মানুষের ভালোবাসায় চিরঞ্জীব মহিউদ্দিন চৌধুরী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

‘সাংবাদিকবান্ধব মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মারকগ্রন্থ’র মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা

চট্টগ্রাম: এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বর্ণাঢ্য জীবন, ত্যাগ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার মধ্য দিয়ে একজন সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। মানুষের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু হলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রকাশিত ‘সাংবাদিকবান্ধব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মারকগ্রন্থ’র প্রকাশনা উৎসবে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আরও খবর>>
** 
মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা বৃহস্পতিবার

ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরীর সঞ্চালনায় উৎসবে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

প্রধান আলোচক ছিলেন বরেণ্য সমাজবিজ্ঞানী, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন। আলোচনা করেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহধর্মিণী ও নগর মহিলা লীগের সভানেত্রী বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন। 

স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা কমিটির আহ্বায়ক মোয়াজ্জেমুল হক। নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল বক্তব্য দেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বাঙালি যেমন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মনে রেখেছে, তেমনি চট্টগ্রামবাসী তাদের প্রিয় মহিউদ্দিনকে আজীবন মনে রাখবে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রামের এমন কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল না যেখানে তিনি ছুটে যাননি। যেখানেই সংকট সেখানেই তিনি ছুটে গেছেন। এ কারণে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, যখন দেশের অনেক প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধুর কোন ছবি ছিল না, তখন নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, প্রগতিশীলতার পক্ষে সবসময়ই চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ কাজ করে গেছে। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মহিউদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ যাতে বিভিন্ন সাংবাদিক তাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লিখেছেন। এতে করে মহিউদ্দিনের বহুমুখী দিকটি উঠে এসেছে।     

অধ্যাপক ড. অনুপম সেন বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী কত বড় মাপের নেতা ছিলেন তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, ভবিষ্যতেও অনেক হবে। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রতিবাদ করেছিলেন। তাকে দেশত্যাগ করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে আবার ফিরে আসেন। ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের পর মুসলিম হলে অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করেছেন। রাগ করে গালাগাল দিলেও ভালোবাসতেন প্রকৃত অর্থে। তিনি মানুষের জন্য ভালোবেসে কাজ করেছেন।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, জনগণের কল্যাণ সাধনই রাজনীতি। মহিউদ্দিন চৌধুরী মানুষের কল্যাণের জন্যই রাজনীতিতে আসেন এবং আমৃত্যু এর সঙ্গে ছিলেন। চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের স্বার্থের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। রাজনীতিতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এসে কেউ কেউ আপস করে থাকেন, কিন্তু তিনি কখনো করেননি। উনার মতো চট্টগ্রামের মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই আর কেউ নিতে পারেননি।

মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আমার বাবা ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। তার এ জীবনকে মূল্যায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা সবসময় সৎ-সাহসী রাজনীতিবিদদের মূল্যায়ন করেছেন। কলম সৈনিকদের প্রতি বাবার অপার ভালোবাসা ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন তারা যদি মুক্ত-স্বাধীন থাকেন এবং সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারলে সমাজ-রাষ্ট্রের ভালো হবে।

অনেক সময় অভিমান করে বলতাম-আপনার বিরুদ্ধে লেখে, আপনি তাদের ভালোবাসেন কেন? তিনি বলতেন, সাংবাদিকরা স্বাধীন তারা প্রশংসা যেমন করবে, সমালোচনাও করবে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখব, এর মাধ্যমে সমাজের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যে লড়াই সে লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেলে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য কাজ করে যাব, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখবো। বলেন ব্যারিস্টার নওফেল।  

কলিম সরওয়ার ক্লাব ভবন নির্মাণে মহিউদ্দিন চৌধুরীর অবদান স্মরণ করে বলেন, আমরা এ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের মধ্য দিয়ে একজন সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মহিউদ্দিন চৌধুরীর বহুমুখী পর্যায়কে স্মরণ করেছি। চট্টগ্রামের জন্য একজন মহিউদ্দিন কতটা তা চট্টগ্রামবাসী তাদের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন। 

শুকলাল দাশ বলেন, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে সাংবাদিকদের সম্পর্ক ছিল আন্তরিক। চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা উনাকে যেভাবে দেখেছেন তা এ গ্রন্থে লিখেছেন।

মোয়াজ্জেমুল হক বলেন, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোকসভায় এ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের প্রস্তাব করেছিলাম। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আজ বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হচ্ছে। ৫৬ জন সাংবাদিক বইতে মহিউদ্দিন চৌধুরী সম্পর্কে লিখেছেন। যার যার দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা থেকে তারা লিখেছেন।

১৯৬ পৃষ্ঠার স্মারক গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন ক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী। স্মারকগ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন অধ্যাপক ড. অনুপম সেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১২৭ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮
এআর/টিসি

 

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ বই
কিশোরগঞ্জে ১৭ ভাষা সৈনিককে সম্মাননা 
মাতৃভাষায় বই থাকলেও বঞ্চিত শ্রীমঙ্গলের ত্রিপুরা শিশুরা
বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ করায় ৫৬৫ যাত্রীর জরিমানা
নেত্রকোণায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার
কথার ঝুড়ি নিয়ে বাড়ি ফেরা


চকবাজার ট্র্যাজেডিতে ভবনগুলো ‘ব্যবহার অনুপযোগী’
৭ তলার ছাদেও বিস্ফোরকের চিহ্ন!
ভিয়েতনাম মিশনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন 
ময়মনসিংহে ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদকবিক্রেতা নিহত
চকবাজারে এখনও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সতর্ক অবস্থান