হুমায়ূন আহমেদের ‘অনিল বাগচীর একদিন’

কথা রাখেননি চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে ‘অনিল বাগচীর একদিন’ নির্মাণের আগে দেওয়া একটি শর্ত চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম এখনো মানেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্ত্রী মুনিরা মোরশেদ মুননি।

চট্টগ্রাম: নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে ‘অনিল বাগচীর একদিন’ নির্মাণের আগে দেওয়া একটি শর্ত চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম এখনো মানেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্ত্রী মুনিরা মোরশেদ মুননি।

শুক্রবার থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে (টিআইসি) ‘অনিল বাগচীর একদিন’ চলচ্চিত্রের পাঁচ দিনের প্রদর্শনীর শুরুতে দর্শকদের তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

‘অনিল বাগচীর একদিন’ চলচ্চিত্রের প্রযোজনা নিয়ন্ত্রক মুননি বলেন, মোরশেদের এক অনুজ চলচ্চিত্রকার আরেফিন একদিন আমাকে একটি গল্পের বই দিল। আমি পড়লাম। তারপর আরেফিনের সঙ্গে কথা বলছি। এ সময় পাশে ছিলেন মোরশেদ। আরেফিন জানতে চাইল, কেমন লেগেছে বইটি। আমি বললাম, গল্পের ওই জায়গায় আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। তখন আরেফিনও বলল, সেও ওই ‍জায়গায় এসে কেঁদেছিল এবং এ গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র বানাবে। তখনি মোরশেদ আরেফিনকে বলল, চলচ্চিত্রটি নিজে বানাতে চায়।

আরেফিন রাজি হলো, বলল ‘আপনি আমার চেয়ে ভালো বানাবেন।’ তবে একটি শর্ত দিয়েছিল। বলল, তাহলে মোরশেদুল ইসলামকে সিগারেট ছেড়ে দিতে হবে। শর্ত মেনে নেন মোরশেদ। কিন্তু এখনো সেই কথা রাখেননি!

স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুললেও চট্টগ্রামের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের ধন্যবাদ দিতে ভুললেন না মুননি। বললেন, ‘আমি গুণী মানুষদের মতো কথা বলতে পারি না। আমি ছবি তুলি। ক্যামেরার পেছনে থাকি। শীত, বৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও এত দর্শক ছবি দেখতে এসেছেন এতে আমি অভিভূত। এ ভালোবাসা অন্যরকম।’

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্রের পরিচালক শৈবাল চৌধুরী এ সময় বলেন, ‘মোরশেদ ভাই হার্টের রোগী। আশাকরি, তিনি এবার কথা রাখবেন। ধূমপান ছেড়ে দেবেন।’

চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম বলেন, মেঘলা আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের প্রথম প্রদর্শনীতে দর্শক কিছুটা কম হলেও যারা এসেছেন তারা সিরিয়াস দর্শক। ছবিটি আপনাদের নিরাশ করবে না। এটি গতানুগতিক মুক্তিযুদ্ধের ছবি নয়। মুক্তিযুদ্ধকে ভিন্ন প্রেক্ষিতে তুলে ধরা হয়েছে। মানবতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, মুনিরা মোরশেদ মুননি এ ছবিতে স্মোথলি কাজ করতে যা যা করা দরকার সবই করেছে। শ্যুটিংয়ের সব ঝামেলা সামলেছে। চলচ্চিত্র কেন্দ্র আমার প্রতিটি ছবিরই প্রদর্শনী করেছে চট্টগ্রামে। তাদের ধন্যবাদ।

শৈবাল চৌধুরী বলেন, ১৯৮৩ সালে মোরশেদুল ইসলামের প্রথম ছবি ‘আগামী’র প্রদর্শনী চট্টগ্রামে আমরাই করেছিলাম। এরপর তার প্রায় সব ছবিই আমরা প্রদর্শন করেছি। বহুগুণের অধিকারী মোরশেদ ভাইকে আমরা পেয়েছিলাম একজন চলচ্চিত্র কর্মী হিসেবে। আজ তিনি বটবৃক্ষ। আগামী দিনে তিনি আরও নতুন নতুন চলচ্চিত্র উপহার দেবেন এ আশারাখি।

মোরশেদুল ইসলাম ও মুননিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান চলচ্চিত্র কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস আহমদ, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক লোকপ্রিয় বড়ুয়া।

চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্র ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল ক্রিয়েশন্স লিমিটেডের উদ্যোগে টিআইসিতে প্রতিদিন চারটি প্রদর্শনী হবে রবি নিবেদিত ‘অনিল বাগচীরি একদিন’র। বেলা ১১টা, বিকাল ৩টা, ৫টা ও সন্ধ্যা ৭টা। জনপ্রতি টিকেটের মূল্য ৫০ টাকা।

** চট্টগ্রামে অনিল বাগচীর পাঁচদিন
** কেনো দেখবেন অনিল বাগচীর একদিন! 

বাংলাদেশ সময়: ১২৫৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৫
এআর/টিসি

জলঢাকায় উপজেলা নির্বাচনে বৈধতা ফিরে পেলেন বাহাদুর 
‘বিকশিত হোক শত ভাবনা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
গাপটিলকে থামালেন সাইফ 
খুলনায় পচা মিষ্টি বিক্রির দায়ে বনফুলকে জরিমানা 
ঘরের মাঠে লিভারপুলের হোঁচট


কানাডায় আগুনে পুড়ে ৭ সিরিয়ান শরণার্থী শিশুর মৃত্যু
বার্সাকে জিততে দিল না লিঁও
শেষ ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
রাবিতে ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন শুরু ২৮ ফেব্রুয়ারি  
মান হারিয়ে আবেদন হারাচ্ছে লিটল ম্যাগ