তিন দিনেই জেব্রা ক্রসিং তৈরি করবে চসিক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বক্তব্য দেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন

চট্টগ্রাম: নগরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে তিন দিনের মধ্যে (বৃহস্পতিবার) জেব্রা ক্রসিং তৈরির কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

সোমবার (০৬ আগস্ট) বিকেলে নগরের সার্কিট হাউসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মেয়র এ কথা জানান।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থীরা যে দাবিতে আন্দোলন করেছে, তার সঙ্গে আমি একমত। এসব দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার ইতোমধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে। তবে সবকিছু বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ছবি: সোহেল সরওয়ারতিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে ফুট ওভার ব্রিজ, যাত্রী ছাউনি, স্পিড ব্রেকার নির্মাণ, সড়ক সংস্কারসহ সব কাজ করা হবে। যেহেতু নগরের প্রায় সব সড়কে বিভিন্ন সেবা সংস্থার উন্নয়নকাজ চলছে তাই সাময়িক অসুবিধা মেনে আমাদের কিছুটা সময় দিতে হবে। আগামী ২ বছরের মধ্যেই সব সড়ক সংস্কারসহ নগরের দৃশ্যমান পরিবর্তন সবার চোখে পড়বে।

মেয়র বলেন, আমরা যেকোনো কাজের লাগামহীন সমালোচনা করি, কিন্তু আত্মসমালোচনা করি না। কোন সংস্থার কী কাজ, কীভাবে কোন কাজ করা উচিত এসব না জেনেই কথা বলি। বাইরের দেশে গিয়ে ট্রাফিক আইন মানলেও নিজ দেশে তা মানি না। অথচ নিরাপদ সড়কের জন্য সবার আগে নিজেকেই ট্রাফিক আইন মানতে হবে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মাত্র ৫০০ টাকা জরিমানার জন্য আমার কাছে তদবির আসে। বলে, এবারের মতো মাফ করা যায় না? আমরা ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীর জন্য একদিকে তদবির করি, অন্যদিকে পুলিশের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করি। এভাবে কী নিরাপদ সড়ক সম্ভব?

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য আমরা সবসময় চালকের দোষ দিই। কিন্তু আমাদের দোষ দেখি না। আমরা ব্যস্ততম সড়ক দিয়ে রাস্তা পার হই কিন্তু জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করি না।

চট্টগ্রাম শহরের জন্য মাত্র ৩০০ ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতো বড় শহর এতো কম ট্রাফিক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রায় অসম্ভব। তারপরেও পুলিশ কাজ করছে। সিএমপির পক্ষ থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। এরপর নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করবে ট্রাফিক বিভাগ। আশা করি একটা পরিবর্তন অবশ্যই আসবে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য এডুকেশন, এনভাইরনমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, এনফোর্সমেন্ট- এসবের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশে তা নেই। আমাদের দেশে এতো ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু কোনো ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার নেই। এজন্য সমস্যার মূল যায়গায় আমরা হাত দিতে পারছি না। সমাধান আসছে না।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান সরকারি স্কুলগুলো নিজেদের ফান্ড থেকে স্কুলবাস কিনতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে দেওয়ার কথা জানান।

সভায় চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গভর্নিং বডির সদস্যসহ ১৯ জন সুষ্ঠু সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের মত দেন। নগরে যানবাহন সংকট, পরিবহন নৈরাজ্য, ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো, স্কুল বাস, নারী বাস চালুসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন তারা।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বীর চট্টগ্রাম মঞ্চের সম্পাদক সৈয়দ উমর ফারুক, মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অঞ্জন কুমার নন্দী, রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ প্রমুখ।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, স্থানীয় সরকারের পরিচালক দীপক চক্রবর্ত্তী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোমিনুর রশিদ আমিন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুরুল আলম নিজামী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তী প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৬, ২০১৮
এমআর/টিসি

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে দৃঢ় আশাবাদী উপাচার্য
বরিশালে ১ হাজার কেজি জাটকা জব্দ
নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক মঙ্গলবার, উঠছে ৯ প্রকল্প
রাবি ছাত্রলীগ নেতাকে ছুরিকাঘাত
নেত্রকোণায় হত্যা মামলায় বাবা-ছেলেসহ গ্রেফতার ৫
প্রথম বৈঠকে বসছে নতুন মন্ত্রিসভা 
ঈশ্বরদীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত শ্রমিকের মৃত্যু
খুলনায় মসজিদের খাদেম হত্যা মামলার ৭ আসামী গ্রেফতার
কসবায় ইয়াবাসহ আটক ২
সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের প্রয়াণ