টাকা ছাড়া মেলে না বিনামূল্যের সেবা!

সিফায়াত উল্লাহ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চমেক হাসপাতালের মূল ভবন

চট্টগ্রাম: ছয় মাস বয়সী সাবিহা এক সপ্তাহ ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। বুধবার (২৮ নভেম্বর) রাতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাবিহাকে দিনে চার বার নেবুলাইজার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রতিবার নেবুলাইজার দেওয়ার বিপরীতে আয়ারা বিশ টাকা করে নেন বলে বাংলানিউজের কাছে অভিযোগ করেছেন তার মা নাসিমা আকতার।

বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রবিউল হোসেন আবিরের মা রোজিনা আকতার বাংলানিউজকে জানান, একবার ড্রেসিং করলে দুইশ টাকা দিতে হয়। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) এক আয়াকে একশ টাকা দিয়েছি। এজন্য পরেরদিন তাকে ডাকলেও আসেনি।

শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে হাসপাতালের একাধিক ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিনামূল্যে যে সব সেবা রোগীদের পাওয়ার কথা, সেগুলো টাকা ছাড়া মিলছে না।

এর মধ্যে রোগীর শরীরে ক্যানোলা ও স্যালাইন লাগালে ২০ থেকে ৫০ টাকা, হৃদরোগ বিভাগে ইসিজি করালে ৫০ টাকা, অর্থোপেডিক্স ও বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিসহ বিভিন্ন বিভাগে ড্রেসিং করিয়ে দেয়ার বিপরীতে একশ থেকে তিনশ টাকা দিতে হয়।

গাইনী ও প্রসূতি বিভাগে সবচেয়ে বেশি টাকা দিতে হয় বলে জানা গেছে। গাইনী বিভাগে ভর্তির নামে ৫০ ও বাচ্চা হওয়ার পর তিনশ থেকে পাঁচশ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

এছাড়া রোগী মারা গেলে ডেথ সার্টিফিকেট নিতে ও পুলিশের ক্ষেত্রে মেডিকেল সার্টিফিকেট নিতেও টাকা গুনতে হয় রোগীর স্বজনদের।

টাকা আদায়ের অভিযোগ বেশি হাসপাতালে কর্মরত স্পেশাল আয়া-ওয়ার্ডবয়দের বিরুদ্ধে। এছাড়া তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কিছু কর্মচারী টাকা আদায় করেন বলে হাসপাতালের এক ওয়ার্ড মাস্টার বাংলানিউজকে জানিয়েছেন। তবে নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

বর্তমানে চমেক হাসপাতালে দুইশ জনের অধিক স্পেশাল আয়া-ওয়ার্ডবয় কর্মরত আছেন। তাদের হাসপাতাল থেকে কোনো বেতন দেওয়া হয় না। প্রতি রোগীকে সেবা দেয়ার বিপরীতে সর্বোচ্চ ত্রিশ টাকা পর্যন্ত তারা নিতে পারবে- এমন নিয়ম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তারা যতখুশি তত টাকা আদায় করেন রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে।

এ কারণে ইতোমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্পেশাল আয়া-ওয়ার্ডবয়দের বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেবা কার্যক্রম চলমান রাখতে আউটসোর্সিং সিস্টেমে ১০৯ জনকে নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্পেশাল আয়া-ওয়ার্ডবয়দের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসে। স্বেচ্ছায় কাজ করার কথা বলে তারা হাসপাতালে ঢোকে। এরপর রোগী ও স্বজনদের হয়রানি করে।

‘ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়েছে। নতুন ১০৯ জন নিয়োগ হলে আয়া-ওয়ার্ডবয়দের বের করে দেওয়া হবে। আশা করি এরপর হয়রানি থেকে রোগী ও স্বজনরা রক্ষা পাবেন।- যোগ করেন ডা. আখতারুল ইসলাম।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১, ২০১৮
এসইউ/এমআর/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম চিকিৎসাসেবা
পুরুষ ক্রিকেটারদের হারিয়ে গিনেজ বুকে অজি নারী ক্রিকেটার
অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিএনপির মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন
ছুটির দিনে জমজমাট বইমেলা
জার্মানিতে ২ ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ
কেমিক্যালে ঠাসা সেই ভবনের বেজমেন্ট!


যশোরে হাতবোমা বিস্ফোরণে যুবক আহত
দাদা সাহেব ফালকে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘গ্রে লাইট’
আলজেরীয় সামরিক এয়ারক্রাফট বিধ্বস্ত, নিহত ২
১৫ মরদেহ শনাক্তে ২০ স্বজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ
সন্তানের সঙ্গেই চলে গেলেন তারা