থানায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে কমিটি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

রিকশাচালক ইউসুফ মিয়া।

walton

চট্টগ্রাম: বোয়ালখালীতে প্রভাবশালী প্রতিবেশীর সঙ্গে বাড়ির সীমানা বিরোধের জেরে রিকশাচালক মো. ইউসুফ মিয়াকে চার দিন ধরে থানায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

php glass

রোববার (১২ মে) বিকেলে তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা।

তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুলকে। কমিটিকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বাংলানিউজকে বলেন, ‘রিকশাচালক ইউসুফ মিয়াকে থানায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠায় সে ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুলকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

শনিবার (১১ মে) রাতে বাংলানিউজে ‘৪ দিন ধরে থানায় আটকে নির্যাতনের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) জসিম উদ্দিন খান।

বোয়ালখালী পৌরসভার পূর্ব গোমদণ্ডী এলাকায় প্রভাবশালী প্রতিবেশী শিমুল পালের সঙ্গে বাড়ির সীমানা বিরোধের জেরে রিকশাচালক ইউসুফ মিয়াকে চার দিন ধরে থানায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠে বোয়ালখালী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সামশুদ্দৌহা রাসেলের বিরুদ্ধে। চার দিনেও সীমানা বিরোধে সমাঝোতা করতে রাজি না হওয়ায় ওই রিকশাচালকের ছেলে মো. সেলিমকে মামলা দিয়ে চালান দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠে।

রিকশাচালক মো. ইউসুফ মিয়া (৬০) পূর্ব গোমদণ্ডী এলাকার আবদুল মজিদের ছেলে। তিনি নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় তিনি রিকশা চালান।

শনিবার থানায় আটক থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ইউসুফ মিয়াকে প্রথমে বোয়ালখালীতে একটি হাসপাতালে নিয়ে বোয়ালখালী থানা পুলিশ। পরে অবস্থার অবনতি হলে ইউসুফের পরিবারের কাছে তাকে তুলে দেয়। পরে ইউসুফের পরিবার তাকে বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। রিকশাচালক ইউসুফ মিয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রোববার বিকেলে ইউসুফ মিয়াকে হাসপাতাল থেকে তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন জানিয়ে রিলিজ দিয়ে দেওয়া হয়।

শনিবার রাতে রিকশাচালক ইউসুফ মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী শিমুল পালের সঙ্গে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় বার বার আমাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছেন।’

‘পাঁচ দিন আগে শিমুল পাল, সুবধ চন্দ্র পাল, মনোতোষ, খোকনসহ কয়েকজন আমার বাড়িতে গিয়ে আমার স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর করে। তারা আমার মেয়েকে নষ্ট করে।’ বলেন ইউসুফ মিয়া

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বুধবার আমাকে ও আমার ছেলে সেলিমকে থানায় ধরে নিয়ে এসে আটকে রাখেন এএসআই রাসেল। শিমুল পালের সঙ্গে সীমানার বিরোধ মেটাতে সমঝোতার জন্য আমাকে চাপ দেন তিনি। আমি রাজি না হওয়ায় আমাকে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলায় চালান দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন এএসআই রাসেল। তিনি আমাকে মারধরও করেন।’

বাংলাদেশ সময়: ২০৫৫ ঘণ্টা, মে ১২, ২০১৯
এসকে/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
গুলিস্তানে ছিনতাইকারী চক্রের ৫ সদস্য আটক
ঈদের পোশাকের টাকা না দেয়ায় ছেলের হাতে প্রাণ গেলো মায়ের
‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে ২০১৯’ উদযাপন
ককটেল বিস্ফোরণে নারী পুলিশ সদস্যসহ আহত ২
মিরপুরে সিঁড়ির ফাঁক দিয়ে পড়ে নারীর মৃত্যু


সৈয়দ আশরাফ ছিলেন তেজোদীপ্ত ও সাহসী: কৃষিমন্ত্রী
কাজী শুভ’র ‘ভুলিয়া না যাইও’
মোদীকে ইমরানের ফোন, একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান
পুণ্যময় রমজানে রিজিকে লাগে বরকতের ছোঁয়া
বিএনপির সিদ্ধান্তের কোনো ঠিক নেই: নাসিম