পহেলা বৈশাখে উৎসব আনন্দে মেতেছিল ইডিইউ

চট্টগ্রাম প্রতিদিন ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ইডিইউতে বৈশাখ উদযাপন

চট্টগ্রাম: বাঙালির চির চেনা হাজার বছরের ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখের উৎসবে আনন্দে মেতেছিল চট্টগ্রামের তারুণ্যমুখর বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি (ইডিইউ)। শুধু কী আনন্দ? খাওয়া-দাওয়া, গান, স্মৃতিচারণ, নৃত্য-সবমিলিয়ে ভরপুর এক আয়োজনে জমে উঠেছিল পুরো ক্যাম্পাস।

 

শনিবার (১৪ এপ্রিল) নগরীর খুলশী পূর্ব নাসিরাবাদের নোমান সোসাইটির ইডিইউর স্থায়ী ক্যাম্পাসে কালাচারাল ক্লাব জমজমাট এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ গ্রহণ করেন। 

সকাল থেকেই ভোরের নতুন আলো একমুঠো স্বপ্ন হয়ে লুকোচুরি খেলছিল ক্যাম্পাসের আঙ্গিনায়। শুভদিনের প্রত্যাশায় উচ্ছ্বাসের তাই কমতি ছিল না পহেলা বৈশাখে।

যাক পুরাতন স্মৃতি /যাক ভুলে যাওয়া গীতি/যাক অশ্রুবাষ্প/ সুদূরে মিলাক/এসো হে বৈশাখ/এসো এসো... দিনটি শুরু হয়েছিল সমবেত সংগীতে। এরপর একে একে নানা আয়োজন সবাইকে যেন আটকে রেখেছিল বসে থাকা ছোট্ট চেয়ারে।

দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল স্মৃতিচারণ। এতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সজল বড়–য়া বলেন, পহেলা বৈশাখ কেবল নিছক কোনো উৎসব নয়, সংস্কৃতির বন্ধনে থেকে নিজের জাতিসত্তা, ভাষা, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের কথা মনে করিয়ে দেয় প্রতিবছর।

সাংস্কৃতিক পর্বে কৃতী ছাত্রী সালসাবিল মুমু গেয়ে শোনান ‘আমি তোমাকেই বলে দেব’ চমৎকার গানটি। কমল গন্ধার রবীন্দ্র সংগীতের সুর সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে দূর বহুদূর।

মুন দাশ ও জিনাত শোনান ‘ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়’। সুদীপ্ত দে ‘হয়তো তোমারি জন্য’ গানটি গেয়ে পকেট ভর্তি হাততালি নিয়ে মঞ্চ ছাড়েন। আধুনিক গান পরিবেশন করে আবীর সবাইকে জানিয়ে দিলেন তিনিও সংগীত ভালোবাসেন। ইফতির ব্যান্ডের গান আর ফাহিমের ‘নীলাঞ্জনা’ আকাশের নীলের খোঁজে সাদা মেঘে ভেসে বেড়িয়েছে। 

বড্ড অভিমানী মানিতা আর ইশরাত মুখে মুখে ফেরা ‘চলো সবাই’ গানটির তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করে কীভাবে যেন সবার মন জয় ফেললেন! শুধু কী তারা দুই জন? ভীষণ আড্ডাবাজ সোয়াসতিকা ও পুনম দ্বৈত নাচ পরিবেশন করে বুঝিয়ে দিয়েছেন জুটিবেধে অনেক ভালো কাজ হয়।

‘বাংলাদেশের মেয়ে রে তুই’ গানের সঙ্গে নেচে স্টেজ কাঁপিয়েছেন সদা হাস্যোজ্জ্বল দুই ভাই রিদভী ও শহীদ। নাটিকায় শিক্ষার্থী সাওকির দুরন্ত অভিনয় দেখে মনেই হয়নি সে আগে কখনও অভিনয় করেনি। 

ক্যান্টিনে সবসময় বির্তকে ঝড় তোলা মুন্না ও মুমুকে দেখা যায় শেষের কবিতায় হারিয়ে যেতে। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে অংশ নেন নাঈম, নবজিৎ, তাসফি, ইফফাত, তুহিন, রাকিব প্রমুখ। জুনায়েদ ও ফারিহার প্রাণবন্ত উপস্থাপন করতালি কুড়িয়েছে পুরো আয়োজনজুড়ে। 

কালচারাল ক্লাবের উপদেষ্টা ও অনুষ্ঠানের সভাপতি সহকারি অধ্যাপক প্রবাল দাশ গুপ্ত বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা দিয়ে আমাদের উৎসব শুরু হয়। ছিল পিঠাপুলির নানা আয়োজনও। আগামীতে আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

ক্লাবের কনভেনার শিক্ষার্থী সাফা ইকবাল বলেন, বর্ণিল সাজে সাজানো হয় প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি আঙিনা। মাটির কলসি, পাতিল, ঢোল, কুলাসহ নানান সামগ্রী ঠাঁই পেয়েছে ইডিইউর অবয়বে। দারুণ সময় কেটেছে আমাদের।

বাংলাদেশ সময়: ১৪০৫ঘণ্টা, এপ্রিল ১৫, ২০১৮

এমইউ/টিসি

খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সহোদরের মৃত্যু
‘আমার আত্মবিশ্বাস আছে, কারো লেখা পড়ে শিখতে হবে না’  
রশিদের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বাংলাদেশের হার
অস্ত্রধারী সেই ছাত্রলীগ নেতা আটক
‘নাতির জন্য বারবার মোবাইলে পিন কোড পরিবর্তন করতে হয়’
দলীয় ১শ’ রানে মিরাজের বিদায়
রহস্য গল্পকার স্টিফেন কিং-এর জন্ম
রশিদের ঘূর্ণিতে বিপর্যয়ে বাংলাদেশ
আশা জাগিয়ে ফিরে গেলেন সাকিব
চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১১