নিরাপত্তা হুমকিতে নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

600 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ, মাদক সেবিদের আড্ডা এবং সন্ত্রাসীদের আনাগোনায় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়েছে দেশের একমাত্র নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও হোস্টেল। যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম: বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ, মাদক সেবিদের আড্ডা এবং সন্ত্রাসীদের আনাগোনায় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়েছে দেশের একমাত্র নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও হোস্টেল। 

যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে নাবিক হোস্টেলে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গ্যাসের মিটার চুরির ঘটনাও ঘটেছে। মাদক সেবিদের ধরতে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, হোস্টেল গেইটে দায়িত্বরত কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা এবং হোস্টেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মনিটরিং এর অভাবে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না। এজন্য হোস্টেল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হোস্টেল গেইটে দায়িত্বরত কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছে না এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন নাবিক ও প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ পরিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম। তিনি হোস্টেল দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দায়িত্বরত কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে একটি নোটিশ জারি করেন তিনি।

এতে বলা হয়, নাবিক হোস্টেলের ১ নম্বর গেইট ও কাউন্টারে নিয়োজিত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন না বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বহিরাগত লোকজন হোস্টেল আঙ্গিনায় অনায়াসেই প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। বহিরাগত লোকজন দাফতরিক প্রয়োজনে হোস্টেল অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে চাইলে আগমণের কারণ, ঠিকানা এবং বিস্তারিত পরিচয় রেজিস্টারে লিখে রাখার নির্দেশ দেওয়া আছে।
 
যে কর্মচারীর দায়িত্ব পালনকালে বহিরাগত লোক হোস্টেল আঙ্গিনায় পাওয়া যাবে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু উপ-পরিচালকের ওই নির্দেশনা কাগজেই সীমাবদ্ধ। গেইটে দায়িত্বরত কর্মচারীরা রেজিস্টারে পরিচয় লিপিবদ্ধ তো দুরের কথা বহিরাগত লোকদের প্রবেশে বাধাও দিচ্ছে না।

চলতি মাসে এক সপ্তাহ সরেজমিন পরিদর্শনে কর্মচারীদের দায়িত্ব অবহেলার এমন চিত্রই দেখা গেছে।

তবে এ ধরণের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন নাবিক ও প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক নুরুল আলম নিজামি। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এ ধরণের অভিযোগ সঠিক নয়। হোস্টেলে চুরি হলে ছাত্ররাই মিছিল করতো। এমন কোন সমস্যা আমি দেখছি না।

এরপরও হোস্টেল পরিদর্শনে যাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সচেতন আছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।

অভিযোগ রয়েছে, হোস্টেল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক নজরুল ইসলামের গাফিলতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই হোস্টেল এবং নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হুমকির মুখে রয়েছে।

হোস্টেল ভবনে বেশ কয়েকবার গিয়েও ওই কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি এরকম প্রশ্নে নাবিক ও প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক নুরুল আলম নিজামি বলেন, বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো।

অবনতির কারণ দ্বৈত প্রশাসন:

নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধীনে ছয় মাসের কোর্স সম্পন্ন করলেও এসব ছাত্রদের হোস্টেল পরিচালনা করছে নাবিক ও প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ পরিদপ্তর।

দ্বৈত প্রশাসনের কারণেই এ ধরণের সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, উভয় প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করা হলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। কমে আসবে অনিয়ম-দুর্নীতি।

হোস্টেল ও নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র একীভূত করতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হলেও এখনো পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১০৫০ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৯, ২০১৪

Nagad
‘বিএনপি আমলে সাহেদ হাওয়া ভবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন’
করোনা: ঢাকাসহ চার জেলায় পশুর হাট না বসানোর প্রস্তাব
নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদার জন্ম
ঢাকার পথে সাহারা খাতুনের মরদেহ
ভিয়েতনামে মানবপাচারের ঘটনায় আটক তিনজন রিমান্ডে


পল্লবীতে ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে অভিযান, আটক ৩
রাজশাহীতে বাসচাপায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ২
‘আদিম’ মুক্তির আগেই নির্মিত হচ্ছে সিক্যুয়েল
লকডাউনে ভিডিওচিত্র বানিয়ে খুদে শিক্ষার্থী প্রিয়তির রোবট জয়
সিলেটে করোনার নমুনা জট নেই