সীতাকুণ্ডে তথ্য গোপন করে বনের জায়গা লিজের অভিযোগ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আশরাফুজ্জামান রহমান।

চট্টগ্রাম: সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুরে সাগর উপকূলে সরকারি বনের জায়গা এক ব্যবসায়ীকে শিপইয়ার্ড নির্মাণের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, অজ্ঞাত কারণে ভূমি অফিস তথ্য গোপন করে ১০ হাজার কেওড়া গাছের বাগান বিবিসি স্টিল নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দিয়েছে।

লিজ পেয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক এমএ কাসেম রাজা লোক লাগিয়ে প্রতিরাতে ১০-১৫টি করে কেওড়া গাছ গোড়াসহ উপড়ে সাগরে ফেলে দিচ্ছেন। যা জনজীবন হুমকিতে ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন সলিমপুর-ফৌজদারহাট এলাকাবাসী।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আশরাফুজ্জামান রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কায়ছারুল আলম, সাহেদ কাদের, জাহাঙ্গীর আলম, রিদুয়ান উদ্দিন সাইমন, আমজাদ হোসেন প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ফৌজদারহাট এলাকার সম্পদ দু’টি মৌজায় অবস্থিত। বেড়িবাঁধের পূর্বপাশের ভূমি সলিমপুর মৌজাধীন হলেও পশ্চিম অংশের বিশাল এলাকা ভাটিয়ারি তুলাতলি মৌজার। তুলাতলি মৌজায় শিপইয়ার্ড নির্মাণ সরকারি গেজেডে নিষিদ্ধ। আর সলিমপুর ও তুলাতলি মৌজায় রয়েছে কাট্টলী বনবিটের অধীন বিশাল কেওড়া বন। ফলে এ দু’টি মৌজার কোথাও শিপব্রেকিং ইয়ার্ড করার সুযোগ নেই।

কিন্তু গত বছর স্থানীয় ব্যবসায়ী এমএ কাসেম (রাজা) সলিমপুর মৌজায় বিবিসি স্টিল নামের শিপব্রেকিং ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য ভূমি অফিসে লিজের আবেদন করেন। ওই আবেদন পেয়ে ভূমি অফিস রহস্যজনক কারণে সরকারি বনের তথ্য গোপন করে তাকে জায়গাটি লিজ দেয়। লিজ পেয়ে সম্প্রতি এমএ কাসেম সেখানে বিবিসি স্টিল নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় গ্রামবাসীর বেশ কিছু ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গাও তার দখলে চলে যাবার উপক্রম হয়। একদিকে বন উজাড় অন্যদিকে স্থানীয়দের সম্পদ দখলের কারণে বাধা দিলে তিনি মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা করছেন।

আশরাফুজ্জামান রহমান বলেন, বিষয়টি আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের দৃষ্টিতে আনার পর তিনি এমএ কাসেম রাজাকে সেখানে শিপইয়ার্ড নির্মাণ বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু এমএ কাসেম কারও কথায় কর্ণপাত না করে ভাড়াটিয়া লোক লাগিয়ে রাতের আঁধারে প্রতিদিন ১০-১৫টি করে গাছ কেটে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে গোঁড়াসহ কেটে সাগরে ভাসিয়ে দিচ্ছেন।

এলাকাবাসী দাবি করেন, এ সুবিশাল বনভূমি ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর উপকূলীয় মানুষের জীবন রক্ষায় নির্মাণ করা হয়েছিল। এখন বিবিসি স্টিলের নামে এ বন উজাড় করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তাদের জীবন হুমকিতে পড়বে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে তারা সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বন বিভাগে অভিযোগও করেছেন। কিন্তু এসব অপকর্ম বন্ধ হচ্ছে না। তাই সরকারি বন রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

বাংলাদেশ সময়: ১৮০৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৯
এআর/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ করায় ৫৬৫ যাত্রীর জরিমানা
নেত্রকোণায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার
কথার ঝুড়ি নিয়ে বাড়ি ফেরা
চকবাজার ট্র্যাজেডিতে ভবনগুলো ‘ব্যবহার অনুপযোগী’
৭ তলার ছাদেও বিস্ফোরকের চিহ্ন!


ভিয়েতনাম মিশনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন 
ময়মনসিংহে ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদকবিক্রেতা নিহত
চকবাজারে এখনও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সতর্ক অবস্থান
টিভি ব্যক্তিত্ব স্টিভ আরউইনের জন্ম
চকবাজার ট্র্যাজেডি তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটি