রুপালি ইলিশে জেলেদের সোনাঝরা হাসি

উজ্জ্বল ধর, সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। ছবি: বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম: বৈশাখের প্রথম দিনে বাঙালির পাতে ইলিশ চা-ই চাই। হোক না ইলিশ ভাজা কিংবা সর্ষেবাটা। প্রকৃতিই এবার পাতে তুলে দিচ্ছে অতুলনীয় স্বাদের ইলিশ। পূর্ণিমা তিথির সন্ধিক্ষণ ও কালবৈশাখীর প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল হয়ে উঠায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।

সেই রুপালি ইলিশ নিয়ে সোনাঝরা হাসিমুখে জেলেদের ট্রলার ভিড়ছে ঘাটে। সাগর উত্তাল হওয়ায় বরিশাল, পটুয়াখালির জেলেদের নৌকাও নোঙর করেছে কর্ণফুলী নদীতে। জোয়ারের অপেক্ষায় থাকা মাছধরার ট্রলারগুলো চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে নতুন গড়ে ওঠা ফিসারিঘাটে জোয়ার আসলেই ঘাটে ভিড়ে নামাচ্ছে টনে টনে ইলিশ। রুপালি ইলিশে সয়লাব পাইকারি বাজারের আড়তগুলো।

জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। ছবি: বাংলানিউজ

ইলিশের এ মোকামে জেলেদের পাশাপাশি তাদের পরিবারে মুখেও ফুটছে হাসি। নৌকা থেকে ইলিশ নামানো থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত শ্রমিকেরাও মহাব্যস্ত মাছ নিয়ে। ট্রলার থেকে মাছ নামানোর পর প্রথমে বাছাই করে ১০, ১২, ১৪ ইঞ্চি সাইজে আলাদা করে প্যাকেটজাত করা হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে সেই মাছ।

জেলেরা ২০০ টাকা দরে ইলিশ বিক্রি করলেও পহেলা বৈশাখে ক্রেতার হাতে এ মাছ পৌঁছাতে হাজার টাকা দাম হাঁকানো হবে বলে জানান বরিশালের ট্রলার এফভি ফারজানার জেলে মোস্তাফা।

জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। ছবি: বাংলানিউজ

তিনি জানান, প্রতিটি ট্রলারের জালেই প্রচুর মাছ পড়ছে। এখনকার ধরা পড়া মাছগুলো কিছুটা চিকন, কিন্তু লম্বা। বৃষ্টি পড়লেই মাছগুলোর শারীরিক গঠনও দ্রুত পরিবর্তন হবে এবং মাছের স্বাদও বেড়ে যাবে অনেক গুণ।

নতুন ফিসারিঘাটের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, পূর্ণিমা তিথির সন্ধিক্ষণে বৈরী আবহাওয়ায় জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে এখন মাছের দামও একটু বেশি। তারা চারজনে মিলে এফভি ফারজানা নামক ট্রলারের সব মাছ কিনে নিয়েছেন প্রতি মণ ৮ হাজার টাকা করে। ঢাকার বাজারে তাদের মাছগুলো যাবে। ঢাকায় মাছ পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি মণ কেনা পড়ে ৯ হাজার টাকা। এরপর কিছুটা লাভ ধরে সর্বোচ্চ ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত এ মাছ বিক্রি হবে।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) ২-৩টি ট্রলার থেকে মাছ নামানো হয়। মঙ্গলবার রাতে ১৫-২০টি ট্রলার মাছ খালাসের জন্য নোঙর করেছে। জোয়ারের সময়েই ট্রলারগুলো থেকে ইলিশ মাছ নামিয়ে আড়তে বা পাইকারি বাজারে পাঠানো হবে।

ফিশারিঘাটের মাছ ব্যবসায়ী, ট্রলার মালিক মো. সরোয়ার বাংলানিউজকে জানান, এ ঘাটে ছোট ট্রলারগুলো ভিড়ছে। এরা উপকূলের কাছাকাছি মাছ ধরে। বড় ট্রলারগুলো সদরঘাট কর্ণফুলী ঘাটের মাঝ নদীতে ভিড়ছে। সেই ট্রলারগুলো গভীর সাগরে মাছ ধরে। তাদের আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকায় সাগরের কোনো এলাকায় বেশি মাছ থাকে তা তারা বুঝতে পেরে মেশিনে জাল ফেলে টেনে আনে। তাই তাদের জালে বড় মাছের সঙ্গে জাটকাও ধরা পড়ে।

মৌসুমের এ সময়ে ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় সাগরে মাছ ধরার ট্রলারগুলোতে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টিও বেশি যাতে জেলেরা জাটকা ধরে বাজারজাত করতে না পারে। সম্প্রতি এফভি সীমান্ত-১ নামক একটি ট্রলার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৬ টন জাটকা জব্দ করে জরিমানাও আদায় করেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১০২০ ঘণ্টা, এপ্রিল ১২, ২০১৮

ইউকেডি/টিসি

খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সহোদরের মৃত্যু
‘আমার আত্মবিশ্বাস আছে, কারো লেখা পড়ে শিখতে হবে না’  
রশিদের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বাংলাদেশের হার
অস্ত্রধারী সেই ছাত্রলীগ নেতা আটক
‘নাতির জন্য বারবার মোবাইলে পিন কোড পরিবর্তন করতে হয়’
দলীয় ১শ’ রানে মিরাজের বিদায়
রহস্য গল্পকার স্টিফেন কিং-এর জন্ম
রশিদের ঘূর্ণিতে বিপর্যয়ে বাংলাদেশ
আশা জাগিয়ে ফিরে গেলেন সাকিব
চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১১