ইডিইউকে ‘অক্সফোর্ড’ বানানোর স্বপ্ন সাঈদ আল নোমানের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: সোহেল সরওয়ার/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বনেদি পরিবারে জন্ম। পড়ালেখা বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড, আমেরিকার মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে। বর্তমানে লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্সে পিএইচডি করছেন। যুক্তরাজ্যেই থাকার কথা। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই পড়ে আছেন দেশে।

চট্টগ্রাম: বনেদি পরিবারে জন্ম। পড়ালেখা বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড, আমেরিকার মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে। বর্তমানে লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্সে পিএইচডি করছেন। যুক্তরাজ্যেই থাকার কথা। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই পড়ে আছেন দেশে। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নিজের গড়া বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে।  বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা।

বেসরকারি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির তরুণ উদ্যোক্তা ও ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান। সম্প্রতি  এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে নিজের স্বপ্নের কথা বলতে  বাংলানিউজের মুখোমুখি হন তিনি।

সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ই আমার ধ্যান-জ্ঞান।  ইডিইউর সুনাম দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে  সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে—এই স্বপ্ন নিয়েই কাজ করছি।’

‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্থান হিসেবে চট্টগ্রামকে কেন বেছে নেয়া হল’—এ-প্রশ্ন করা হলে  সাঈদ বলেন, চট্টগ্রামেই আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা। ঢাকায় অনেকগুলো ভালো বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না।  নিজের অনুভূতিতে সে জায়গাটাই মনে হয়েছে দায়, সে কারণেই চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

“বৈষয়িক কোনো চিন্তা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মাথায় আসেনি। সে ধরনের কোনো চিন্তা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়টা ঢাকায়ই প্রতিষ্ঠা করা হতো।”

সাঈদ আল নোমানের কাছে প্রশ্ন ছিল: ‘অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইডিইউর তফাৎটা কোন জায়গায়?’ জবাবে তিনি বলেন: আমরা শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে শক্তিশালী বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করি। আমাদের কোনো ক্লাসে শিক্ষার্থী ৩০-৩৫ জনের বেশি নয়; এ-কারণে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগটা অনেক বেশি। অন্যদিকে, শিক্ষকও বাছাই করা।  তাদের নেয়া হয় যাদের ভালো রেজাল্ট, ভালো গবেষণা এবং ভালো বলার ক্ষমতা আছে।

“আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স সাড়ে ছ’বছর পার হতে চলছে। এ সময়ে আমরা চাইলে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারতাম, কিন্তু তা করিনি।  আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার দিকেই সবচেয়ে বেশি নজর ছিল।”

তিনি জানান, এ পর্যন্ত ইস্ট ডেল্টা থেকে যারাই বের হয়েছেন, সকলেই ভালো পজিশনে আছেন। দেশে যারা আছেন তারা বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে  কাজ করছেন। বিদেশেও একই ধরনের চাকুরির পাশাপাশি কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও জড়িত।

সাঈদ আল নোমান বলেন, প্রথম দিকে আমাদের খুব কষ্ট হত ভালো মানের শিক্ষক খুঁজে বের করা।  এটা ঠিক যে, এখনো হয়। তবে আমি বিদেশে লেখাপড়া করেছি। আমার বিদেশে পড়ালেখার সুবাদে যেসব দেশের বা ইউনিভার্সিটির সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল, আমি সেটাকে কাজে লাগিয়েছি। এখন ওসব দেশের নামকরা শিক্ষকেরাও আমাদের এখানে ক্লাস নিচ্ছেন।  সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তারা আসছেন। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনেক বড় পাওনা।

“যেহেতু আমি অক্সফোর্ডের ছাত্র ছিলাম। সেই পরিচয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইস্ট ডেল্টাকে বই-জার্নাল, নানান তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এরই মধ্যে অক্সফোর্ডের সেন্ট ক্রস কলেজের গ্রন্থগারিক শেইলা অলকর্ক এসে কিছু বই তুলে দিয়েছেন, যেগুলো দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে একটি অক্সফোর্ড কর্নার চালু হয়েছে।  এটাও কম পাওয়া নয়।”

তিনি জানান, সারাদেশে সাপ্লাই চেন ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ইস্ট ডেল্টায় প্রথম এমবিএ কোর্স চালু হয়েছে। শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম অনলাইন বেজড। কোন শিক্ষার্থী ক্লাসে এসেছে, কোন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন সবকিছুই সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হয়।

দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় এনে বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশন জট মুক্ত রাখতে ভিডিও লেকচারের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

