রাত পোহালেই ভোট উৎসব

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। ছবি: উজ্জ্বল ধর

চট্টগ্রাম: শেষ হচ্ছে দীর্ঘ অপেক্ষা। রাত পোহালেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা ভোট উৎসব।

সব দলের অংশগ্রহণে সরগরম নির্বাচনে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন ভোটাররা। মূল লড়াই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের।

জেলা নির্বাচন অফিসের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় ভোটার ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৪৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৯ লাখ ১২ হাজার ৭৫ জন এবং নারী ভোটার ২৭ লাখ ২৫ হাজার ৩৯০ জন।

জেলায় সংসদীয় আসন ১৬টি। নগর ও আশপাশে ৬টি এবং জেলায় ১০টি সংসদীয় আসনে ১১৪ জন প্রার্থী এবার প্রতীক পেয়েছিলেন। দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৩ জন ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়ানোয় এখন মাঠে আছেন ১০৫ জন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ৩৪ প্রার্থী। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে। 

প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন যারা

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন (নৌকা) ও বিএনপির নুরুল আমিন (ধানের শীষ)। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মহাজোটের শরিক বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী (নৌকা) ও বিএনপির কর্নেল (অব.) মো. আজিম উল্লাহ বাহার (ধানের শীষ)।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আওয়ামী লীগের মাহফুজুর রহমান মিতা (নৌকা) ও বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা (ধানের শীষ)। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও আকবর শাহ থানা) আসনে আওয়ামী লীগের দিদারুল আলম (নৌকা) ও বিএনপির আসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ)।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ) আসনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ (লাঙ্গল) ও ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক (ধানের শীষ)। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী (নৌকা) ও বিএনপির মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সিকদার (ধানের শীষ)।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী আংশিক) আসনে আওয়ামী লীগের ড. হাছান মাহমুদ (নৌকা) ও ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির মো. নুরুল আলম (ধানের শীষ)। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসনে মহাজোটের শরিক জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল (নৌকা) ও বিএনপির আবু সুফিয়ান (ধানের শীষ)।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (নৌকা) ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন (ধানের শীষ)। এ আসনে সিপিবি মনোনীত বামজোটের প্রার্থী মৃণাল চৌধুরীও (কাস্তে) আছেন ভোটযুদ্ধে।  

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) আসনে আওয়ামী লীগের ডা. আফসারুল আমীন (নৌকা) ও বিএনপির আবদুল্লাহ আল নোমান (ধানের শীষ)। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে এ আসনেই একমাত্র নারী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবিনা খাতুন সাব্বি (সিংহ) আছেন ভোটযুদ্ধে।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ইপিজেড, ডবলমুরিং ও সদরঘাট) আসনে আওয়ামী লীগের এমএ লতিফ (নৌকা) ও বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (ধানের শীষ)। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের সামশুল হক চৌধুরী (নৌকা) ও বিএনপির এনামুল হক এনাম (ধানের শীষ)।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে আওয়ামী লীগের সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (নৌকা) ও বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম (ধানের শীষ)। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে আওয়ামী লীগের মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী (নৌকা) ও ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম (ছাতা)।

চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে আওয়ামী লীগের আবু রেজা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নদভী (নৌকা) ও ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতের আ ন ম শামসুল ইসলাম (ধানের শীষ)। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী (নৌকা), বিএনপির জাফরুল ইসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী (লাঙ্গল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াতের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (আপেল)।

চট্টগ্রাম জেলায় ১ হাজার ৩০২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮৩২টি। ৩৯১টি কেন্দ্র সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ও উপকূলীয় ৭৯টিকে বিশেষ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ আসনের তালিকায় আছে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক), চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও আকবর শাহ থানা) আসন।

জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আনসার, পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী টহলের দায়িত্বে আছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সিএমপির প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পুলিশ সদস্য নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। আমাদের মোট সদস্য প্রায় ৭ হাজার। বাকি সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন।’

পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বাংলানিউজকে বলেন, ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

সারাদিনের ভোটযুদ্ধ শেষে পাওয়া বেসরকারি ফলাফলেই নির্ধারিত হবে, আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার ভার কার হাতে তুলে দিচ্ছেন ভোটাররা।

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৮
টিসি

 

ভিয়েতনাম মিশনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন 
ময়মনসিংহে ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদকবিক্রেতা নিহত
চকবাজারে এখনও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সতর্ক অবস্থান
টিভি ব্যক্তিত্ব স্টিভ আরউইনের জন্ম
চকবাজার ট্র্যাজিডি তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটি


চকবাজার ট্র্যাজিডিতে যুক্তরাষ্ট্রের শোক       
ফেরত এলো ভারতে পাচার ২৭ নারী-শিশু
চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের শোক
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন ড. কামাল
পুরান ঢাকায় হয় কারখানা থাকবে নয় বাড়িঘর