নৌকায় ভোট দিন, উন্নয়নের দায়িত্ব শেখ হাসিনার

তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আ জ ম নাছির উদ্দীন।

চট্টগ্রাম: নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার সময় চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘‘আপনারা আমার উপর আস্থা রাখুন। নৌকায় ভোট দিন। সরকার গঠনে সহায়তা করুন। নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব আমি নিজে নেব।’’

১০ বছর আগে ২০০৮ সালে লালদীঘি ময়দানে চট্টগ্রামবাসীকে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। চট্টগ্রামের উন্নয়নে একের পর এক মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চট্টগ্রামে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ পরিচালনা করছেন তিনি।

তাই উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও নৌকায় ভোট দিন। চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রামের আরও উন্নয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী আবারও নিজে নেবেন।

‘কেনো আপনি নৌকায় ভোট দেবেন?’ শীর্ষক ভিডিওচিত্রে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে চট্টগ্রামবাসীর প্রতি এভাবেই আহ্বান জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

জনতার মাঝে আ জ ম নাছির উদ্দীন।১৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের এ ভিডিওচিত্রে বিগত ১০ বছরে চট্টগ্রামজুড়ে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকার প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান সিটি মেয়র।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকগুলো মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। নগরে যেসব সেবা প্রতিষ্ঠান আছে- প্রতিটি সেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নগরবাসীর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছেন। চট্টগ্রাম বন্দর, রেলওয়ে, সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসার অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে নগরজুড়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত উন্নয়নযজ্ঞ চলছে। চট্টগ্রামকে আরও উন্নত নগর হিসেবে কীভাবে গড়ে তোলা যায়- সেই লক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি মাত্র ৩ বছর ৩ মাস। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েকমাসের মধ্যেই নগরজুড়ে থাকা বড় বড় বিলবোর্ডগুলো অনেক প্রতিকূলতা এবং প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আমরা অপসারণ করেছি। নানা চ্যালেঞ্জ জয় করেই পুরো নগর থেকে প্রায় ৪ হাজার বিলবোর্ড উচ্ছেদ করেছি। সরকারের সদিচ্ছার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আ জ ম নাছির উদ্দীন ও তার পরিবার।সিটি মেয়র বলেন, মেয়র নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, চট্টগ্রামকে ‘ক্লিন সিটি ও গ্রিন সিটিতে’ পরিণত করব। সেই লক্ষে বহুবিধ পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে কিছু কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নও করা হয়েছে। যার সুফল নগরবাসী পেতে শুরু করেছেন।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, শহরের ফুটপাত, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ডিভাইডার, মোড়ে মোড়ে সৌন্দর্য বর্ধন করে সবুজায়ন করা হয়েছে। নগরের বর্জ্য অপসারণে দীর্ঘদিনের সনাতন পদ্ধতিতে আমরা পরিবর্তন এনেছি। দিনের পরিবর্তে রাতে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে ডোর টু ডোর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সড়ক থেকে ময়লা আবর্জনা দূর করতে ডাস্টবিনের পরিমাণ কমানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে যেখানে ১ হাজার ৩৫০টি ডাস্টবিন ছিল এখন তা ৭৫০টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ডাস্টবিন তুলে দিয়ে বর্জ্য সরাসরি ডাম্পিং স্টেশনে পাঠাবো আমরা। নতুন নতুন যন্ত্রপাতি এ কাজে ভূমিকা রাখছে। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় চট্টগ্রাম শহর এখন অনেক সবুজ ও পরিচ্ছন্ন।

মেয়র বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর মাধ্যমে ৮ হাজার কোটি টাকার দুটি প্রকল্প নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। সিটি করপোরেশনও খাল খননের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামবাসীর ‘দু:খ’ জলাবদ্ধতা নিরসন হবে।

তিনি বলেন, নগরে কয়েকটি ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। যানজটমুক্ত নগর গড়তে আউটার রিং রোড করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বুলেট ট্রেন আসছে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত ট্রেন যাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামের চেহারা পাল্টে যাবে। চট্টগ্রামের এত উন্নয়ন আওয়ামী লীগ সরকার ছাড়া আর কোনো সরকার করেনি।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম শহরে সুপেয় পানির সংকট ছিল। ওয়াসার মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ করে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মদুনাঘাটসহ ওয়াসার সব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী শতভাগ সুপেয় পানির সুবিধা পাবেন। চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় করে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম সহজ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এর সুফল পাচ্ছেন।

মেয়র বলেন, বিগত ১০ বছরে চট্টগ্রামজুড়ে যতসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে তার সব কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার। তাই বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প শেষ করার জন্য এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে আরও নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়ার জন্য আবারও শেখ হাসিনাকে প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ সরকারকে প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কদিন পরেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচন আমরা যারা নগরে বসবাস করছি শুধু তাদের জন্য নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। এ নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আমরা কী এগিয়ে যাবো? না, পিছিয়ে যাব?

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে আশা রাখছি, চট্টগ্রামের সম্মানিত ভোটাররা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন এবং শান্তির পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করবেন। সরকারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য ভোটটা এবারও নৌকায় দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করবেন।

‘প্রিয় চট্টগ্রামবাসী আপনারা আবারও নৌকায় ভোট দিন। চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব আবারও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নেবেন।’ যোগ করেন আ জ ম নাছির উদ্দীন।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮
টিসি

ফুলবাড়ীতে গাঁজাসহ ৩ শিক্ষার্থী আটক
খুলনার বইমেলায় ভাষাপ্রেমীদের উপচেপড়া ভিড়
‘ভুলে ভরা কবিতা’র পর ‘বাইসাইকেল’
ঢামেকের বাতাসে পোড়া গন্ধ 
ইমরানকে গাভাস্কার: বন্ধু, কোথায় তোমার নয়া পাকিস্তান?


হিলি সীমান্তে দুই বাংলার সম্প্রীতির মিলন মেলা
ভাষা শহীদ স্মৃতি স্মরণে স্থাপনা
ময়মনসিংহ’ ১৯৫২,ইতিকথা-৩

ভাষা শহীদ স্মৃতি স্মরণে স্থাপনা

খুবিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
কেমিক্যাল গোডাউন সরাতে দ্রুত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক
জাতিসংঘে স্থায়ী মিশনে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা