বৈশাখী পোশাকের জমজমাট বিকিকিনি ফুটপাতে

আল রাহমান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

শিশুদের বৈশাখী পোশাকের চাহিদা বাড়ছে ফুটপাতেও। ছবি: বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম: শিশুদের রঙিন জামায় বড় হরফে ছাপা ‘এসো হে বৈশাখ’। কোনোটায় আবার ‘শুভ নববর্ষ’। সঙ্গে ঢাক-ঢোল, ঘুড়ি, টেপা পুতুল, গরুর গাড়ি, বাঘ, সিংহ, মাছের ছবি আর মুখোশ। এভাবেই ফতুয়া, টিশার্ট, গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, ফ্রক হয়ে গেল বৈশাখী পোশাক।

জিইসি মোড়, নিউমার্কেট মোড়, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, সিইপিজেড-বন্দরটিলা, বায়েজিদ থেকে শুরু করে মোড়ের ফুটপাত, ভ্যানগাড়ি এমনকি অলিগলির ফেরিওয়ালার কাছে মিলছে শিশু-কিশোরদের বৈশাখী পোশাক। তৈরি পোশাকের অভিজাত শোরুম, বিপণিকেন্দ্রের চেয়ে দাম কম হওয়ায় বিকিকিনিও জমজমাট ফুটপাত-সড়কের ভাসমান স্টলগুলোতে।

জিইসি মোড়ের সেন্ট্রাল প্লাজার সামনে ভ্যানগাড়িতে শিশুদের বৈশাখী পোশাক বিক্রি করছেন আবদুল হাকিম। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, কয়েক বছর ধরে গরিব ‍মানুষও সন্তানদের জন্য বৈশাখী পোশাক কিনছেন। ঈদের মতোই বেচাবিক্রি হচ্ছে। নির্দিষ্ট আইটেমের পোশাক একদামে বিক্রি করছি। তাই দরকষাকষির ফুরসত নেই।

তিনি জানান, কাপড়ের কোয়ালিটি, নকশা ও ছাপার মান ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে দাম। বাচ্চাদের সুতোর কাপড়ের বৈশাখী ফতুয়া, টিশার্ট, ফ্রক, বেবিসেট ৭০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

জিইসি মোড়ের ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে শিশুদের বৈশাখী পোশাক। ছবি: বাংলানিউজ

পাশেই ভ্যানগাড়িতে বৈশাখী জামা সাজাতে ব্যস্ত আজমল হোসেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘাটফরহাদবেগের খলিফাপট্টিসহ নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট কারখানা আছে বৈশাখ, ঈদকে ঘিরে শিশু-কিশোরদের পোশাক তৈরির। সেখান থেকে বকশিরহাট, রিয়াজউদ্দিন বাজার হয়ে আমাদের হাতে আসে। কিছু পোশাক আছে সরাসরি ঢাকা থেকে আসে।

আবদুল মজিদ নামের একজন ক্রেতা বললেন, ‘আমাদের শৈশবে বৈশাখে নতুন জামা পেয়েছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু আমার সন্তানদের বৈশাখে নতুন জামা লাগবেই। পাড়া-প্রতিবেশীরা তাদের শিশুদের কিনে দিচ্ছেন আমি না দিলে মন খারাপ করে বসে থাকবে। নববর্ষের আনন্দই মাটি হয়ে যাবে পুরো পরিবারের।’

তিনি বলেন, খাদি পোশাক কিংবা ব্রান্ডের দোকানগুলোতে উন্নতমানের সুতোয় তৈরি জামায় হাতের কারুকাজ দেখি। পরতেও বেশ আরাম হবে মনে হয়। কিন্তু দাম বেশি। তাই কমদামি পোশাক কিনতে আসা।  

কাজীর দেউড়ি মোড়ে রিকশাভ্যানে শিশুদের বৈশাখী পোশাক দেখছিলেন সরকারি কর্মচারী অরুণ কান্তি। তিনি বলেন, দেশে যত উৎসব আছে তার মধ্যে সর্বজনীন বলতে গেলে পহেলা বৈশাখ। এত মানুষের ঢল নামে রাস্তায়, মঙ্গল শোভাযাত্রায় আর কখনো দেখি না। পরিবারের সবার জন্য সাধ্যমতো কেনাকাটা করছি। পারলে আত্মীয়-স্বজনদের সোনামণিদেরও উপহার দেব।  

এদিকে, মধ্যবিত্তের অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত পৌর জহুর-হকার্স মার্কেট পহেলা বৈশাখের কেনাকাটার সুবিধার জন্য শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারী সমিতি।  

বাংলাদেশ সময়: ১১৫৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ১২, ২০১৮

এআর/টিসি

বালিয়াডাঙ্গীতে ধর্ষক গ্রেফতার
রাবি ভর্তি পরীক্ষা: দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী মনোনীত
পটুয়াখালীতে ‍পৃথক দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু
জঙ্গিবাদে জড়িতরা দেশদ্রোহী
ওপেনার হয়েও শেষ উইকেট জুটিতে রেকর্ড তামিমের
প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড প্রদর্শনীতে দেশের ২১ প্রতিষ্ঠান
সড়ক পরিবহন বিলের প্রতিবেদন সংসদে
পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র হত্যায় ৪ জনের যাবজ্জীবন
সিলেটে ইয়াবাসহ যুবক আটক
নবীগঞ্জে নৌকাবাইচে চ্যাম্পিয়ন সোনার বাংলা