“প্রতিটা কোর্সের জন্য সময় নির্ধারিত থাকে ৪৫ ঘণ্টা, তিন-চার ঘণ্টা এক ক্লাশে চলে যায়। এর মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তো আছেই। এ অবস্থায় যাতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা হরতালে শিক্ষকদের ভিডিও লেকচারগুলো শিক্ষার্থীদের দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি, যাতে তারা বাসায় গিয়ে সেগুলো দেখতে পারে। তাদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকার অর্থেই গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ‘কলোকিও’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ই-লাইব্রেরির মাধ্যমে বিশ্বের খ্যাতনা‍মা সব জার্নাল পড়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সাঈদ আল নোমান।

তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহেই কলোকিও’র আয়োজনে সেমিনার ও প্রবন্ধ উপস্থাপন হচ্ছে। আর ই-লাইব্রেরি ডাটাবেজ ব্যবহার করে বিশ্বের যে কোন জার্নালে প্রবেশ করতে পারছে।  ২০০৯ থেকে এ ডাটাবেজের ব্যবহার চলছে।

আলোচনায় ইডিইউ’র সাম্প্রতিক বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন সাঈদ। তিনি বলেন, সম্প্রতি আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় আমরা রানার্স আপ হয়েছি। সোশাল বিজনেস প্রজেক্ট-এ প্রতিবারই পুরষ্কৃত হওয়া নিঃসন্দেহে এসব আমাদের জন্য বড় অর্জন।

সাঈদ আল নোমান বলেন, ভবিষ্যতে তারাই নেতৃত্ব দেবেন যাদের উদ্ভাবনী শক্তি আছে। আজকে যা হয়ে গেছে তা নয়, নিত্য নতুনের জয়জয়কার চলছে। উদ্ভাবনের গতি অপ্রতিরোধ্য। এ গতিকে অব্যাহত রেখে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই সফলতা। তাই আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কার কি শক্তি আছে তা বের করে আনার চেষ্টা করি।

“এ প্রক্রিয়াটা সবক্ষেত্রেই খেয়াল করা উচিত। নেতৃত্বে বা কর্তৃত্বে যারা আছেন তাদের উচিত সবলটা বের করে আনা। দুর্বলতা বের কের হাস্য-পরিহাস করতে থাকলে দেশ পিছিয়ে যাবে।”

দেশের শিক্ষাব্যবস্থারও সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন তরুণ এ উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ।  তিনি বলেন, আমাদের সিলেবাসটাকে যুগোপযোগী করা দরকার। বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেখানে নিত্য নতুন সংস্করণ, প্রণয়নের যুগ চলছে, তখনও আমাদের বেশীরভাগ ক্ষেত্রে বিশ বছর আগের সিলেবাস নিয়ে পড়ে থাকতে হয়। এটা একটা চ্যালেঞ্জ।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হয় মন্তব্য করে এ সমস্যা নিরসনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কথার সূত্র ধরে আসে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের বিভিন্ন গতিবিধি, সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রসঙ্গ।  মাদকের বিস্তারের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন,ভবিষ্যত যখন অন্ধকার হয়, জীবন যখন অনিশ্চয়তায় পড়ে তখনই মূলত মাদকাসক্তির মতো সামাজিক সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে দাঁড়ায়। রাষ্ট্র যদি মানুষের এই অনিশ্চয়তা দূর করতে পারে, সমাজে যদি আইনের শাসন থাকে, সামাজিক ভিত যদি শক্ত হয়, তখন এ সমস্যাগুলো থাকবে না।

এসময় পরিবারের ভূমিকাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, পরিবার হচ্ছে যে কোনো ব্যক্তির জন্য ‘ফার্স্ট স্কুল’; বাবা-মা’ই প্রথম শিক্ষক। তবে, সুন্দর পরিবারের জন্যও অনুকূল পরিবেশ লাগে। সমাজের সবকিছুই একটা আরেকটার সঙ্গে জড়িত।

বাংলাদেশ সময়: ১১০৪ ঘণ্টা, নভেম্বর ২০, ২০১৪

Nagad
দেশের ৬৫ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠীই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে
ভারতের সঙ্গে পার্সেল ট্রেন চলাচল শুরু, এলো ৩৮৪ টন মরিচ
ঈদের সাতদিন আগে বেতন-বোনাস পরিশোধের দাবি
খুলনায় চিকিৎসা নিয়ে ছিনিমিনি চলবে না
অনুশীলনে ফিরতে টাইগাররা ফিট ও প্রস্তুত


পর্নোগ্রাফি আইনে শিক্ষিকার মামলায় সাবেক স্বামী গ্রেফতার
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর লজ্জা হওয়া উচিত: সাইফুল হক
লঞ্চডুবি: গ্রেফতার এড়াতে যেভাবে আত্মগোপনে ছিলেন বাসার
চলতি মাসেই অনলাইন নিউজপোর্টাল নিবন্ধন: তথ্যমন্ত্রী
নমুনার অভাবে করোনা পরীক্ষা বন্ধ সিভাসু ল্যাবে!