কর্ণফুলী টানেল নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কর্ণফুলী টানেল।

চট্টগ্রাম: নেভাল একাডেমি থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত সোয়া তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের টানেল নির্মাণ নিয়ে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীরে এই টানেল দিয়ে চলাচল করবে যানবাহন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪ ফেব্রুয়ারি (রোববার) প্রকল্পস্থলে টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) দিয়ে খনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সম্মতি পাওয়া গেছে। সেতু সচিব সহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

‘ওয়ান সিটি অ্যান্ড টু টাউন’ মডেলে দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কে সংযুক্তিসহ ৭টি উদ্দেশ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী নদীর তলদেশে চার লেনের টানেল সড়ক নির্মাণ করছে।

দুইটি টিউবের ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল টানেল হবে। টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড এবং ৭২৭ মিটার ওভারব্রিজ আনোয়ারা উপজেলাকে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।

প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝিতে চীন থেকে সংগৃহীত টিবিএম দিয়ে নদীর তলদেশে মূল খনন কাজ শুরু করা হবে।

টানেল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৫ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৮ হাজার ৪৪৬ দশমিক ৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৩৫০ মিলিয়ন ডলার এবং চীন সরকার ৭০৫ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলার দেবে। মূল টানেল নির্মাণব্যয় শতভাগ বহন করছে চীন সরকার।

ইতোমধ্যে ৩৮৩ একর ভূমির মধ্যে ২৩২ একর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (সিসিসিসি) হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় গণনা শুরু হয়েছে। পাঁচ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা আছে।

টানেল বোরিং মেশিন।সরেজমিন দেখা গেছে, কর্ণফুলীর তলদেশে মাটি খুঁড়ে টিউব ঢোকানোর জন্য চীন থেকে আনা ৯৪ মিটার দীর্ঘ ও ২২ হাজার টন ওজনের বোরিং মেশিন দিয়ে কাজ চলছে। এখানে মোট দুটি টিউব নির্মাণ করা হবে। এর একটি দিয়ে গাড়ি শহরপ্রান্ত থেকে প্রবেশ করবে, আরেকটি টিউব দিয়ে ওপার থেকে শহরের দিকে আসবে।

টানেলের প্রতিটি টিউব চওড়ায় হবে ৩৫ ফুট এবং উচ্চতায় প্রায় ১৬ ফুট। একটি টিউবে বসানো হবে দুটি স্কেল। এর ওপর দিয়ে দুই লেনে গাড়ি চলাচল করবে। পাশে থাকবে একটি সার্ভিস টিউব। মাঝে ফাঁকা থাকবে ১১ মিটার। যেকোনো বড় গাড়ি দ্রুত চলতে পারবে এই টানেল দিয়ে।

সোমবার (২১ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশের টানেলটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকরণের প্রস্তাব দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ প্রস্তাব সমর্থন করেন।

বঙ্গবন্ধুর নামে কর্ণফুলী টানেলের নামকরণের প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে নওফেল বাংলানিউজকে বলেন, যেহেতু চট্টগ্রামে সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য তেমন বড় কোনো স্থাপনা নেই, তাই দেশের প্রথম টানেলটি বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ করা যেতে পারে। এটি বাংলাদেশের শুধু নয়, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নদীর তলদেশে প্রথম টানেল।

বাংলাদেশ সময়: ১৩০০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯
টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ করায় ৫৬৫ যাত্রীর জরিমানা
নেত্রকোণায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার
কথার ঝুড়ি নিয়ে বাড়ি ফেরা
চকবাজার ট্র্যাজেডিতে ভবনগুলো ‘ব্যবহার অনুপযোগী’
৭ তলার ছাদেও বিস্ফোরকের চিহ্ন!


ভিয়েতনাম মিশনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন 
ময়মনসিংহে ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদকবিক্রেতা নিহত
চকবাজারে এখনও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সতর্ক অবস্থান
টিভি ব্যক্তিত্ব স্টিভ আরউইনের জন্ম
চকবাজার ট্র্যাজেডি তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটি