যেখানে রাত জাগা চোখে রাজ্যের ক্লান্তি

জমির উদ্দিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

খলিফাপট্টিতে ঈদের পোশাক সেলাইয়ে ব্যস্ত কারিগররা। ছবি: উজ্জ্বল ধর

walton

চট্টগ্রাম: গলির ভেতরে ঢুকতেই গরগর আওয়াজ। দুই পাশজুড়ে সারি সারি দর্জির দোকান। কারিগরদের একদল সেলাইয়ে ব্যস্ত। আর অন্যদল ব্যস্ত ফিনিশিংয়ে। ঘুমঘুম চোখ কচলে ঘুম তাড়ানোর চেষ্টায় কেউ কেউ। এভাবেই চলছে তাদের দিন-রাত।

php glass

ঈদকে সামনে রেখে নগরের খলিফাপট্টি সারাক্ষণ এভাবে জেগে থাকছে। রোজার প্রথম দিন থেকে ইফতার আর সেহেরি বাদে ১৭ ঘণ্টা কাজ চলছে সেখানে। আড়াইশ ব্যবসায়ী প্রায় দুই হাজার শ্রমিক নিয়ে ঈদের পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত। নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে শিশু ও বড়দের শার্ট-প্যান্ট এবং মেয়েদের থ্রি-পিসসহ নানা কাপড়।

খলিফাপট্টিতে ঈদের পোশাক সেলাইয়ে ব্যস্ত কারিগররা। ছবি: উজ্জ্বল ধররোববার (১২ মে) বিকেলে খলিফাপট্টির একটি কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, কমলা রংয়ের নেট কাপড়ে সোনালি রংয়ের পাথর বসানো হচ্ছে। সেলাইয়ের পর এ কাপড়টি গাউনে রূপ পাবে। তরুণীদের কাছে গাউনের কদর থাকায়, এসব কাপড়ের অর্ডার বেশি দর্জিপাড়ায়।

গলির ৫ নম্বর দোকানের কারিগর মো. হোসেন। ১৯৭৫ সাল থেকে তিনি এখানে কাজ করছেন। স্ত্রী-সন্তানরা নোয়াখালীতে থাকলেও জীবিকার তাগিদে এখানেই জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন।

খলিফাপট্টিতে ঈদের পোশাক সেলাইয়ে ব্যস্ত কারিগররা। ছবি: উজ্জ্বল ধরমো. হোসেন একটি গাউন দেখিয়ে বললেন, ‘পরিবারের ছোট মেয়েদের এ ধরনের কাপড় খুব বেশি পছন্দের। পয়সাওয়ালাদের জন্য বানাই, কিন্তু নিজের কেনার সামর্থ্য নেই।’

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এই গাউন তৈরিতে খরচ পড়েছে আড়াই হাজার টাকা। খুচরা পর্যায়ে ৬ হাজার টাকা আর পাইকারি পর্যায়ে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হবে।

‘সারাবছর এই ঈদেই আয় একটু বেশি। তাই এই সময়ে সবাই বেশি পরিশ্রম করে টাকা আয় করেন। অন্যান্য সময়ে কোনো বছর লাভ হয়, আর কোনো বছর লোকসান। সবমিলিয়ে মালিকরা যা দেন তা নিয়ে বাড়ি যেতে হয়’ বলেন মো. হোসেন।

মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোজার ঈদে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। সেহেরি ও ইফতারের সময়টুকু বাদ দিয়ে দিনে ১৭ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে শ্রমিকদের।

যেখানে কাজ সেখানেই বিশ্রাম

‘যেখানে রাত সেখানে কাত’ বহুল প্রচলিত এ কথাটি খলিফাপট্টিতে যেনো ‘যেখানে কাজ সেখানে কাত’ এ পরিপূর্ণতা পেয়েছে। যেসব দোকানে কারিগররা কাজ করেন সেসব দোকানেই গাদাগাদি করে যতটুকু সময় পান বিশ্রাম নেন।

৭ নম্বর দোকানের কারিগর কফিল উদ্দিন যে জায়গায় কাজ করছেন ওই জায়গা দেখিয়ে বলেন, ‘কাজ শেষে এই জায়গায় চারজন গাদাগাদি করে বিশ্রাম নিই।’ এতো পরিশ্রম করার পরও মালিকরা বেতন কম দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

খলিফাপট্টিতে ঈদের পোশাক সেলাইয়ে ব্যস্ত কারিগররা। ছবি: উজ্জ্বল ধরকফিল উদ্দিন বলেন, এখানে প্রতিটি দোকানের মালিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন। কিন্তু প্রতিজন কারিগরকে বেতন দেন মাত্র ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা।

ওই দোকানের আরেক কারিগর মো. জাকির বলেন, অন্যদের জন্য নতুন কাপড় সেলাই করলেও আমাদের ঈদ কাটে পুরোনো কাপড়ে। মালিকরা ইচ্ছে হলে বোনাস দেয়, নাহলে দেয় না। যে টাকা পাই, ওই টাকায় ভালো কাপড় কেনা যায় না।

দুই হাজার শ্রমিকের জন্য একটি টয়লেট

খলিফাপট্টিতে শতাধিক দোকানে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কাজ করলেও তাদের জন্য রয়েছে মাত্র একটি টয়লেট ও একটি গোসলখানা।

৭ নম্বর দোকানের কারিগর মো. জাকির হোসেন বলেন, সেহেরির সময় টয়লেটে যাওয়ার জন্য এক ঘণ্টা আগে লাইন ধরতে হয়। আমাদের জন্য খলিফাপট্টির কবির লেইনে মাত্র একটি টয়লেট আছে। আমাদের কথা ভাববে কে?

খলিফাপট্টিতে ঈদের পোশাক সেলাইয়ে ব্যস্ত কারিগররা। ছবি: উজ্জ্বল ধরজুসনা ফ্যাশনের কারিগর মো. মামুন হোসাইন বলেন, সবাই একই পরিবারের সদস্যের মতো চলি। তাই সমস্যা হয় না। ভাবা যায়, এতো শ্রমিকের বিপরীতে মাত্র একটি টয়লেট!

কাজ করছে শিশুরাও

খলিফাপট্টির শ্রমিকদের মধ্যে ৪০ শতাংশ শিশু। তারা মূলত হেলপার হিসেবে থাকা-খাওয়ার বিনিময়ে কাজ করছে।

মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজের শুরুতে বছর দুয়েক নগদ টাকা পায় না তারা। হেলপার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তারা শিখছে। মূলত তাদের কাজ পোশাকের সুতা কাটা, কাপড় ভাঁজ করে প্যাকেট করা ও সেলাই কারিগরদের সহায়তা করা।

খলিফাপট্টিতে ঈদের পোশাক সেলাইয়ে ব্যস্ত কারিগররা। ছবি: উজ্জ্বল ধরশ্রম আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাজে নেয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও অল্প পারিশ্রমিকে শিশুদের কাজে একশ্রেণির ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৫০ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১৯
জেইউ/এসি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
নাটোরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু
বাকেরগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে ১৫০ শতাংশ বেড বেড়েছে
পরিচালকদের শেয়ার ধারণে নোটিফিকেশন জারি করছে বিএসইসি
ত্রিপুরায় টিবিএসইর বিজ্ঞান বিভাগের ফল প্রকাশ


নলডাঙ্গায় ১৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল
নাদিয়ার সঙ্গে সজলের ‘ঝগড়া চলছে’!
পাগড়ি পেলেন বসুন্ধরা রহমানিয়া মাদ্রাসার ১৬ হাফেজ
তরুণীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, ইউপি সদস্য আটক
হালদায় নৌকা ধ্বংস, জাল জব্দ