ঢাকা, রবিবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৮ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

পশুর হাটে মালার ‘রমরমা’ বিকিকিনি

সুবল বড়ুয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮০০ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭
পশুর হাটে মালার ‘রমরমা’ বিকিকিনি পশুর হাটে মালার ‘রমরমা’ বিকিকিনি

চট্টগ্রাম: কোরবানি ঈদের বাকি আর মাত্র একদিন। ফলে শেষ মুহূর্তে এসে জমে উঠেছে নগরীর পশুর হাটগুলোও। ক্রেতারা আসছেন, দরদাম করে পছন্দের পশুটি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পশু নিয়ে যাওয়ার সময় একবার হলেও ঢুঁ মারছেন মালার দোকানে। কোরবানির পশুকে সাজাতে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন রংবেরংয়ের মালা।

ফলে পশুর হাটের পাশাপাশি রমরমা বিকিকিনি চলছে এখন মালার দোকানগুলোতেও।   নগরীর বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে মালার দোকানগুলোতে দেখা গেছে এমন চিত্র।

নগরীর বিবিরহাট পশু হাটের মালা বেপারী মোহাম্মদ আলী বাংলানিউজকে বলেন, গরু-ছাগল যত বিক্রি হবে, মালার বিকিকিনিও তত বাড়বে। কোরবান আসলেই এসব মালা আমরা কুমিল্লা থেকে নিয়ে এসে বিভিন্ন পশুর হাটে বিক্রি করি।

তিনি বলেন, তিন বছর ধরে কোরবান আসলেই পশুর হাটে মালা বিক্রি করছি। বিভিন্ন রংয়ের কাপড়ে বানানো মালাগুলো আমরা কুমিল্লায় আগে থেকে অর্ডার দিয়ে রাখি। অর্ডার অনুযায়ী এবার ২ রকমের কারুকাজে হাজারখানেক মালা বিক্রি করেছি। একটি ২০ থেকে ৩০ টাকায় এবং অন্যটি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করছি।

‘শুধু বিবিরহাট নয়, সাগরিকা পশুর হাট, বাকলিয়া এক কিলোমিটার এলাকার পশুর হাট এবং মইজ্জারটেক পশুর হাটে গিয়েও মালা বিক্রি করছি। সকাল ১০টা থেকে বের হয়ে রাত ২টা পর্যন্ত পশুর হাটে ঘুরে ঘুরে এসব মালা বিক্রি করছি। ’

‘অনেকে গরুবাজারে এসে গরু না কেনার আগে মালা কিনে নিয়ে হাতে রেখে দেয়। আবার অনেকে গরু কেনার পর মালা কিনে নেয়। ’ যোগ করেন এই মালা বেপারী

নগরীর পাহাড়তলীর পাঞ্জাবি লেইনে মোহাম্মদ আলীর বাসা হলেও গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গুণবতী গ্রামে।  দীর্ঘসময় রেলওয়ে ওয়ার্কশপে চাকরির পর ২০১৪ সালে তিনি অবসরে যান। ওই বছর থেকেই কোরবানের ঈদ আসলেই গরুর মালা বিক্রি করেন।

শুধু মোহাম্মদ আলী নয়, এরূপ আরও কয়েকজন মালা বেপারী ঘুরে ঘুরে এসব মালা বিক্রি করছেন। ক্রেতারাও মালা কিনে নিয়ে গরুর শিং ও ঘাঁড়ে সাজিয়ে উৎফুল্লচিত্তে বাসায় ফিরছে।

গরুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি করে বাঁধা গরুর পাশ দিয়ে মালা বেপারীরা হেঁটে যেতেই ক্রেতারা দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন পচ্ছন্দের মালাটি। অনেকে গরু কেনার আগেই মালা কিনে নিয়ে পশুর হাটে ঘুরছে। আবার অনেক উৎসুক শিশুরাও এসব রংবেরং এর মালা কিনে নিয়ে বাসায় ফিরছে।

চান্দগাঁও এলাকা থেকে আসা ইমাম উদ্দিন নামে এক ক্রেতা বাংলানিউজকে জানান, কোরবানির জন্য এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনলাম। গরুর শিং ও চোটের জন্য ২০০ টাকায় ৪টি মালা কিনলাম। মালা পড়িয়ে গরুকে বাসায় নিয়ে ফিরবো।   

ফরহাদ নামে আরেক মালা বেপারী জানান, কোরবানির ঈদের আগের দিন বেশি মালা বিক্রি হয়। কেননা, স্থানীয় ক্রেতারা ওইদিনই বেশি গরু কিনেন। প্রায় ৪ হাজার মালা কিনে বিক্রির জন্য রেখেছি। ইতিমধ্যে ৫ শতাধিক মালা বিক্রি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৪০১ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭

এসবি/আইএসএ/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa