ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশি জাহাজ নিয়ে উদ্বিগ্ন বন্দর

মো.মহিউদ্দিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩০৫ ঘণ্টা, অক্টোবর ৩, ২০১৭
ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশি জাহাজ নিয়ে উদ্বিগ্ন বন্দর ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম: বিশ্বের বিভিন্ন বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে ত্রুটিপূর্ণ জাহাজ ভিড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে। ঘটছে দুর্ঘটনাও। এতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দর চ্যানেল। এসব দুর্ঘটনা বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

সম্প্রতি কয়েকটি দুর্ঘটনার পর উদ্বেগ জানিয়ে বড় ধরনের অঘটন রোধে বিদেশি জাহাজে পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল(সিএসসি) বা ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে বলেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কয়েকটি দুর্ঘটনার পর দুই দফা নৌ-পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দিয়েছে বন্দর।

চিঠির প্রেক্ষিতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন নৌ পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম।

এদিকে নির্দেশনা পেয়ে  নৌ বাণিজ্য অফিস বলছে, পিএসসি করা জাহাজের তথ্য ডিজি শিপিং দফতরের মাধ্যমেই ভারতের গোয়ায় ইন্ডিয়ান ওশান মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (আইওএমওইউ) এর প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। বিষয়টি ডিজি শিপিংকে অবহিত না করাকে তথ্য শূন্যতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

এছাড়া বিশ্বের যে কোন বন্দরে পিএসসি হলে আইএমও এবং আইওএমওইউ নীতিমালা অনুযায়ী ৬ মাস পর্যন্ত পিএসসি করা যায় না। তবে ত্রুটির বিষয়ে জানালে নৌ বাণিজ্য অফিস পরিদর্শন করতে পারে।

জানতে চাইলে বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম সম্প্রতি বাংলানিউজকে বলেন, বেশ কয়েকটি ত্রুটিপূর্ণ জাহাজে দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই বিদেশি জাহাজে নজরদারি বাড়াতে নৌ পরিবহন অধিদফতরকে অবহিত করেছি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হয়নি। এখন আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবো।

জানতে চাইলে নৌ পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, বন্দরের চিঠি পাওয়ার পর ত্রুটিপূর্ণ জাহাজে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শতভাগ পিএসসি করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জাহাজে পিএসসি করলে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। বন্দরে আসা জাহাজটি অন্য কোন পোর্টে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে এমন তথ্য পেলে নজরদারি বাড়ানো যায়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ মে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী এমভি মেগনাম ফোর্স জাহাজটি পণ্য খালাস শেষে বন্দরের ৬ নম্বর জেটি থেকে বের হওয়ার সময় বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জেটির সামনে সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। জাহাজের বামদিকের নোঙ্গর ছেড়েও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। ডানদিকের নোঙ্গর ছাড়া হলেও সম্পূর্ণ ক্যাবেল বিয়ার ছেড়ে জাহাজটি নোঙ্গর করলেও ডানদিকে অবস্থানরত বানৌজা প্রত্যয়ে আঘাত হানে।

পরে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান প্রান্তিক মেরিন অ্যান্ড স্যালভেজের টাগ ও ক্র্যাফট দিয়ে টোয়িং করে জাহাজটিকে কাফকো জেটিতে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া গত ১৪ আগস্ট বিব্রাল্টার পতাকাবাহী এমভি কেমেলা ৮ নম্বর জেটিতে প্রবেশের সময় নৌ বাহিনীর জেটির সামনে বিকল হয়ে যায়। পরে টোয়িং করে জেটিতে আনা হয়।

জাহাজটির চলাচল উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করা হয়েছে বন্দর থেকে দেওয়া চিঠিতে। সেখানে বলা হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাহাজ সাময়িক বিকল হলেও কারিগরী সহায়তায় সচল করা যায়। কিন্তু এ জাহাজটি বিকলের পর জরুরি জেনারেটরও চালু হয়নি।

সমুদ্রগামী জাহাজে এ ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বন্দরে আসা বাণিজ্যিক জাহাজে ত্রুটির কারণে সংগঠিত দুর্ঘটনা গ্লোবাল শিপিং সেক্টরে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নৌ-বাণিজ্য অফিসের প্রিন্সিপাল অফিসার শফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, যে কোন বন্দরে জাহাজের পিএসসি হলে ৬ মাস পর্যন্ত পরিদর্শন করা যায় না। তবে ত্রুটি দেখে জাহাজের পাইলট বা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানালে আমরা পরিদর্শনে যেতে পারি। কারণ কোন জাহাজে সমস্যা সেটা তো আমরা জানি না।

বাংলাদেশ সময়: ১৯০৫ঘণ্টা, অক্টোবর ০৩, ২০১৭

এমইউ/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa