জুন ৪, ২০১৯
এআর/এসি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা
স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বিরোধী দলীয় নেতার অভিনন্দন
খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে কর্মসূচি দেবে ২০ দল
ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে সেরাটাই খেলতে চান মাশরাফি


মাদক মামলায় মিয়ানমার নাগরিকের কারাদণ্ড
একাধিক রেকর্ড গড়ার ম্যাচে সাকিবই ম্যাচ সেরা
সাকিবময় জয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর অভিনন্দন
টুইটারে প্রশংসায় ভাসছেন সাকিব
৮ শতাংশ কর প্রত্যাহার চায় বিসিএমএ