মায়ের কান্দন যাবজ্জীবন

নিউজরুম এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

প্রতীকী ছবি

walton

চট্টগ্রাম: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর সেই বিখ্যাত কবিতাটা কি মনে আছে? ‘কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা, শজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা, আর আমি ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি। খোকা তুই কবে আসবি, কবে ছুটি? চিঠিটা তার পকেটে ছিল ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা।’

php glass

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার শহীদ এক সন্তানের পকেটে পাওয়া গিয়েছিল সেই চিঠি-যেখানে ফুটে উঠেছিল সন্তানের ফিরে আসবার অপেক্ষায় থাকা এক মায়ের প্রতীক্ষার চিত্র।

মা শব্দটি এমনই। স্বর্গীয় পুণ্যতায় ভরা এই নাম হৃদয়-মনকে অমিয় সুধায় প্লাবিত করে। ত্রিভুবনের সবচেয়ে মধুরতম শব্দ মা। মাকে ভালোবাসতে দিন লাগে না, তবুও একটা দিন একটু বেশি করে মাকে ভালোবাসার পরিকল্পনাটা এসেছিল ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ৮ মে। সেদিন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা দিবস’ হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা দেয়া হয় মার্কিন কংগ্রেসে। আর তখন থেকেই এইদিনে সারাবিশ্বে পালিত হয় মা দিবস।

আল কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আমি মানুষকে তাদের পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি।’ হাদীসে হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।

সনাতন শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, নারী মহীয়সী মাতৃরূপে সংসারের অধ্যক্ষতা করবেন। তাই মনু ঋষি সন্তান প্রসবিনী মাকে গৃহলক্ষ্মী সম্মানে অভিহিত করেছেন। তিনি মাতৃ গৌরবের কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন এভাবে-‘দশজন উপাধ্যায় (ব্রাহ্মণ) অপেক্ষা একজন আচার্যের গৌরব অধিক, একশত আচার্যের গৌরব অপেক্ষা পিতার গৌরব অধিকতর; সর্বোপরি মাতা অধিকতর সম্মানযোগ্য।’

মা-ই যে সন্তানের পরম আশ্রয়স্থল, তাই শিল্পীর কণ্ঠেও এসেছে মাকে নিয়ে গান : মায়ের কান্দন যাবজ্জীবন/দু-চার মাস বোনের কান্দন রে/পাড়া-প্রতীবেশির কান্দন দু’দিন পর আর থাকে না/দুঃখের দরদী আমার জনমদুখী মা...।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তাঁর পার্থিব উপন্যাসে মাকে নিয়ে লিখেছেন-‘মানুষ যখন ভয় পায়, যখন বিপদে পড়ে, যখন মনে হয় একা, তখন ভয়ার্ত শিশুর মত মাকেই আঁকড়ে ধরে।’

মায়ের প্রতি অনুভূতিই এমন। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় মা। তাই মাকে নিয়ে অনেক গান, কবিতা, গল্প, কাহিনী রচিত হয়েছে। বলা হয়েছে, মায়ের একধার দুধের দাম কাটিয়া গায়ের চাম, পাপশ বানাইলেও ঋণের শোধ হবে না। কবি কামিনী রায়ের ভাষায় : জড়ায়ে মায়ের গলা শিশু কহে আসি, মা-তোমারে কত ভালবাসি। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন : হেরিলে মায়ের মুখ-দূরে যায় সব দুখ, মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান, মায়ের শীতল কোলে-সকল যাতনা ভুলে, কত না সোহাগে মাতা বুকটি ভরান। আর পল্লী কবি জসীম উদ্দীন ফুটিয়ে তুলেছেন মায়ের সেই আকর্ষণের চিত্র। রুগ্ন ছেলের শিয়রে বসিয়া একেলা জাগিছে মাতা/করুণ চাহনি ঘুম্ ঘুম্ যেন ঢুলিছে চোখের পাতা/শিয়রের কাছে নিবু নিবু দীপ ঘুরিয়া ঘুরিয়া জ্বলে/ তারি সাথে সাথে বিরহী মায়ের একেলা পরাণ দোলে।

একজন মা ফ্লোরা সরকার। তিনি বলেন, ‘পেটের ভেতর প্রথম যেদিন শিশুটির নড়াচড়া টের পেলাম সেদিনও আমার অন্য রকম লেগেছিল। প্রথমবারের মতো লাথি মারলো-আসলে ওটা মোটেও লাথি নয়। এটাই আমি সারাজীবন আশা করে বসে আছি। একটু মৃদু কম্পন, তিরতিরে অনুভূতি, যেন ছোট্ট জীবন্ত একটা প্রজাপতি আমার পেটের মধ্যে উড়ে উড়ে বেড়াচ্ছে। মাতৃত্বের আনন্দ এমনই।’ কিন্তু সেই মাকে যখন সন্তান বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়, তখন দুঃখের নদীর উজান বয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মায়ের মর্যাদাকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য পাসপোর্ট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি ফরমে মায়ের নাম বাধ্যতামূলক করেছেন। বয়স্ক মায়েদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা, চাকরিজীবী মায়েদের কষ্ট লাঘবের কথা বিবেচনায় রেখে সচিবালয়সহ বিভিন্ন ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মাতৃত্বকালীন ছুটিও দেয়া হচ্ছে।

সন্তানের জন্য মায়ের ভালোবাসা চিরকাল। গর্ভকালীন যন্ত্রণা সহ্য করে যে সন্তানকে জঠরে ধারণ করেন, নিজে না খেয়ে সেই সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন মা। ঘরে ফিরতে একটু দেরী হলে চিন্তায় অস্থির হয়ে ওঠেন মা। অসুস্থ হলে পাশে বসে মাথায় মমতার হাত বুলিয়ে দেন মা। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে সেই মাকে যে সন্তান ঘর থেকে বের করে দেয়, তাকে কি নামে ডাকা যায়-সেই প্রশ্নের উত্তর কি পাঠকরা দেবেন?

বাংলাদেশ সময়: ১২৩০ ঘণ্টা, মে ১২, ২০১৯
এসি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে ১৫০ শতাংশ বেড বেড়েছে
পরিচালকদের শেয়ার ধারণে নোটিফিকেশন জারি করছে বিএসইসি
ত্রিপুরায় টিবিএসইর বিজ্ঞান বিভাগের ফল প্রকাশ
নলডাঙ্গায় ১৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল
নাদিয়ার সঙ্গে সজলের ‘ঝগড়া চলছে’!


পাগড়ি পেলেন বসুন্ধরা রহমানিয়া মাদ্রাসার ১৬ হাফেজ
তরুণীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, ইউপি সদস্য আটক
হালদায় নৌকা ধ্বংস, জাল জব্দ
ইসিতে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে