ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড: নৌমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭৩৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড: নৌমন্ত্রী পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠান

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। শুক্রবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নৌমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি নাম। কিন্তু এ বন্দর যে একটি দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড, এটি আমাদের উপলব্ধি করার বিষয়।

এটি জমাট বেঁধে ছিল, রক্ত সঞ্চালন হচ্ছিল না। শেখ হাসিনা সেখানে অপারেশন করেছেন, যেমন করে হার্টের অপারেশন করে, বাইপাস করে, রিং বসিয়ে দিয়ে সচল করতে হয়, তেমনি সেই হৃদপিণ্ডকে সচল করে দিয়েছেন। এটিই হলো একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়কের কাজ। তিনি প্রমাণ করেছেন রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি দক্ষ ও অভিজ্ঞ। একজন দক্ষ চালকের হাতে কিন্তু দুর্ঘটনা কম ঘটে। অদক্ষ অশিক্ষিত চালকের হাতে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। রাষ্ট্র যদি দক্ষ পরিচালকের হাতে পরিচালিত হয় সেই রাষ্ট্রে দুর্ঘটনা ঘটে না।

মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে। নির্বাচনে এসে প্রমাণ করেন জনগণ আপনাদের পক্ষে। কিন্তু বিএনপি জামায়াতের পেট্রল বোমা, নিপীড়ন-নির্যাতনের কারণে জনগণ শেখ হাসিনার পক্ষে।

দেশে ২৪ হাজার কিলোমিটার নদীপথ ছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তিন বছর সাত মাস ক্ষমতায় ছিলেন। এর মধ্যে তিনি সাতটি ড্রেজার ক্রয় করেছিলেন। এরপর নদী খননের কোনো ব্যবস্থা কোনো সরকার করেননি। একটি ড্রেজার কিনেনি। নদী খনন হয়নি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার নদী খননে গুরুত্ব দিলেন। ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৪টি ড্রেজার নির্মাণ করলেন। এ পর্যন্ত আমরা ৭০টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছি প্রাইভেট সেক্টরে। মোংলা বন্দর নাব্যতা হারিয়ে জেটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০১২ সালে প্রথম আমরা মোংলার জন্য ড্রেজার সংগ্রহ করি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন। পাঁচ বছর আগে সংসদে বলেছিলাম, বাংলাদেশের মাহাথির মোহাম্মদ শেখ হাসিনা। তা আজ প্রমাণিত হয়েছে। এ বন্দরে সিটিএমএস, ভিটিএমআইএস আমরা চালু করেছি। অ্যাম্বুল্যান্স শিপ, বে ক্লিনার আমরা করেছি। ৩৪ বছর মাটির নিচে চাপা থাকা স্লিপওয়ে আমরা কাজে লাগিয়েছি। মোবাইল স্ক্যানিং ভ্যাহিকেল আমরা সংগ্রহ করেছি। কর্ণফুলী ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ নতুনভাবে শুরু করেছি। এনসিটি আমরা করেছি।     

নৌমন্ত্রী বলেন, সরকারের আগামী মেয়াদে চট্টগ্রাম বন্দরের সব কাজ, পরিকল্পনা ইনশাআল্লাহ সম্পন্ন করতে পারব। আমরা যখন ক্ষমতায় আসি লয়েডস লিস্টে তখন চট্টগ্রাম বন্দর ৯৮তম অবস্থানে ছিল। এখন ২৭ ধাপ এগিয়ে ৭১তম অবস্থানে এসেছে।     

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এমএ লতিফ, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান সরকার, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম।

এমএ লতিফ বলেন, বন্দরসংলগ্ন কর্তৃপক্ষের আবাসিক এলাকা কনটেইনার ইয়ার্ড করা হলে দেশের অর্থনীতিতে গতি আসবে। দেশের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে গাফিলতির জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে হবে।

তিনি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মন্তব্য করেন।

মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান সরকার বলেন, পিসিটির তিনটি কনটেইনার জেটি, একটি ডলফিন জেটি, ৪২০ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার, ছয় লেনের সড়কসহ অবকাঠামো নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা হবে।

তিনি আগামী ১৫ দিনের মধ্য কাজ শুরু করা হবে বলে জানান।

মাহবুবুল আলম বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এগোচ্ছে ১২০ মাইল গতিতে। বন্দরকে এগোতে হবে ১৩০ মাইল গতিতে। বর্তমানে বন্দরের প্রবলেম ব্যবসায়ীদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। দুটি গ্যান্ট্রি ক্রেন নষ্ট হওয়ায় ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও দুটি হায়ার করতে হবে। দেশের অর্থনীতির আকার ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিলে বে টার্মিনালের বিকল্প নেই। এটি হলে চট্টগ্রাম শহরের ওপর যানবাহনের চাপ কমবে। অফডক থাকায় ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে আছেন। তবে অফডক আরও বাড়াতে হবে।  

প্রকল্পের কনসালটেন্ট বুয়েটের অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী অনুষ্ঠানে জানান, ড্রাইডক ও বোট ক্লাবের মাঝামাঝিতে পিসিটি হবে। এটি বিমানবন্দর সড়কের দুপাশে হবে। ৩০ একর জায়গা। রাস্তা বাদে ২৭ একর। বিমানবন্দর এলাকা হওয়ায় ৩৮-৪৫ মিটার উঁচু স্থাপনা করা যাবে। আমরা ৪০ মিটারের বেশি উঁচু স্থাপনা আমরা রাখব না। ২০০ মিটারের তিনটি জেটি হবে। এর পাশে একটি ডলফিন জেটি হবে। এ টার্মিনালে ১৯০ মিটার লম্বা, ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়বে। পিসিটিতে কনটেইনার সড়ক, রেল ও নৌপথে আনা-নেওয়া যাবে। এখানে কি গ্যান্ট্রি ক্রেন ব্যবহার করা যাবে। গিয়ার শিপ আসতে পারবে। বর্তমানে ডিটেইল ডিজাইনের কাজ চলছে।      

সভাপতিত্ব করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল। তিনি বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আরও জেটি নির্মাণ, ইয়ার্ডের পরিমাণ বাড়ানো এবং প্রচুর ইক্যুইপমেন্ট কেনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। অটোমেশন নিয়ে আসার চেষ্টা করছি সর্বক্ষেত্রে। জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম, বহির্নোঙরে অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনতে চেষ্টা করছি। কিছু দিন আগেও ২ দশমিক ৯ ছিল টার্ন অ্যারাউন্ট টাইম। আগামী এক বছরে দুই দিনের কাছাকাছি নেমে আসবে। বে টার্মিনালের প্রথম ধাপের কাজ ২০২১ সালে শুরু করতে চাই। পুরো প্রকল্পের জন্য ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ধরা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। ডিপিপি প্রণয়ন করছি। জমি অধিগ্রহণ শেষ পর্যায়ে আছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ে আছে। লালদিয়া মাল্টিপারপাস টার্মিনালের জন্য মার্চ-এপ্রিলে চুক্তি সই করতে পারব।  

কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তি স্থাপন করলেন নৌমন্ত্রী

বাংলাদেশ সময়: ১২২৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৭

এআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa