এইচআইভি আক্রান্ত ১৭ নারীর সুস্থ সন্তান প্রসব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বক্তব্য দেন ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে এইচআইভি আক্রান্ত ১৭ জন নারী সুস্থ সন্তান প্রসব করেছেন। এইচআইভি সেবা জোরদার প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নেওয়া এসব শিশু মায়ের বুকের দুধও পান করেছে।

শনিবার (১ ডিসেম্বর) বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় চমেক হাসপাতালে গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের প্রধান ও প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট ডা. শাহানারা চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

ডা. শাহানারা চৌধুরী বলেন, ‘জন্ম নেওয়া ১৭ শিশু সুস্থ আছে। তাদের আমরা নিয়মিত চেকআপ করি।’

র‌্যালির উদ্বোধন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদতিনি বলেন, মা হতে শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষে ২০১৩ সাল থেকে এ হাসপাতালে প্রিভেনশন অফ মাদার টু চাইল্ড ট্রান্সমিশন (পিএমটিসিটি) সেবাটি চালু রয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৪৪৫ জন গর্ভবতী বিনামূল্যে এ সেবা গ্রহণ করেছেন।

‘একজন প্রসূতি নারীকে ডেলিভারির পূর্বে ছয়টি পরীক্ষা করানো হয়। কিন্তু এখন এইচআইভিসহ সাতটি পরীক্ষা করানো হচ্ছে। যাতে এইচআইভি সংক্রমণ রোধ করা যায়।’ বলেন ডা. শাহানারা।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সাবেক প্রধান ও এইডস বিশেষজ্ঞ ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘এইচআইভি ভাইরাস বহনকারী ব্যক্তি যদি সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন, তাহলে বছরের পর বছর বেঁচে থাকতে পারবেন। এইচআইভিকে এখন মরণব্যাধি না বলে নিরাময়যোগ্য রোগ বলা যেতে পারে।’

‘১৯৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজানে এক ব্যক্তির এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত  হয়। তিনি এখনো বেঁচে আছেন। এখনো তিনি দ্বিতীয় ধাপে আছেন। আরও পাঁচটি ধাপ বাকী। এ রোগীর মতো আরও অনেকে বছরের পর বছর চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছেন।’। যোগ করেন ডা. সিরাজুল ইসলাম।

এইচআইভি আক্রান্ত ১৭ নারী সুস্থ সন্তান প্রসব করার মধ্যে দিয়ে এ ভাইরাস সংক্রমণ বন্ধ সম্ভব উল্লেখ করে ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রামের ৯৫ শতাংশ রোগী প্রবাসী। তাদের কারণে এইচআইভি ঝুঁকি বাড়ছে। সিলেটও একই কারণে এইচআইভি ঝুঁকিতে আছে। তাই প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনা সৃষ্টি করতে পারলে এ রোগের ঝুঁকি অনেকটা কমে যাবে। এছাড়া যৌনকর্মী, মাদকসেবীসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।

এর আগে বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে হাসপাতালের মূল ফটক থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি হাসপাতাল ও কলেজের প্রধান প্রধান স্থান ঘুরে নতুন অ্যাকাডেমিক ভবনে গিয়ে শেষ হয়।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ, চমেক উপাধ্যক্ষ ডা. প্রদীপ কুমার দত্ত, বি এম এ চট্টগ্রামের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মনোয়ারুল হক, চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ রফিকুল মওলা প্রমূখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৭২০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১, ২০১৮
এসইউ/এমআর/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম চিকিৎসাসেবা
ইনজুরিতে মিঠুন-মুশফিক, ওয়ানডে দলে মুমিনুল
নির্বাচনী মামলায় পঙ্গু হয়ে যাবে আ’লীগ: মান্না
নাট্যচর্চায় চট্টগ্রামের ইতিহাস উজ্জ্বল: মামুনুর রশীদ
কক্সবাজারে দুটি কিরিচসহ ডাকাত আটক
সিলেটের ১২ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৬৮ জনের মনোনয়ন দাখিল


শেবাচিমে ময়লার স্তূপে ‘২০’ অপরিণত নবজাতকের মরদেহ 
রোহিঙ্গাদের এক লাখ বোতল গ্যাস দেবে আইওএম
নবীনগর উপজেলা আ.লীগের সহসভাপতির বিরুদ্ধে মামলা
না’গঞ্জের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক আটক
নোবেল জয়ের পথে ট্রাম্প!